২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসনের দুটি পথ

দৈনিক বিদ্যালয় |
টাইমস্কেল জটিলতার সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গেঃ

প্রিয় সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ্য আমরা করছি যে, যে সকল প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ভাই ও বোনেরা টাইমস্কেল প্রাপ্য হয়েছেন; অথচ টাইমস্কেল না পেয়ে মানষিক হতাশায় ভুগছেন এবং আর্থিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ ও হচ্ছেন। আমরা আপনাদের কষ্ট বুঝি ও অনুভব করি।
যেহেতু আমি ও আমরা শিক্ষক সংগঠন গুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছি। তাই টাইমস্কেল না পাওয়ার দায়ভার এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগই আমাদের কোন ভাবে নেই।
শিক্ষকদের সকল প্রকার দাবি দাওয়া ও সমস্যার সমাধান করাই আমাদের কাজ বলে মনে করি। শিক্ষক সমাজের কাছে আমাদেরও একটা দায়বদ্ধতা আছে যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

পক্ষান্তরে সাধারণত শিক্ষকদেরও কিছু একটা দায়িত্ব কতব্য আছে বলে আমি মনে করি। আপনাদের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে পথচলা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
আপনারা সকল অবস্থায় আমাদের পাশে ছিলেন, এখনো থাকবেন সে প্রত্যাশা আমাদের আছে।

আমাদের মধ্যেই কিছু শিক্ষক আছেন যারা টাইমস্কেল নিয়ে কোন প্রকার কাজই করছেন না অথচ প্রতিনিয়ত টাইমস্কেল নিয়ে যারা কাজ করে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। যা কোন অবস্থাতেই কাঙ্খিত নয়। আপনারা এসব বিভ্রান্তিতে কান দিবেন না! আপনারা সেই সমস্ত মানুষদের থেকে দুরে থাকুন। এ সব নেতিবাচক মন্তব্যে কাজের গতি অনেক বেশি কমিয়ে দেয়।

আপনারা আমাদের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য না করে বরং আমাদেরকে সাহস যোগাবেন। এতে আমাদের কাজের গতি আরো বহুগুন বেড়ে যাবে এবং আমাদের অভিষ্ঠ ও কাংখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে সহজ হবে।

টাইমস্কেল আদায়ের দুটি পথ আছেঃ

১ টা হলোঃ টাইমস্কেল প্রাপ্তির জন্য সঠিক যুক্তি তুলে ধরে উর্ধত্তন কতৃপক্ষের নিকট আবেদন ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে টাইমস্কেল সমস্যার সমাধান করা।

২ য় পথ হলোঃ সরকার আমাদের সার্ভিস রুল অনুসারে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে বা না দিলে তা আদায়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানানো হচ্ছে যে, আমরা টাইমস্কেল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুই ভাবেই সমান ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একদিকে কতৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করা ও সাথে সাথে লেখা লেখি ও সমান ভাবে করে যাচ্ছি। অন্য দিকে আদালতে টাইমস্কেল সংক্রান্ত মামলার আপিল শুনানির নিস্পত্তির জন্য ও জোরালো ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আপনারা হতাশ হবেন না! টাইমস্কেল আমরা পাবোই, ইনশাআল্লাহ! মনে রাখবেন, এটা কারোর দান বা অনুগ্রহ নয়। এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা। টাইমস্কেল না পওয়া পর্যন্ত আমরা কোনভাবেই পিছপা হবোনা। এটা না দেওয়ার কোনই সুযোগ নেই।

আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে বদ্ধপরিকর। আপনারা হতাশায় না ভুগে একটু ধৈর্য ধারণ করুন। এবং আমাদের সার্বিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের সাথেই আছি ও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

মোঃ বদরুল আলম মুকুল
সভাপতি,
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।

প্রধান মুখপাত্র,
প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

ফেসবুকে লাইক দিন