২৯শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার, ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন মাধ্যমিক শিক্ষকের আবেদন

দৈনিক বিদ্যালয় । ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর কাছে একজন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকের আবেদন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আমি সরকারি হাইস্কুলের একজন শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)। এখন শোকের মাস আগস্ট। “আপনি কেমন আছেন?” – এই প্রশ্নটি করতে পারছি না; কারণ আপনি শোকে বিহ্বল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আপনি প্রাণ প্রিয় বাবা, মা, ছোট ভাই (১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু) রাসেলসহ অন্য দুই ভাই ও আপনজনদের হারিয়েছেন একদল নরপিশাচের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডে। এ কষ্ট, এ শোক অসহনীয়। আমি এই বীর শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি। ঐ পিশাচের দল শুধু আপনাদের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, গোটা জাতির সাথে বেঈমানী করেছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সেই বেঈমানদের অনুসারী অপশক্তি আপনাকে হত্যা করার জন্য শক্তিশালী গ্রেনেড হামলা চালায় আপনার সমাবেশে। আপনি পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম রহমতে প্রাণে বেঁচে যান কিন্তু হারিয়েছেন ২৪ জন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী। পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে অনেককে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই হয়ত এত ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করেও আপনি আপন মহিমায় টিকে আছেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

আপনি অকুতোভয় আপোসহীন অসীম সাহসী এক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। আপনার বাবার অবর্তমানে শত্রুদের সকল ষড়যন্ত্র ও হুমকি উপেক্ষা করে আপনি প্রবাস জীবন ত্যাগ করে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। আপনি দেশের জনগণের জন্য কাজ করতে মৃত্যুকে ভয় করেন না। সারা বিশ্ব জানে, আপনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না। এক পদ্মা সেতুই তার প্রমাণ। অনেক ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ পথ পেরিয়ে আপনি জাতির কাণ্ডারি হিসেবে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক শক্তিশালী। এই করোনা প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিতেও আপনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বিষয়ের প্রতি আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আজকের এ লেখা। একটু ধৈর্য্য সহকারে পড়লে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হব। অনধিকার চর্চা মনে করলে দয়া করে মাফ করবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হচ্ছে। রুটিন ওয়ার্ক হিসেবেই হয়ত হয়ত হচ্ছে। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে আপনাকে অবগত করতে চাই যে, আমরা মনে হয় সেই রুটিনের বাহিরে। আমরা সরকারি হাইস্কুলের অনেক শিক্ষক ১৪/১৫ বছর চাকুরি করেও কোন টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাইনি যা ২০১৩/২০১৪ সালে পাওয়ার কথা। 

এ ব্যাপারে কয়েকবার ডিপিসি মিটিং হলেও আমাদের প্রাপ্তি শূন্য। আর্থিক ক্ষতির কারণে বকেয়া টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার জন্য আমরা বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করি। ঐ রিটের রায় আমাদের পক্ষে প্রদান করা হয় ০২/০৫/২০১৯ তারিখে। রায়ের সার্টিফাইড কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেয়া হয় ২৪/০৮/২০১৯ তারিখে। রায়ের কপি হাতে পৌঁছানোর ৩ মাসের মধ্যে রায় বাস্তবায়নে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও এখনও সে রায় বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের অগ্রজরা তাদের ১ম ১৫ বছরে ০৩টি টাইমস্কেল পেয়েছেন। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের গ্রেডও ৭ম এ উন্নত হয়েছে। আমরা এখনও ১০ম গ্রেডেই বেতন পাচ্ছি। আমরা চরম অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার।

অত্যন্ত দুঃখের সাথে আপনাকে আরেকটি বিষয় জানতে চাই, সরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ে সিনিয়র শিক্ষক পদসহ এর উপরের হাজার হাজার পদ ফাঁকা পড়ে আছে বছরের পর বছর; অথচ সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩০/৩২ বছর চাকুরি করেও অধিকাংশ শিক্ষক কোন পদোন্নতি না পেয়েই চরম মনঃকষ্ট নিয়ে বিবর্ণ বদনে অবসরে যাচ্ছেন। এম এ পাশ একজন সরকারি চাকুরিজীবী এ কষ্ট কীভাবে সহ্য করেন! সমাজে তাঁকে খুব বিব্রত অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে তাঁর মূল্যায়ন কতটুকু হলো? তাঁদের অনেক ছাত্র তাঁদের সহকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। পরীক্ষার হলে ঐ ছাত্র সহকর্মীদের সাথে এই বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকগণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন যা বিব্রতকর। যে পদে শুরু সে পদেই শেষ!! এ দুঃখ শুধু ভুক্তভোগীরাই অনুধাবন করতে পারেন। স্বাধীন দেশে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিমাতাসুলভ আচরণ পাচ্ছি। ইহা খুবই পীড়াদায়ক !! একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক কালেও কি সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদার উন্নতি ঘটবে না? আমরা কি একটু আলোর মুখ দেখব না? আমরা কি তিমিরাচ্ছন্ন চাতকই রয়ে যাব?

আপনি আমার মায়ের বয়সী। আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল, তার ছেলে বিসিএস ক্যাডার হবে। আমি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক গৃহীত বেশ কয়েকটি চাকুরির পরীক্ষার প্রিলিমিনারী ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি। ২৮তম বিসিএস এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও পদ স্বল্পতার দুর্ভাগ্যজনক কারণে নিয়োগ বঞ্চিত আছি। অনেকে বিসিএস পরীক্ষা না দিয়েও সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েছেন ও হচ্ছেন। আর আমি বিসিএস পাশ করেও ১ম শ্রেণির পদে পদোন্নতি পাচ্ছি না। আমার মত অনেক অভাগা সরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জ্ঞান পিপাসা মিটিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকতা পেশাকে ব্রত  হিসেবে নিয়ে। অনেকে অন্য চাকুরি ছেড়ে এখানে এসেছেন শিক্ষকতাকে ভালবেসে। পদোন্নতি যেন আমাদের কাছে বামুনের চাঁদ ছোঁয়ার মত অলীক কল্পনা!!! অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অনেক পদ সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক পদের সমমর্যাদার বা নিচের মর্যাদায় ছিল যেগুলো অনেক আগেই ১ম শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ – উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সাব-রেজিস্ট্রার, পিটিআই ইন্সট্রাকটর প্রভৃতি। অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরগণ পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে যান, অনেক মর্যাদা নিয়ে অবসরে যান। এসএসসি পাশ একজন পুলিশ কনস্টেবলও অভিজ্ঞতার বলে বেশ কয়েকটি পদোন্নতি পান, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হন। অপরদিকে আমরা অসংখ্য শিক্ষক এমএ পাশ করে চাকুরি শুরু করেও কোন পদোন্নতি পাই না।

আপনি নির্বাহী ক্ষমতাবলে ঘোষণা দিয়ে আমাদের মর্যাদা ৩য় থেকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করেছেন ২০১২ সালের ১৫ মে। ঐ ঘোষণার পূর্বেও আমাদের বেতনস্কেল ২য় শ্রেণিরই ছিল কিন্তু মর্যাদা ছিল ৩য় শ্রেণির ! জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন স্কেলভুক্ত দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদা প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শাহাদৎবরণের পর সেই আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। আপনার কৃপা ছাড়া আমাদের এতটুকু মর্যাদাও পুনরুদ্ধার হত না। এখনও আমরা অনেক অবহেলিত। অনেক বঞ্চিত। আমাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে আপনার নির্বাহী আদেশ আবারও প্রয়োজন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলোতে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের অনেকে কর্মরত আছেন কিন্তু সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সেখানে নেই বললেই চলে। আমাদের কিছু উঁচু পদ যেমন- আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদগুলোর অধিকাংশই অতিরিক্ত দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। অনেক সরকারি হাই স্কুলেই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ যুগের পর যুগ শূন্য আছে। সেগুলোও চলছে অতিরিক্ত দায়িত্ব, চলতি দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এ দায়িত্বগুলোকে সংক্ষেপে “অদা, চদা, ভার” বলে উপহাস করা হয়। এ দায়িত্বগুলো অনেক ক্ষেত্রে বেশ বিব্রতকর। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে সমস্যা হয়।

সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিক্ষার মান নিঃসন্দেহে প্রশংসিত। এই শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাল মেধাক্রম অর্জন করে ভর্তি হওয়ার হার বেশ সন্তোষজনক। অথচ এই স্কুলসমূহে কর্মরত শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা অত্যন্ত হতাশাজনক। এই অবস্থা দেখে বিসিএস পাশ করে আসা অনেক ননক্যাডার সহকারী শিক্ষকগণও ইতোমধ্যেই চরম হতাশায় নিপতিত হয়ে অস্থিরতায় ভুগছেন।

একটি পরিচিত চিত্র হলো- অধিকাংশ অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের ছেলেমেয়ে ভর্তি করার ব্যাপারে অনাগ্রহী। কিন্তু ঐ অভিভাবকগণই সরকারি হাই স্কুলে তাদের ছেলেমেয়ে ভর্তি করাতে মরিয়া। সরকারি কলেজে ভর্তি পরীক্ষা হয় কিন্তু ভর্তিযুদ্ধ বলতে যা বোঝায় তা সরকারি হাই স্কুলেই হয়। অথচ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-গ্রেড উন্নয়ন গতিশীল, সরকারি কলেজের শিক্ষকদের বেতন-গ্রেড তো অত্যন্ত সন্তোষজনক। অপরপক্ষে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকদের বেতন-গ্রেড উন্নয়ন দুঃখজনকভাবে স্থবির। 

আমরা যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি যেমন- যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র পেশ করা, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, সভা, সমাবেশ, মানব বন্ধন, কালো ব্যাজ ধারণ, অনশন প্রভৃতির মাধ্যমে আমাদের ন্যায্য অধিকার ও বঞ্চনার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরেছি। কিন্তু আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাইনি। আমাদের এই বঞ্চনার পাহাড়ের কথা আপনাকে জানানোর মত সহানুভূতিশীল উপযুক্ত অভিভাবক আমরা পাইনি। এজন্য আমাদের এই দুরবস্থা আপনার নজরে পড়েনি। 

সরকারি কলেজের শিক্ষকগণ প্রভাষক থেকে ধাপে ধাপে পদোন্নতি প্রায় সবাই অধ্যাপক হয়ে অবসরে যান। অপরদিকে সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষকগণের প্রায় সবাইকে একটিও পদোন্নতি না পেয়ে দুঃখজনকভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসরে যেতে হয়। একই মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শিক্ষকদের মাঝে এত বিশাল বৈষম্য রাখা অত্যন্ত বেমানান। সরকারি কলেজের শিক্ষকগণ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বড় বড় পদে আসীন হন। তাঁরা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের শুধু শাসন করেন, ভালবাসেন না। ভালবাসলে বা আমাদের মঙ্গল চাইলে যুগের পর যুগ আমরা এত বঞ্চিত থাকতাম না।

“শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” এই শ্লোগান বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে কার্যকরী স্তর মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরকে ঢেলে সাজানোর কোন বিকল্প নেই। এজন্য দরকার একটি স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত করা। আপনার লক্ষ্য (উন্নত রাষ্ট্র) অর্জন করার জন্য ইহা সময়ের দাবি। স্মার্ট শিক্ষকই পারেন স্মার্ট জাতি গড়তে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই সোনার বাংলায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ যেন অবহেলিত এক জনপদের প্রতিচ্ছবি ও বিমাতার সন্তান!! বঞ্চনার পিরামিড!!!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির সুযোগ্য কন্যা, আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি, দেশরত্ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, ডক্টর অব ল, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ। আপনি ইউনেসকো থেকে ‘‘হুপে-বোয়ানি’’ শান্তি পুরস্কার ও শান্তিবৃক্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। আপনি অনেক সম্মানিত ও অনেক গুণের অধিকারী। আপনি অনেক জ্ঞানী, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী। অন্য দেশের নাগরিক লক্ষ লক্ষ অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও আহারের ব্যবস্থা করে আপনি মানবতা, দরদ ও শান্তির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

মুজিববর্ষে আমাদের একটিই মিনতি, আপনি দয়া করে আমাদের সমস্যাগুলো দূর করুন, আমাদের যোগ্যতা ও অবদানের প্রতি সুবিচার করুন। বঞ্চিত শিক্ষকদের প্রাপ্য টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুর করুন। সরকারি মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক পদটিকে ১ম শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা দিন এবং সব শিক্ষকের জন্য কয়েকটি পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দিন। পদোন্নতি পেলে আমরা অনুপ্রেরণা পাব, নতুন উদ্যমে কাজ করতে উৎসাহিত হব।

আমাদের মলিন মুখগুলোতে একটু হাসি ফুটান। আমাদের একটু শান্তি দিন। মহান আল্লাহ তায়ালা ও আপনি ছাড়া আমাদের মর্যাদাগত দুরবস্থা দূর করার আর কেউ নেই। আমাদেরকে একটু ভাল রাখুন। অনেক মনঃকষ্টে আছি আমরা। আশা করি আপনি আমাদের অধিকার ও বঞ্চনা আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করে আমাদের প্রতি সদয় হবেন। পরিশেষে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, এ লেখা যদি বিন্দু পরিমাণেও আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে থাকে বা কোন প্রকাশভঙ্গি যদি কদর্য হয়ে থাকে। আজীবন সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন, এ কামনা করি।

বিনীত নিবেদক-

মোঃ আব্দুল হালিম (অরবিট),
বিএ (অনার্স), এমএ (ইংরেজি), বিএড।
সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি),
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়,পটুয়াখালী।

আরও পড়ুনঃ ২০২০ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না

৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা : পরিপত্র জারি

(দৈবিআহা)

ফেসবুকে লাইক দিন