২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

এছাড়াও আমাদের সচিব মহোদয় বিভিন্ন সভা ও আলাপচারিতায় পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন টাইমস্কেল পেতে হলে অবশ্যই মামলার শুনানির নিস্পত্তি করে আসতে হবে।

মামলার নিষ্পত্তি হলে টাইম স্কেল জটিলতা নিরসন প্রাথমিক শিক্ষকদের

দৈনিক বিদ্যালয় | প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ০৯.০৩.১৪ ইং হতে ১৪.১২.২০১৫ ইং পর্যন্ত টাইমস্কেল জটিলতা ও সমাধানঃ

২য় পর্বঃ (১ম পর্বটি শুধুমাত্র দৈনিক বিদ্যালয়ে প্রকাশিত)

প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল নিয়ে লেখা লেখি কারার ইচ্ছে আমার তেমন একটা ছিল না। এরও বিভিন্ন কারণ আছে। সম্প্রতি টাইমস্কেল নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে কাঁদা ছুঁড়া ছুড়ি চলছে । কিন্তু সাধারণ শিক্ষকদের বঞ্চনার কথা ভেবে এবং বিষয়টি নিয়ে পরিস্কার করার জন্য শেষ পর্যন্ত লিখতে বাধ্য হলাম।

টাইমস্কেল মামলার আপিলের শুনানির নিস্পত্তি বহু আগেই হয়ে যেত। এতো দিনে আমাদের শিক্ষকগণ তাদের টাইমস্কেলের বকেয়া সহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার এরিয়ার সহ পেয়ে যেতেন। কিন্তু দূঃখের বিষয় আমাদের মধ্যে কিছু শিক্ষকের অসহযোগিতা ও টাইমস্কেলের মামলা নিয়ে বিভ্রান্তিকর নেতিবাচক মন্তব্য ও এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখা লেখিই প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল না পাওয়ার প্রধান কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়াও মামলা পরিচালনা করার মতো সামর্থও আমাদের তখন ছিলোনা। এর পাশাপাশি আমাদের মধ্যেও সমন্বয়েরও কিছুটা অভাব ছিলো।
এসব মিলে বিভিন্ন কারনে মামলার শুনানির নিস্পত্তি করতে আমরা পিছিয়ে পড়ি।

যখনই আমরা টাইমস্কেল মামলা নিয়ে নড়েচড়ে বসি। তখনই কিছু কিছু প্রধান শিক্ষক টাইমস্কেল মামলা নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক কথা বলতে শুরু করে দেয়।
যথা, টাইমস্কেল প্রপ্তির জন্য মামলার কোন প্রয়োজন হবে না; নির্ধারিত কতৃপক্ষের নিকট আবেদন করলেই পেয়ে যাবেন! আপনারা বিভাগীয় উপপরিচালক বরাবর আবেদন করলেই টাইমস্কেল পেয়ে যাবেন এমন নানা ধরনের মন্তব্য।
টাইমস্কেলের জন্য কাউকে কোন প্রকার টাকা প্রদান করবেন না। যারা মামলা করেছে তারা দালাল, মামলার কথা বলে চাঁদা বাজি করছে। ওটা চাঁদাবাজ সমিতি ইত্যাদি, ইত্যাদি নেতিবাচক মন্তব্য।

তারা আরও প্রস্তাব দেন যে, টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকগণ প্রয়োজনে প্রতি জেলা থেকে দুই জন করে ঢাকাতে আসুন বসে আলাপ আলোচনা করি।এভাবে উনারা বহু বার ঢাকাতে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে দিন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন কিন্তু একবারও ঢাকাতে তারা বসতে পারেননি। তাদের কথায় শিক্ষকগণ সম্মতি প্রদান করেননি।

ঢাকাতে মিটিং করা এবং ঢাকায় শিক্ষকদের আনার পিছনে ওনাদের মতলব ছিল ভিন্ন শুধুই টাইমস্কেল নয় এই টাইমস্কেলকে পুঁজি করে আরেকটি প্রধান শিক্ষক সমিতির জন্ম দেওয়া হয়ত! কিন্তু সাধারণত শিক্ষকগণ তাদের কথায় খুব একটা সাড়া দেননি। সে জন্য ওনাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ রুপে ব্যর্থ হয়ে গেছে।

ওনারা ব্যর্থ হলে কি হবে? আমাদেরকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়ে গেছেন। তা নাহলে অনেক আগেই মামলার শুনানির নিস্পত্তি হয়ে যেত।
এছাড়াও আমাদের প্রধান শিক্ষক সমিতির অপর অংশও বলতে শুরু করে দিল টাইমস্কেল আদায় করতে তার এক হাত, দুই হাত দুরে আছেন। কখনো পাঁচ সদস্যের টাইমস্কেল বাস্তবায়ন কমিটি কখনো তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে শিক্ষকদের আই ওয়াস করা মাত্র। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হবে কি করে? তাদের উদ্দেশ্য ভালো ছিলো না। এসব কারনে শিক্ষকগন দ্বিধার মধ্যে পড়ে যান। এ সকল মহল কখনো চাননি শিক্ষকগন আমাদের সমিতির মাধ্যমে টাইমস্কেল পাক।
তাহলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। এমনকি ভবিষ্যতে সমিতি করাও কঠিন হয়ে যাবে।
এই টাইমস্কেল বিরোধী মহল এখন বুঝে ফেলেছেন যে, মিথ্যা ও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বেশি দিন টিকে থাকা য়ায় না।
এ সব বিষয় নিয়ে এখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেছে।
সাধারন শিক্ষকগণ এখন তাদের পিছন থেকে সরে যেতে শুরু করেছে।
এখন শিক্ষকগণ সম্পুর্ন ভাবে বুঝে ফেলেছেন যে, এভাবে টাইমস্কেল আদায় করা সম্ভব নয়। কারণ ওদের হাতে তেমন কিছু করার নেই। ওদের অভ্যাস পরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা। এতোদিন শুধুই মিথ্যা আস্ফালন ও গলাবাজি ছাড়া কিছুই করে নাই।
এখন শিক্ষক গন পরিস্কার হয়ে গেছেন যে, মামলার শুনানির নিস্পত্তি ছাড়া পাওয়া কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
এছাড়াও আমাদের সচিব মহোদয় বিভিন্ন সভা ও আলাপচারিতায় পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন টাইমস্কেল পেতে হলে অবশ্যই মামলার শুনানির নিস্পত্তি করে আসতে হবে।

এখন মামলার ইতিহাস ও শেষ অবস্থা জেনে নিনঃ

২০১৬ সনে সেপ্টেম্বর মাসে ১০৯ জন প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে কোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন। তাদের মধ্যে আমাদের সমিতির মহাসচিব জনাব দেলোয়ার হোসেন কুসুম ও অর্থ সম্পাদক আব্দুর রহমান সাহেব অন্যতম।
মহামান্য হাইকোর্ট মামলা নং ১০৮৮১/১৬ রীটের মাত্র তিন মাস কর্মদিবসে, মহামান্য আদালত গত ০৮.১১.২০১৬ ইং তারিখে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় এই বিপক্ষে ০৪.১২.২০১৭ ইং তারিখে আপিল করেন। এই আপিল নিস্পত্তির জন্য কজ লিষ্টে তালিকা ভুক্ত হয়েছে। সিরিয়াল অবশ্য নিচের দিকে আছে।

এখন প্রধান শিক্ষকদের কাজ হলো কজ লিষ্টে এগিয়ে আনা ও শুনানির নিস্পত্তি করা। মামলার সকল প্রকার কাগজ পত্র আমার কাছে রক্ষিত আছে।
এই মামলার রায়ের কিছু অংশ আমি এখানে উউদ্ধৃত করছি যে অংশ টুকু পড়লেই আপনারা ০৯ মার্চ ২০১৪ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাবেন কিনা বুঝবেন! রায়ে বিজ্ঞ বিচারক যা বলেছেন তার (আংশিক) “why the respondents should not be directed to re-fix petitioners upgraded pay scales by allowing them all the benefits of time scals up to 14.12.2015 counting thir period of service from the date of thir joining in thr post of Head Teacher with all arreas from 09.03.2014 and onwards and to remove all kind of disparity discrimination in pay” এখানে পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে যে, যে সকল প্রধান শিক্ষক ০৯.০৩.২০১৪ হতে ১৪.১২.২০১৫ পর্ষন্ত টাইমস্কেল প্রাপ্য হয়েছেন তারা টাইমস্কেল ও এরিয়ার সহ সকল প্রকার সুবিধা পাবেন। এতে কারোর সন্ধেহের অবকাশ আছে বলে মনে। করিনা
বর্তমান করোনা ভাইরাসের মহামারির করেন কোর্ট বন্ধ আছে। কোর্ট খুলেই শুনানির নিস্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হবে।
আমার এ লেখায় অনেকে রুষ্ট হবেন জানি। কিন্তু সত্যকে উন্মোচন করাই প্রয়োজন মনে করি। আর সে জন্যই আমার এই লেখার প্রয়াস।

-মোঃ বদরুল আলম
সভাপতি,
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।

ফেসবুকে লাইক দিন