২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের উচ্চধাপে ফিক্সেশন প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে, পাসের আশ্বাস

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্কঃ প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডের উচ্চধাপের ফিক্সেশন প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রণালয়ে, প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আশ্বাস ও দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে নিম্ন ধাপে বেতন হলে সাড়ে তিন লক্ষ সহকারী শিক্ষকদের বেতন কমে যাবে। বিষয়টি শিক্ষকদের প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়কে অবগত করানোর ফলে আমলে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মো. ফসিউল্লাহ সহ সংশ্লিষ্ট সকল। এ বিষয়ে আজ ১৩ গ্রেডে উচ্চধাপে বেতন ফিক্সেশন করার জন্য একটি প্রস্তাবনা প্রকাশ পেয়েছে। যা শামীম আরা নাজনীন, উপসচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বাক্ষরিত। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৫ হাজার ৬ শত ২০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭ শত ৭২ জন শিক্ষক এই মুহুর্তে কর্মরত আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যাদের ইতিমধ্যে সহকারী শিক্ষকদের ১৫ তম গ্রেড থেকে ১৩ তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড ১৩ থেকে ১১ তে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সফলতা বিফলতায় পর্যবসিত হতে চলেছে শিক্ষকদের নিম্নধাপে বেতন ফিক্সেশন করা হলে। তার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নিম্নধাপে বেতন নির্ধারিত হলে শিক্ষকবৃন্দ বেতন বৈষম্যের স্বীকার হবেন। ১৩ তম গ্রেডের নিম্নধাপে বেতন নির্ধারণ এর কারনে শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তুষ্টি কথাও উক্ত প্রস্তাবনায় স্বীকৃত হয়েছে। অত্র প্রস্তাবনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কানুনগো ও উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদধারীদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণকে যুক্তি হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধি একটি দল যারা প্রধানমন্ত্রীর সচিব মহোদয়ের নির্দেশ ক্রমে অর্থ সচিবের সাথে বেতন বৈষম্যে নিরসনে সাক্ষাৎ করেছিল তাদেরকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবনায়। অর্থ সচিবের সাথে সেই বৈঠকে প্রতিশ্রুতি ছিল, গ্রেড পরিবর্তন হলে শিক্ষকদের বেতন কমবে না এমন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিল এমন একজন শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন;

হ্যা, ১৩ তম গ্রেডের উচ্চধাপের ফিক্সেশন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে।
আজ অর্থমন্ত্রণালয়ের খুব বিশ্বস্ত একটি সূত্র বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেছেন। ফাইল অর্থ সচিবের টেবিলে পৌছেছে। বিষয়টি তথা ১৩ তম গ্রেডে বেতন উচ্চধাপে ফিক্সেশন বিষয়টির সমস্যার সমাধান হবে এমন আশ্বাস ও পাওয়া গেছে।

প্রস্তাবনাটি পাঠানোর কারনে শামছুদ্দিন মাসুদ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

তিনি আরো বলেন, আমি মুঠোফোনে তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলে তাঁরা আমার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। তিনি বলেন, আশাকরি, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে খুব দ্রুত উচ্চধাপের নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি কেন্দ্রীয় হিসাব রক্ষণ অফিসে পৌঁছবে।

উল্লেখ্যঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল ১৩ তম গ্রেড নয়, তাদের দাবি ১১ তম গ্রেড। এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের দাবি ১১ তম গ্রেড নয় ১০ গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। যা নিয়ে বিগত সময়ে শহীদ মিনারে অনশন ও পরবর্তীতে দোয়েল চত্তরে তারা আন্দোলনরত ও ছিল।

উক্ত প্রস্তাবনাটি নিম্নরুপ

ফেসবুকে লাইক দিন