দৈনিক বিদ্যালয় । নাসরিন নাহারঃ মাংস বা তরকারিতে লবণ বেশি হলে কী করবেন? মাছ, মাংস কিংবা সাধারণ তরকারি অসাধারণ লাগে যদি ঝাল ও নুন ঠিকঠাক মত দেওয়া হয়। যদি সেই রান্নার পরিমাণ কম হয় তো কোন ভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু ধরুন বড় কোন অনুষ্ঠানের নিজেদের করা রান্নায় ধরে নেন গোসে লবন বেশি হয়ে গেল, তখন কী করতে হবে। এটি নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

তরকারিতে লবণ বেশি হলে কয়েক পিছ আলু দিয়ে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তরকারি যত ভালো করেই রান্না করা হোক না কেন, নুন ছাড়া স্বাদ ই লাগে না। আবার লবণ বেশি হয়ে গেলেও সে তরকারি মুখে তোলা যায় না। এমন পরিস্থিতি হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে কী করণীয়, তা জেনে নিন এবারঃ

# কাঁচা আলুর টুকরা দিয়ে লবণ কমানোঃ তরকারিতে নুন বেশি হয়ে গেছে মনে হলে কয়েক টুকরা কাঁচা আলুর টুকরা যোগ করুন। তরকারি থেকে অতিরিক্ত লবণ শোষণ করে নেবে আলুর টুকরাগুলো। এই আলুর টুকরাগুলো তরকারিতে ২০ মিনিট পর্যন্ত রাখতে হবে আলু। আলু দেওয়ার আগে অবশ্যই খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

# ময়দা দিয়ে লবণ কমানোঃ লবণ বেশি হয়েছে মনে হলে তরকারির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ময়দার বল তৈরি করে তরকারির মধ্য ছেড়ে দিতে হবে। সাধারণত ২-৩ টি বল ছেড়ে দিলেই কাজ হয়। ময়দা সেদ্ধ করে বা কাঁচা ময়দার বল তৈরি করেও তরকারিতে দিতে পারেন। অবশ্য খাবার পরিবেশনের সময় বল গুলো সরিয়ে নিতে হবে।

# সেদ্ধ আলু দিয়ে লবণ কমানোঃ তরকারিতে নুন বেশি হলে আলু সিদ্ধ করে তার মধ্যে দিতে হিবে। এতে ওই আলু তরকারি হয়ে যাবে। পুরোনো তরকারিতে নতুন স্বাদ আসবে এবং লবন কমে যাবে।

# দই দিয়ে লবণ কমানোঃ তরকারিতে যদি লবন একটু বেশি মনে হয়, এ ক্ষেত্রে এক টেবিল চামচ দই যুক্ত করুন। এতে লবণাক্ততা কমে যাবে এবং তরকারির স্বাদ বেড়ে যাবে।

# দুধ দিয়ে লবণ কমানোঃ দুধ দইয়ের মতোই কাজ করে। এটি ও তরকারিতে নুনের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে এবং স্বাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

# পেঁয়াজ দিয়ে লবণ কমানোঃ এ ক্ষেত্রে কাঁচা ও ভাজা দুই রকমেরই পেঁয়াজ ব্যবহার করা যায়। যদি কাঁচা পেঁয়াজ ব্যবহার করেন, তবে দুই টুকরা করে কিছুক্ষণ তরকারিতে ডুবিয়ে রেখে সরিয়ে ফেলতে হবে। এতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা দূর হবে। আর ভাজা পেঁয়াজ দিলে তরকারিতে লবণ দূর হওয়ার পাশাপাশি স্বাদ ও বাড়বে।

# ভিনেগার ও চিনি দিয়ে লবণ কমানোঃ তরকারিতে স্বাদ এর ব্যালান্স ঠিক রাখতে এক টেবিল চামচ ভিনেগার ও এক টেবিল চামচ চিনি যোগ করতে পারেন। টক ভিনেগার ও মিষ্টি চিনি তরকারিতে যোগ করার ফলে স্বাদের বাহার ও আসবে।

সব তরকারিই ঝোলযুক্ত হয় না; কোন তারকারি ভাজি আবার কোন তরকারি ভুনা সব রকমই হয়। এ ক্ষেত্রে কী করবেন? এটি নিয়েই এবারের আলোচনা। যেমন ধরুন মাংস ভাজি ও ভুনার ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন যদি লবণ বেশি হয়ে যায়।

# ঝোল যুক্ত তরকারি থেকে লবণ কমানোর সহজ উপায়ঃ প্রথমে ময়দা দিয়ে খামির তৈরি করুন। এরপর ছোট ছোট বল আকারে তৈরি করে ঝোলের মাঝে ফুটতে দিন। এতে লবণ অনেক পরিমাণে কমে আসবে।

# মাছের তরকারী থেকে লবণ কমানোর সবচাইতে সহজ উপায়ঃ মাছের তরকারি হলে ডাল দিয়ে তৈরি করা বড়ি যোগ করুন। তেল দিয়ে বড়ি হালকা করে ভেজে তরকারিতে দিয়ে দিতে হবে। এতে লবণ যেমন কমবে ও স্বাদের ভিন্নতা আসবে।

# সবজি ভাজিতে লবণ বেশি হয়ে গেলেঃ এ ক্ষেত্রে যোগ করতে হবে বেশি পরিমাণ কাঁটা পেঁয়াজ ও ধনেরপাতা। আবার টমেটোর কুচিও দিতে পারেন। তারপর ভালো করে ভেজে নিতে হবে আবার। এতে লবণের পরিমাণ হয়ে যাবে সহনীয়।

# মাংস ভুনায় লবণ বেশি হয়ে গেলেঃ এ ক্ষেত্রে যোগ করতে হবে অল্প পরিমানে টক দই ও চিনি। ভালো করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে ১৫/২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে লবণ তো কমবে ও খাবারের স্বাদ ও বাড়বে।
# মাংস রোস্ট, রেজালায় লবণ বেশি হয়ে গেলেঃ রোস্ট ইত্যাদিতে লবণ বেশি হয়ে গেলে মালাই যোগ কর‍তে হবে এবং একই ভাবে ঢেকে রাখুতে হবে। এতে লবণ কমে যাবে।

#কাবাব, ভুনা ইত্যাদিতে লবণ বেশি হয়ে গেলেঃ এ ক্ষেত্রে যোগ করতে হিবে সামান্য লেবুর রস ও এক চিমটি চিনি।

# যে কোন তরকারিতেই লবণ বেশি হলেঃ বেরেস্তা যোগ করতে পারেন। এতে ঝোল ও ঘন হবে, স্বাদে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা। লবণ তো কমবেই কবে।
# তন্দুরি চিকেনে লবণ বেশি হয়ে গেলেঃ এর সাথে যোগ করুন সামান্য বেশি মিষ্টি দেয়া রায়তা। এতে কেউ বেশি লবণ বুঝতেই পারবে না।

সূত্র: এনডিটিভি ও কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা।
ডিবি, আর আর,