২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রেস রিলিজ : অতিশীঘ্রই প্রাথমিক শিক্ষকরা উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন

অতিশীঘ্রই প্রাথমিক শিক্ষকরা উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন। এ বিষয়ে সোমবার রবীন্দ্রনাথ রায়, তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা,
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক প্রেস রিলিজে যা বলা হয়েছে তা প্রায় অপরিবর্তিতভাবে তুলে ধরা হল,

‘প্রেস রিলিজ, ঢাকা। তারিখ- ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০। বিষয়ঃ অতিশীঘ্রই প্রাথমিক শিক্ষকরা উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং
বেতন গ্রেড-১৫ প্রশিক্ষণবিহীন থেকে বেতন গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করে উচ্চধাপে নির্ধারণ করা
হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত সফটওয়্যার “আইবাস++’ এর
মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণের লক্ষ্যে
“আইবাস++’ সফটওয়্যার আপগ্রেডের কাজ চলমান রয়েছে, যা শীঘ্রই সম্পন্ন হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানাে হয়, মাঠ পর্যায়ে ‘আইবাস++” এ বেতন নির্ধারণে সাময়িক অসুবিধার বিষয়টি। তাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অতিদ্রুত “আইস।’ আপগ্রেডেশন সম্পন্ন হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকগণ উচ্চধাপে
বেতন নির্ধারণ করতে পারবে। এই প্রেস রিলিজে স্বাক্ষর করেন, রবীন্দ্রনাথ রায়, তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।’

যেসকল সরকারি কর্মচারী এক পদে ১০ বছর চাকরি করার পর একবারও পদোন্নতি পাননি, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার ক্ষেত্রে গত ১৬ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এর প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ গত ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় সরকারী কর্মচারীদের জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭ (১) এর অধীনে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে একটি পৃষ্ঠাংক ও হয়েছে ২১.০৯.২০২০ তারিখে।

তবে এ বিষয়ে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল, একই পদে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী ২ বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। হ্যা, তবে এরই মধ্যে একটি মাত্র টাইম স্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড পেলে নতুন স্কেলে শুধু একটি ‘উচ্চতর গ্রেড’ পাবেন।

ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীরা রিট করলে তা অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। অত্র বিষয়টি এখনও হাইকোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। তাই সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড কায়টা পাবেন এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে আপিল বিভাগ যতদিন পর্যন্ত কোনো রায় না দিতে পারবে, ততদিন অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

গত ২০১৫ সনে পদোন্নতি বঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুল আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পুরনো প্রথা জাতীয় বেতনস্কেল বাতিল করে। তবে নতুন বেতন-স্কেলে অটোমেটিক উচ্চতর গ্রেড প্রথা প্রবর্তন করা হয়। বেতনস্কেলে ২০১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭(১) অনুযায়ী কোনো কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এর মধ্যে একটি পাবেন চাকরির ১০ বছর পর ১১তম বছরে। অপরটি ১৬ বছর পর ১৭তম বছরে।

ফেসবুকে লাইক দিন