২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

লিওনেল মেসির প্রথম জীবনে যা ঘটেছিল

দৈনিক বিদ্যালয়

দৈনিক বিদ্যালয় | ডেস্ক রিপোর্টার |

যুগ সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির পুরো নাম ‘লিওনেল অ্যান্ড্রেস মেসি’। জন্ম ১৯৮৭ সালের ২৪ শে জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে।

তার বাবা একটি ইস্পাত কারখানার ম্যানেজার পদে কাজ করতেন। তার বাবার নাম ‘হোর্হে হোরাসিও মেসি’ এবং মায়ের নাম ‘সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি’।

মেসি তার বাবার চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। লিউ মেসির মা ‘সেলিয়া কুকিটিনি’, যিনি একটি চৌম্বক কারখানায় কাজ করতেন।

তাঁর বাবার দিকদিয়ে তিনি ইতালীয় এবং স্পেনীয় বংশোদ্ভূত। ইতালি এবং কাতালোনিয়ার উত্তর কেন্দ্রিক অ্যাড্রিয়াটিক মার্কে অঞ্চল থেকে আগত অভিজাতদের নাতি এবং তাঁর মায়ের দিকদিয়ে তিনি মূলত ইতালীয় বংশধর।

তার পৈতৃক পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল ইতালির আকোনা শহরে। তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ সালে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছেন। 

আরো পড়ুন সমাপনী, ইবতেদায়ী, JSC, JDC পরীক্ষা কী হবে?

বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল। পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব ‘গ্রান্দোলি’র হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে।

তিনি একটি ফুটবলপ্রেমী পরিবারে বেড়ে ওঠেন। “লিও” ছোট বেলা থেকেই ফুটবল খেলাত প্রতি অনুরাগী ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি তার বড় ভাইয়েরা রদ্রিগো এবং মাতিয়াস এবং ২ চাচাত ভাই ম্যাক্সিমিলিয়ানো এবং ইমানুয়েল বিয়ানকুচিদের সাথে খেলতেন।

তখনই তিনি পেশাদার ফুটবলে যোগ দেন। চার বছর বয়সে তিনি স্থানীয় ক্লাব ‘গ্রানডোলি’তে যোগ দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর পিতা নিজেই ছিল তার প্রশিক্ষক। যদিও খেলোয়াড় হিসাবে তার প্রথম প্রভাব তার দাদী যার নাম ‘সেলিয়া’ থেকে এসেছিলেন, যিনি প্রশিক্ষণ কালীন সময়ে ও বিভিন্ন ম্যাচগুলিতে তাঁর সাথে আসত। মেসির বয়স যখন ১১ হবে হবে এর অল্প আগেই তিনি প্র‍য়াত হন। লিউ তার দাদীর মৃত্যুতে প্রচুরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন; তার পর থেকে তিনি একজন ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক হিসাবে তিনি তাঁর দাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেন এবং আকাশের দিকে ইশারা করে তাঁর লক্ষ্যগুলি ঠিক করতেন।

ফুটবল ক্লাব ‘নেভালে’র ওল্ড বয়েজের আজীবন সমর্থক ছিলেন লিও। তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে রোজারিও ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। এবং এই ছয় বছরে তিনি নেওলে ক্লাবের হয়ে খেলেন এবং “দ্য মেশিন অফ ‘478’ এর সদস্য হিসাবে তিনি প্রায় 500 গোল করেছিলেন।

তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসাবে তাঁর ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়েছিল যখন তিনি ১০ বছর বয়সে। তখন তার শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ে। এ সময়ে তাঁর বাবার স্বাস্থ্য বীমাটি তার কাজে আসে।

যখন মেসির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ঠিক ওই সময় বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির পাশে এসে দাড়ায় কারণ তিনি মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতেন ও তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। মেসির সাথে চুক্তির সময় হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজী হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসি বার্সেলোনার যুব একাডেমী ‘লা মাসিয়া’তে যোগ দিয়ে নতুন উদ্দীপনায় আবার তার খেলোয়াড় লজীবন শুরু করে।

মেসি ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার যুব একাডেমীর ইনফান্তিল বি, কাদেতে-বি এবং কাদেতে-এ দলে খেলেছেন। কাদেতে-এ দলে খেলার সময় তিনি মোট ৩০ খেলায় ৩৭ গোল করেন। ২০০৩ সালে বার্সার অর্থনৈতিক সল্পতার কারণে লিউকে ক্লাব থেকে প্রায় ছেড়েই দেওয়া হয়েছিল কিন্তু যুব দলের প্রশিক্ষণ কর্মীদের জোড়াজুড়িতে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৩–০৪ মৌসুমে মেসি পাঁচটি আলাদা দলে খেলেন, যেটি একটি রেকর্ড। তিনি হুভেনিল-বি দলে খেলে ১টি গোল করেন এবং হুভেনিল-এ দলে ও খেলার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে লিও ১৪ খেলায় ২১টি গোল করেন।

২০০৩ সালের ২৯ নভেম্বর, বার্সেলোনা সি দলে এবং ২০০৪ সালের ৬ মার্চ, বার্সেলোনা বি দলে তার অভিষেক হয়। ঐ মৌসুমে তিনি উভয় দলের হয়েই খেলেন এবং সি দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ছিল ১০ খেলায় ৫ এবং বি দলের হয়ে ৫ খেলায় শূন্য। এই দুই দলে অভিষেকের পূর্বে মেসির দাপ্তরিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর পোর্তোর বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় ১৬ বছর এবং ১৪৫ দিন বয়সে।

চলবে…………………….

(ডি বি / আর আর)

(আপনার খেলাধুলা সম্পর্কিত লেখা পাঠান ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ এর ইমেইলে [email protected] এ। লেখা পাঠানোর সময় নিজের ছবি, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার পাঠাবেন অবশ্য।)

ফেসবুকে লাইক দিন