২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাপ্পি খানের গল্প : একটি বৃষ্টিভেজা রাত : ১ম পর্ব

রাত ১০টা। বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। কে যেন দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে বারবার। দরজা খুলে দেখি একটা মিষ্টি মেয়ে দাঁড়িয়ে! আমি একটা বড়সড় হোচট খেলাম। এমন ঝড় বৃষ্টির রাতে এত সুন্দর একটা মেয়ে কোথ থেকে এসে হাজির হলো।মেয়েটি আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়লো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছি শুধু। মেয়েটি ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছিল।নিশ্চয় অনেক্ষণ ধরে বৃষ্টিতে ভিজছিল। আমি দরজা লাগিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে বললাম, আপনি কে? কোথ থেকে আসলেন?
– পরে বলবো। আগে একটা তোয়ালে দিন। আমার ভীষণ ঠাণ্ডা লাগছে। আর আপনার বাসার মেয়ে লোকদের ডাকুন প্লিজ।
– বাসায় কোনো মেয়েলোক নেই। ইভেন আমি ছাড়া আর কেউই নেই এ বাড়িতে।
একথা শুনে মেয়েটি একটু চমকে উঠল। খানিকটা ভয় ফুটে উঠল চেহারায়। আমি বললাম, ভয়ের কিছু নেই। আপনি দাঁড়ান আমি তোয়ালে এনে দিচ্ছি।
এরপর ছুটে গিয়ে একটা তোয়ালে এনে দিলাম। বললাম, বাসার সবাই মিলি আপুর বিয়েতে গেছে।আগামী পরশু আসবে। আমিও কালকে বিয়ে বাড়িতে চলে যাবো। তবে আপনি ভয় পাবেন না।জামা কাপড় বদলে আসুন। আমার ছোট বোন নিঝুমের একটা কামিজ ও পায়জামা এনে দিলাম ওকে। মেয়েটি পাশের রুমে গিয়ে ভেজা জামা কাপড় বদলে আসলো। আমার রুমে এসে চুল মুছতে মুছতে বলল, থ্যাংকস।
– ঠিক আছে। এবার তো বলুন কোথা থেকে এত রাতে?
– আমি ঢাকা থেকে বগুড়া যাচ্ছিলাম। রাস্তায় হঠাৎ আমাদের বাসটা ব্রেকফেল করেছে। ওটা ঠিক করতে সময় লাগছিল সেই সময়ে এমন ঝড় বৃষ্টি।লোকজন ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক চলে গেছে।আমি ছুটে এসে একটা দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু দু তিনটা লোক সেখানে এসে আমাকে…..বলতে বলতে মেয়েটি একবার ঢোক গিলল। তারপর বলল, ওরা আমাকে বিরক্ত করছিল। খারাপ লোক বুঝতে পেরে সবকিছু ফেলে ছুটতে আরম্ভ করি। কিন্তু কোথাও কোনো বাড়ি চোখে পড়ছিল না। একদম ফাকা রাস্তায় আটকে ছিলাম আমরা। তারপর ছুটতে ছুটতে এই বাড়িটাই প্রথম চোখে পড়লো।

আমি বললাম, ভালো করেছেন। কিন্তু এ বাড়িতে তো আর কেউ নেই। আমি একা একটা ছেলে।আপনার আমাকে ভয় করছে না? মেয়েটি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল, না।আপনার চোখে ভালোমানুষি ছাপ আছে। আর আপনাকে মোটেও আমার খারাপ লোক মনে হচ্ছে না।
মেয়েটির কথা শুনে আমি হাসলাম। খুবই সহজ সরল একটা মেয়ে। কিন্তু দেখতে ভারী মিষ্টি। ওর বৃষ্টিভেজা চেহারা টা এখনো চোখের সামনে ভাসছে। মুখটা অসম্ভব মায়াবী দেখাচ্ছিল, ভেজা চুলে।

(২য় পর্ব আসছে…) আপনার লেখা গল্প আমাদের পত্রিকায় প্রকাশ করতে ইমেইল করুনঃ [email protected]

ফেসবুকে লাইক দিন