৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, শুক্রবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

ফেসবুক আইডি হ্যাক ও ব্লক হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

  • আপনার ফেসবুক আইডি, পেইজ, গ্রুপে আপনি লাইক, কমেন্ট, ম্যাসেজিং ইত্যাদি করতে পারছেন না অথবা হয়ত পোস্ট দিতে সমস্যা হচ্ছে, এবার অনেক কষ্ট করে আপনি পোস্ট দিলেন ‘আইডিতে সমস্যা হচ্ছে, স্টিকার কমেন্ট প্লিজ!’

    আসলে আপনি ফেসবুকে অতিরিক্ত লাইক, কমেন্ট বা নিম্নোক্ত অপরাধের কারনে আপনি ব্লকে পড়েছেন। অথবা হয়ত ফেসবুক কতৃপক্ষ আপনার আইডি, পেইজ, গ্রুপ বন্ধ করে দিয়েছে আপনি কর্তৃক ফেসবুকের কমিউনিটি স্টান্ডার্ট না মানার কারনে। আপনি আরেকটি আইডি, পেইজ, গ্রুপ খুলে পোস্ট দিচ্ছেন আমার আগের আইডি, পেইজ বা গ্রুপটি হ্যাকড হয়েছে!

    হ্যা, হ্যাকিং হতে পারে যদি আপনি ফেসবুকের এবাউটে আপনার সঠিক তথ্যগুলো পূরণ না করেন। চিঠি সঠিক ঠিকানায় পৌছানোর জন্য যেমন প্রাপকের ঠিকানাটা পূর্ণাঙ্গ লিখতে হয়, ঠিক তেমন আইডি যাতে অন্য কেউ নিয়ে নিতে না পারে তার জন্য আপনার সকল তথ্য গুলো ফেসবুকের about এ পূরন করে রাখতে হবে। নিজের ছবি অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে প্রফাইল পিকচারে। আইডির ভিতরে নিজের আরো কয়েকটি ছবি ও রাখতে হবে আই হ্যাকিং থেকে বাঁচানোর জন্য। আর একটা কথা বলা খুবই দরকার। তা হল স্টিকার কমেন্টে কখনো আইডির ব্লক খোলে না!

    আসুন কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক কেন আপনার আইডি গায়েব হয়, লাইক,কমেন্ট,ম্যাসেজ দিতে পারেন না।

    # ফেসবুকের আইডি হ্যাক, ব্লক, লাইক, কমেন্ট, ম্যাসেজিং না করতে পারার কারন সমুহঃ

    # ফেসবুকে নগ্নতা ও যৌনতাঃ
    সম্পর্কিত ভিডিও, ছবি বা লেখাকে অনুৎসাহিত করে। এর কারণ হিসাবে ফেসবুক উল্লেখ করেছে কিছু মানুষ এই বিষয়ে সংবেদনশীল হতে পারে। আর আমাদের সমাজে এ ধরণের ছবি, ভিডিও বা লেখা থেকে অনেকে যৌন ক্রিয়ায় অতি উৎসাহী হয়ে ধর্ষণের মত মারাত্মক অপরাধ, পরকীয়া ইত্যাদিতে আসক্ত, শিশু ধর্ষণের মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ জন্য এমন কিছু কারোর ব্যক্তিগত আইডি, পেইজ, গ্রুপ থেকে পোস্ট করলে ফেসবুকে ব্লক হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে।

    তবে হ্যা, শিক্ষা মূলক, হাস্যকর, ব্যাঙ্গাত্মক, পেইন্টিং ও যে সমস্ত মায়েরা বুকের দুধ খাওয়ান, যাদেরকে ফস্টার মাদার বলে অন্যের বা নিজের শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায়ে লালন পালন করেন তাদের কিছু এ জাতীয় ছবি বা ভিডিও ও পোস্ট-মাস্টেকটমি দাগের ছবি তারা অনুমতি দিয়ে থাকে। আর শিল্পময় কিছু ছবি যথা ভাস্কর্য জাতীয় নগ্ন ছবি-ভিডিও তারা অনুমতি দেয়।

    # হিংস্রতা প্রদর্শনঃ
    এটি ছবি, ভিডিও বা লেখার মাধ্যমে হতে পারে। যাকে ফেসবুকের ভাষায় গ্রাফিকস ভায়োলেন্স বলে। যে সকল ছবি, ভিডিও বা লেখা মানুষকে সহিংসতার দিকে আগ্রহী করে অথবা অন্যের জন্য কষ্ট, অপমানের কারণ হয় সে ধরনের গ্রাফিকস ফেসবুক সরিয়ে দেয়। কেউ রিপোর্ট করলে ব্লক ও দিয়ে থাকে।
    মানবাধিকার লংঘন, সসন্ত্রাসবাদের চিত্র ও ফেসবুক সরিয়ে দেয়।

    # এখন জেনে নেওয়া যাক কোন ধরনের গ্রাফিকস ভায়োলেন্স পোস্ট করতে ফেসবুক নিষেধ করেছেঃ

    • চিকিৎসা বিষয়ক নয় এমন নন মেডিকেল সেটিংস।
    • বাস্তব মৃত্যু দেহের ভিডিও। এ বিষয়ে অনেকের সংবেদনশীলতা থাকতে পারে এ কারণেই।
    • সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এমন কিছু।
    • ত্বকের নিচের অংশ যথা কাঁটা-ফাঁটা।
    • আংশিক পঁচে যাওয়া দেহ।
    • মানুষ পোড়ানো।
    • নরমাংসবাদের শিকার।
    • লাথি, চড়, কামড়ানো (প্রাপ্তবয়স্ক প্রানি বা মানুষের দ্বারা) মারধর করা প্রাপ্ত বয়স্কদের দ্বারা।
    • শ্বাস রোধ করা।
    • ডুবে যাওয়ার দৃশ্য।
    • জোর করে ধুমপান করানো।
    এমন কিছু ফেসবুক পোস্ট দিতে নিষেধ করে। একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবেন, কুরবানির পশু জবাইয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিলে যদি রক্ত দেখা যায়, সেই ছবিটি ফেসবুক কাভার করে বা ঢেকে দেয়। আর অনলাইন পত্রিকা গুলোতে মানুষ ডুবে যাওয়ার খবরগুলো, হত্যার ছবিগুলো আর্ট করা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

    # হয়রানি বা harassment:
    ফেসবুকে কাউকে হয়রানি বা হ্যারাসমেন্ট মূলক কোন মন্তব্য ছবি পোস্ট দিলে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিপন্ন করে পোস্ট দিলে। ফেসবুক তাকে ব্লক দিতে পারে। একই নামে আইডি খুলে বা ক্লোন করলে ফেসবুকে রিপোর্ট করলে বা কারোর পোস্টের ছবি ব্যবহার করলে তাকে ফেসবুক ব্লক বা আইডি বন্ধ ও করে দিতে পারে। এটাকে সাইবার বুলিং বলে, যা বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি আইনেও মারাত্মক অপরাধ।

    # ভুয়া খবর পোস্টঃ
    আজগুবি কোন খবর যার কোন ভিত্তি নেই। যেমন এ পর্যন্ত কয়েকবার চলচিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান এর মৃত্যুর খবর বের হয়েছে। এমন কোন নিউজ কেউ দিলে আপনি তাকে রিপোর্ট করলে সে ব্লকে চলে যাবেই। তারপর সে পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করবে,”আইডিতে সমস্যা হচ্ছে, স্টিকার কমেন্ট প্লিজ।” স্টিকার কমেন্টে জীবনেও আইডির ব্লক উঠে যায় না। এটা নিয়ে অন্য একটি পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করব, “কিভাবে ফেসবুক আইডির ব্লক তুলতে হয়?” এমন।

    # ফেক একাউন্ট ও পেইজঃ
    কেউ কারোর বেঁচে থাকা আইডি, পেইজ হ্যাক করে, কপি করে যথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রিটি, সেনাবাহিনী সংক্রান্ত কিছু নিজের করে নিয়ে প্রচার করে তবে রিপোর্ট না করলেই তার আইডি হারিয়ে যাবে।

    # সন্ত্রাসী কার্যক্রমঃ
    সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রচারণা, ঘৃণা প্রচার, গণহত্যার চেষ্টা প্রচার, হিউমান ট্রাফিকিং বামানব পাচার, অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপ এর প্রচার বা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারকারী আইডি ফেসবুক বন্ধ করে দেয়। কোন দেশ চাইলে ফেসবুক সে দেশকে এমন অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য ও দেয়।

    # স্প্যামিং করাঃ
    স্পাম হল ইন্টারনেটে একই জিনিস বারবার করা। আর ফেসবুকে একই ধরনের ম্যাসেজ, একের পর লাইক (না থেমে), একের পর এক কমেন্ট করলে। ফেসবুক আপনাকে ব্লক দিবেই। তখন আপনি মনে করবেন, আপনার আইডি হ্যাক হয়েছে। প্রিয় পাঠক, হ্যাক বলতে কারোর আইডির মালিকানা ছিনতাই হওয়াকেই বুঝায়।

    # আত্মহত্যা বা আত্মাহতঃ
    আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন গ্রাফিকস তথা ছবি, ভিডিও, লেখা পোস্ট করলে। নিজের উপর আহত করা যা অন্যের জন্য সংবেদনশীলতার কারণ হতে পারে এমন কিছু।

    # কপিরাইট, ট্রেডমার্কঃ
    ফেসবুক কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি যথা কপি রাইট ভিডিও, ছবি, লোগো, আইকোন, ভেক্টর ইত্যাদি যদি কেউ কোন পেইজ, গ্রপ,ওয়েবসাইট, আইডি থেকে নিয়ে প্রদর্শন করে তবে তার আইডিতে কপিরাইট ক্লেইম দিলে বিশেষ করে যদি কারোর পেইজ মানিটাইজড করা থাকে তবে তা সঙ্গে সঙ্গেই হারাবে।

    # ঘৃণা বাচক কথা বার্তাঃ
    কাউকে গালাগালি, লিঙ্গ বৈষম্য ইত্যাদি ধরনের কথা,কমেন্টের কারনে ব্লক দিতে পারে ফেসবুক এবং এমন কথা ফেসবুক সরিয়ে ফেলে।

    # পশুপাখির প্রতি অবিচারঃ
    পশু-পাখি ধর্ষণের চিত্র, শিকার, চামড়া ছেলা, জীবন্ত ভক্ষণ ইত্যাদির ছবি, ভিডিও দিলেও ফেসবুক তাকে ব্লক দিতে পারে।

    # এছাড়া ড্রাগ ব্যবহার, অসম্মতি যুক্ত ব্যক্তিগত স্পর্শ কাতর ছবি, যৌনতার ছবি, যৌন শোষণ, শিশু নির্যাতনের ছবি ভিডিও দিলে ফেসবুক আপনাকে সতর্ক করবে। এক্ষেত্রে ফেসবুক আপনার আইডি ভেরিফাই করতে বলতে পারে। আর যদি কেহ রিপোর্ট করে এবং নিয়মিত দিলে থাকলে আপনার আইডি খুঁজে না ও পেতে পারেন!

    # অনুমোদনহীন বিক্রয়ঃ
    আপনার একটি আইডি বা গ্রুপ আছে যেখানে শিক্ষা বিষয়ক পোস্ট দেওয়া হয়। আপনি সে গ্রুপ থেকে মধু বিক্রয়, কবুতর বিক্রয় শুরু করলেন! এমন কিছু দেখলে আপনার আইডি ফেসবুক রিমুভ করতে পারে। আপনাকে পুনরায় এপ্রুভাল নোটিশ দিতে পারে। ব্লক তো অবশ্যই পাবেন। তবে হ্যা ব্যবসায়ের জন্য পেইজ খোলা বাঞ্চনীয়।
    নিষিদ্ধ পন্য যথা সাম্প্রদায়িক নীতি বিরোধী যথা বিড়ি, সিগারেট, মদ, বন্য পাখি বিক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপন ও আইডি রিমুভ হওয়ার অন্যতম কারন।

    # এছাড়া উপহাস মূলক কোন কিছু কোন ব্যক্তি,গোষ্ঠীর বিপক্ষে প্রচার করলে আইডি কেড়ে নেওয়ার মত ঘটনা ঘটে থাকে। মোট কথা নৈতিকতা বিবর্জিত, অসামাজিক, কষ্টদায়ক ও মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরুপ কোন কিছু করা যাবে না ফেসবুকে।

    # উপরোক্ত কার্যক্রম গুলোর কারণে যদি আপনার আপনার আইডি ব্লক তবে এধরনের পোস্ট থেকে বিরত থাকুন। একটি নির্দিষ্ট সময় যেমন ২৪ ঘন্টা, ৭ দিন, ১৫ দিন শেষে এমনিতেই ব্লক উঠে যাবে।

    অথবা কমেন্ট,লাইক,পোস্ট ইত্যাদি করছেন কিন্তু আবার উঠে যাচ্ছে তথা লাইক-কমেন্ট পড়ছে না, এমন হলে ফেসবুকের option button (ডান পাশের উপরে আড়া-আড়ি তিনটে দাগ) এ যেয়ে report a problem এ যান এরপর একদম শেষে other এ ক্লিক করে লিখুন Dear Facebook Team, please unblock me to like/comment/message/post. এর পর এই কথাটি submit করবেন। অবশ্যই এক্ষেত্রে Facebook lite দিয়ে এই কাজটি করতে হবে। আর খারাপ কিছু করলে তা মুছে দিতে হবে। দ্রুতই আপনার ব্লক উঠে যাবে আশা করি!

    তাই আসুন, আমরা শুধু ফেসবুক কমিউনিটি স্টান্ডার্ট বজায় রাখার জন্য নয় ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কমিউনিটি স্টান্ডার্ট বা সাম্প্রদায়িক নীতি ও বজায় রাখি। সামগ্রিক জীবনে কারোর জন্য কষ্টের কারণ না হই! একটি সুস্থ সুন্দর মানবিক জীবন গড়ে তুলি! এ বিশ্ব যতটা সুন্দর আছে, তারচেয়ে আরেকটু সুন্দর করে একটি সামাজিক ও সুন্দর বিশ্ব গঠনে প্রত্যয়ী হই!
    ফেসবুক আপনার স্মৃতি ধরে রাখার ও আপনাকে প্রচার করার এক বিশ্বস্ত ব্যাংক; যার চেক আপনার হাতে। এহেন উপরোল্লিখিত কাজ থেকে বিরত থেকে আমাদের এই ব্যাংক একাউন্টকে নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট হব সবাই, এই প্রত্যাশাই করি!

  • ফেসবুকে লাইক দিন