৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, শুক্রবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

টাইমস্কেল বঞ্চিত শিক্ষকদের উদ্ভুত সমস্যায় একজন ত্রাণকর্তার প্রয়োজন

প্রাথমিক শিক্ষার প্রাণপুরুষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ জাকির হোসেন স্যার, সিনিয়র সচিব মান্যবর মোঃ আকরাম-আল-হোসেন স্যারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
০৯.০৩.১৪ থেকে ১৪.১২.১৫ পর্যন্ত মাত্র ০১ বছর ৯ মাস ৬ দিন নন-গেজেটেড দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পাওয়া হতভাগ্য প্রধান শিক্ষক বৃন্দের প্রতিনিয়ত হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের না পাওয়ার বেদনা আর কষ্টটাকে আপনারা হৃদয়ে ধারণ করেছেন।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নীতিমালা মানুষের কল্যাণে তৈরি হয় কিন্তু যে বিধি ও নীতিমালা মানুষকে বঞ্চিত করে কষ্ট দেয় সে বিধি ও নীতিমালা সময়ের প্রয়োজনে মানুষের কল্যানেই দ্রুত পরির্তন করার বিনীত অনুরোধ করছি।

আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করার পর প্রচলিত নীতিমালা ও বিধি অনুযয়ী নিম্ন ধাপে বেতন ফিক্সেশন করার নিয়ম চালু থাকলে হাজার হাজার সহকারী শিক্ষকবৃন্দ যখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল ঠিক তখনই আপনারা এগিয়ে এসেছিলেন ত্রানকর্তা হয়ে বিধি ও নীতিমালা সংশোধন করে উচ্চতম ধাপে বেতন নির্ধারণের আদেশ জারি করতে সক্ষম হয়েছেন। ঠিক এমনই একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের ১ বছর ৯ মাস ৬ দিনের সময় কালের টাইম স্কেল পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বাধা তা দূর করতে আপনাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই আমরা বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ আপনাদের অত্যন্ত আন্তরিক এবং দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করছি।
এক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণসমূহঃ
১# ০৯.০৩.১৪ এর আদেশে গ্যাজেটেড উল্লেখ করা হয়নি এবং প্রশিদেরকে ১১ তম গ্রেড দেয়া হয়েছে।

২# প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১২.০৮.২০১৫ এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে আপাতত নন-গেজেটেড ঘোষণা করা হয়েছে।

৩# প্রাগম-এর ০৭.০২.১৬-এর পত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে নন-গেজেটেড হিসাবে বেতন-ভাতা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪# নন-গ্যাজেটেড হিসাবে ২০০৯-এর বেতন স্কেলের ৭এর ১ অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৪.১২.১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্য।

৫# অর্থ মন্ত্রনালয়ের ১৫.১১.১৭-এর পত্রের আলোকে ০৯.০৩.১৪ তারিখের পূর্বে প্রাপ্ত টাইমস্কেলের করেস্পোন্ডিং হয়েছে, যা গেজেটেড কর্মকর্তাদের হয়না।

৬# আজ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের নাম প্রকাশ করে কোন গ্যাজেট প্রকাশ হয়নি।

৭# এখনও প্রশিদের সার্ভিস বই বন্ধ করা হয়নি।

৮# BSR-এর 48 বিধি অনুসারে চাকুরীকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়া হয়। ০৯.০৩.১৪ থেকে ১৪.১২.১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল প্রদান না করলে উক্ত সময়ের চাকুরীর ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে না।

৯# ১৯৯৯ বা ২০০০ সনে একই সাথে ও একই দিনে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে একজন ২০০৭-এ প্রধান শিক্ষক পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে নিয়োগ পান। ২০২০ সালে প্রধান শিক্ষক ১১ নং গ্রেডে এবং সহকারি শিক্ষক ১০ম নং গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন।

১০# ০৯.০৩.১৪ থেকে ১৪.১২.১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুর না হলে এ অসঙ্গতি দূর হবে না। একই সাথে নিয়োগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানের কারণে এক গ্রেড নিচে বেতন পাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

১১# একজন আট বছর পূর্তির পূর্বেই প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং প্রধান শিক্ষক হিসাবে আট বছর পূর্ণ হয় ০৯.০৩.১৪ এর পরে। ফলে অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে ২০ বা ২১ বছর চাকুরি করেও প্রধান শিক্ষক কোন টাইমস্কেল পাননি।

আমাদের প্রাণ প্রিয় অভিভাবক মান্যবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সদাশয় সিনিয়র সচিব স্যার, আপনাদের সততা, আপনাদের দক্ষতা, আপনাদের আন্তরিকতা, আপনাদের যোগ্যতা, আপনাদের সাহসিকতা আপনাদের দূরদৃষ্টি আপনাদের উদ্ভাবনী এবং এবং বিশ্লেষণী শক্তি আপনাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনাদের গভীর মমত্ববোধ আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনারা বর্ণিত সমস্যাটি সমাধানের অত্যন্ত আন্তরিক। আপনাদের সাহসী এবং দৃঢ় পদক্ষেপে অচিরেই টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ।

আরো পড়ুনঃ বন্ধ থাকা কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে ভর্তির নির্দেশ

লিপি খাতুন প্রধান শিক্ষক, প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া, খুলনা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, দিঘলিয়া, খুলনা।

ফেসবুকে লাইক দিন