২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হলুদ বরন কন্যা : রুবি বিনতে মনোয়ার

হলুদ বরণ কন্যা
-রুবি বিনতে মনোয়ার

জসীমউদ্দিন তাঁর অনেক কবিতায় হলুদ এনেছেন। রাখাল ছেলে কবিতায় আছে- “সরষে বালা নুইয়ে গলা হলদে হাওয়ার সুখে, মটর বোনের ঘোমটা খুলে চুম দিয়ে যায় মুখে!” সোনার বরণী কন্যা কবিতায় আছে- “হলুদ মাখিয়া কন্যা নামে যমুনায়,অঙ্গ হলুদ হইয়া জলে ভাইসা যায়।” প্রেয়সীর গায়ে হলুদ নামে রুহুল আমীন রৌদ্র আস্ত এক কবিতা লিখেছেন- “একি! দেখি রংধনু উঠেছে পূর্বাকাশে, হলুদ রং লেগেছে দূর্বাঘাসে।” রিক্তা রিচি লিখেছেন-“হলুদ জামা পরা সেই মেয়েটি
কোন এক ভোরে এসেছিল সাথে।” ছিল সেই মরমী গান-“হলুদিয়া পাখি, সোনারি বরণ পাখিটি ছাড়িল কে।”

বিয়ের গান! হলুূদ বাটা ছাড়া, হলুদ মাখা ছাড়া হয়! বাঙালি গানে কবিতায় আবহমানকাল থেকেই হলুদের ছড়াছড়ি। আর হুমায়ুন আহমেদের হিমু তো হলুদ পাঞ্জাবী পরেই বাংলার তরুণ সমাজকে মাতোয়ারা করেছিল। হলুদ দিয়ে কেবল গান কাব্য নয়, হলুদ হল আমাদের জীবনে অন্যতম এক অপরিহার্য সঙ্গী। গায়ে কাঁচা হলুদ মেখে রূপচর্চা, মশলা হিসেবে তরকারীতে ব্যবহার, এমনকি ওষুধ হিসেবেও এর ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই হয়ে এসেছে। হলুদকে বলা হয় মিরাকল হার্ব বা অলৌকিক ভেষজ। হলুদে প্রচুর পরিমাণে থাকে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি – ৬, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি, ও কারকিউমিন নামক রাসায়নিক, যা রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা হলুূদ বেটে মুখে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, তেমনি কাঁচা হলুদের রস হজমের গোলমাল সারায়। হলুদের রস বিভিন্ন ব্যকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে খাদ্যনালীকে রক্ষা করে। ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে প্রাচীন কালে হলুদের ব্যবহার ছিল, এর রস হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরী গুণ মানসিক উদ্বেগ থেকে রক্ষা করে। কাঁচা হলুদের রস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ক্যান্সার, প্রদাহজনিত রোগ, কৃমি, রক্তশূন্যতা, আগুনে পোড়া, ডায়রিয়া, কাটাছেঁড়া সহ বিভিন্ন রোগের নিরাময়ে হলুদ ভূমিকা রাখে। আসলে আমরা হলুদের উপকারী গুণগুলো জানি না, কেবল জানি তরকারী সুন্দর করতেই এর ব্যবহার। আসলে তো তা নয়।

হলুদের ফুল দেখতে অপূর্ব। অনেক ফুল আছে যা দেখতে হলুদ রঙ। অনেক ফসল, ফল পাকলে হলুদ হয়। হলুদের বৈজ্ঞানিক নাম herbaceous plant, এটি আদা পরিবারের (Zingiberaceae) অন্তর্গত একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। হলুদের আদি উৎস দক্ষিণ এশিয়া। হাজার হাজার বছর ধরে এশিয়া মহাদেশে এই হলুদকে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।
হলুদ প্রাকৃতিকভাবেও জন্মে, একে বলে বুনো হলুদ। বুনো হলুদের ফুলকে বলে শটি ফুল।
সবশেষে বলি
” হলদে কন্যা বাতাসে দোল খায়
যেন আজ হলদে পরী খেতে
হলুদ শাড়িতে মন চুরি যায়
হলুদ গায়ের মেয়ে পথে যেতে।”

ফেসবুকে লাইক দিন