জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ও শিক্ষকদের পদোন্নতি

চাকুরীর বিধান

দৈনিক বিদ্যালয় | ২০২০

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ও প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি

# প্রাথমিক শিক্ষার প্রাণপুরুষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাকির হোসেন স্যার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ আকরাম আল হোসেন স্যার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মান্যবর মহাপরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ স্যার এর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

# শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষানীতি শিক্ষার মেরুদন্ড। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ৬ টি শিক্ষানীতি প্রণীত হলেও কোনটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার চাহিদা মেটাতে না পারায় আলোর মুখ দেখতে পারিনি।

# অবশেষে বহু জল্পনা-কল্পনা গবেষণার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গঠিত হয় জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী শিক্ষা কমিশন। আর এই কমিশনের নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০”।

# শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর ২৫ নম্বর অধ্যায়ে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার এর প্রশ্নে বলা হয়েছে

# প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতায় আগ্রহী এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সকল স্তরের শিক্ষকদের মর্যাদার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনাপূর্বক পুনর্বিন্যাস করা হবে। যাতে তারা যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।”

# এক. ২৫ নং অধ্যায়ে ০১ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ক্ষেত্রে শিক্ষা নীতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা শুধুমাত্র সুবিন্যাস্ত বাক্য গাথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত অর্থে তাদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়া না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

# শিক্ষানীতিতে আরও বলা হয়েছে যে,
“শিক্ষার সকল স্তরের জন্য উপযুক্ত দুটি বিষয়ে অর্থাৎ মর্যাদা ও বেতন-ভাতাসহ সুযোগ সুবিধার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা সুপারিশ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতিনিধিত্ব সংবলিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে।”

READ MORE  পেনশন মঞ্জুরির পূর্বেই কোন সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হলে যে যে কাগজপত্র লাগবে

# শিক্ষানীতির দ্বিতীয় অধ্যায়ে “প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা “শিরোনামে
“শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের পদোন্নতি উপ অনুচ্ছেদে ৩০ নম্বর ধারায় বলা হয়, “শিক্ষকদের স্তর এবং বেতন স্কেল যথোপযুক্ত বিন্যাস করে যথা সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক তাদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করে শিক্ষকদের উৎসাহিত করা হবে।

“অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হবে”।

# প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে বাংলাদেশের ৬৪০০০ সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে সহকারি শিক্ষকদের মধ্য হতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে১০০ ভাগ পদোন্নতি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

# আবার শিক্ষানীতির ২৫ নম্বর অধ্যায়ের শিক্ষকদের মর্যাদা অধিকার শিরোনামের ৫ নম্বর উপধারায় বলাহয়

“মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদায়ন করা হবে এবং তাদের পদোন্নতির সুযোগ থাকবে।”

# প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যেখানে ১৯৯৪ সালে জারিকৃত কালো আইন প্রয়োগ করে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক সহ সর্বস্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতির দ্বার উন্মোচন করে দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
একই সাথে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় শিক্ষানীতির গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির ভিত্তি সমূহঃ

# শিক্ষকদের মর্যাদা অধ্যায়ে ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে “শিক্ষার সকল পর্যায়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা এবং শিক্ষার সকল পর্যায়ে তাদের শিক্ষাকতার মান বিবেচনায় আনা হবে। সে জন্য শিক্ষাকতার মান নির্ণয় করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। গৃহীত প্রশিক্ষণও শিক্ষার সর্বস্তরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে।”

# আবার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৩২ নম্বর ধারায় বলা হয় “শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে পদোন্নতির যোগসুত্র স্থাপন করা আবশ্যক বলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং প্রশিক্ষিত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সরাসরি নিয়োগ এবং ত্বরান্বিত পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর পদ পূরনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে পদ: উন্নীত করা হবে। তবে এর জন্য যথাযথ বিধি-বিধানও তৈরি করা হয়েছে।

READ MORE  সরকারী কর্মচারীদের জিপিএফ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সবশেষে বলা যায়;
১) শিক্ষানীতিতে জ্যেষ্ঠতা, মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে পদোন্নতির মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে।

২) নির্বাচিত শিক্ষকদের শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পদায়ন ও পদোন্নতির সুযোগের কথা বলা হয়েছে।

# সুতরাং আমাদের দাবিঃ

সদ্য প্রণীত খসড়া নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালায় ৪৫ বছরের বাধা দূর করে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে পদোন্নতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে ২৬ বছরের পদোন্নতি বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের বন্ধ পদোন্নতির দ্বার খুলে দেওয়ার জন্য আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লিপি খাতুন, প্রধান শিক্ষক, প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া খুলনা।

ও সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, দীঘলিয়া, খুলনা।

আরো পড়ুনঃ ২০২০ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না

৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা : পরিপত্র জারি

(ডি বি লি খা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *