২৮শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

একটি আলোচনা : বিদ্যালয় কবে খুলবে, কবে পরীক্ষা হবে?

করোনা মহামারীর কারণে তিন দফা ছুটি বাড়িয়েছে ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবার সেই ছুটি চতুর্থবারের মতো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এই ছুটি পুরো অক্টোবর মাস জুড়েই বলবত থাকতে পারে। অর্থাৎ ধরে নেয়া যায় এই ছুটি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেবে। মূলতঃ অক্টোবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কোন স্বীকৃতি দেয়নি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটি’। আর একারণেই ছুটি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা আগামী ১৫ অক্টোবরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ১লা নভেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া। আর এ কারণে অক্টোবরকে বাদ দিয়ে আগামী নভেম্বর থেকে ৩৯ দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী-নেপ।

এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী অক্টোবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না, সে কারণেই নভেম্বর থেকে পঞ্চম শ্রেণীর কার্যক্রম শুরু করতে সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী পহেলা নভেম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কমিশন টার্গেট করে 39 দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনায় দেখা গেছে বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হলে পহেলা নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণীর কার্যক্রম। অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয় পহেলা নভেম্বর থেকে খুলে দেয়া হলেও সেখানে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণীর কার্যক্রম চলবে। বাকি শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে হবে না। শারীরিক দূরত্বও নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকের পরিকল্পনা হলো, ঘোষিত এই ৩৯ দিনের পাঠ পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়; তাহলে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর। তবে তা আরো একধাপ বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। কেননা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত জাতীয় টেকনিকেল পরামর্শক কমিটি করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোনভাবেই যেন স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার না হয় সেই পরামর্শ দিয়েছে। উক্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

উক্ত পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্ত মতে ছুটি আবারো বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক এর মত মাধ্যমিকেও পহেলা নভেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুধুমাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হবে কিনা এখনো জানাতে পারিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। চতুর্থবারের মতো বাড়ানোর কারণে আরো পিছিয়ে যাচ্ছে স্থগিত থাকা এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল অক্টোবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে নভেম্বরে শুরুতে এইচএসসি শুরু করার। কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেকোনোভাবে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রেজাল্ট দিতে চাই এমন পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এম. পি।

যাই হোক, ছুটি বাড়ানোর কারণে এইচএসসি পরীক্ষার নভেম্বরের শুরুতে তার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরীক্ষা নভেম্বরে পরিবর্তে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে আরো একমাস পিছিয়ে যাচ্ছে এবারের স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা। তবে এই সময়ের মধ্যে যদি করণা মহামারীর মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় না আসে অথবা মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত সিঙ্গেল ডিজিট এ না আসে তাহলে এইচএসসি পরীক্ষা আদোও নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে কিনা তা বলা মুশকিল।

তবে যেদিনই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক না কেন, পরীক্ষা শুরুর ১৫ দিন আগে রুটিন দেওয়া হবে। যদিও শিক্ষার্থীরা এক মাস আগে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে শিক্ষামন্ত্রণালয় এখনো একমাস নয় বরং তারা ১৫ দিন আগেই পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের সিদ্ধান্তে অটল। কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার কারণে হাতে সময় খুবই কম। এর মধ্যে যদি একমাস সময় দেওয়া হয় তাহলে পরীক্ষা শেষ করে রেজাল্ট প্রকাশ করতে আরো দেরি হবে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে। তাই এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা শুরুর ১৫ দিন আগে রুটিন প্রকাশের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এছাড়া পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা। যদি হয় তাহলে কোন কোন সাবজেক্ট কমানো হবে, এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাবজেক্ট কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে। এজন্যই শিক্ষার্থীদের উচিত হবে সব সাবজেক্টের উপর সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারণা করা হচ্ছে শীতকালে করোনা পরিস্থিতি আরো বাড়তে পারে।

তাই সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল খোলা ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে তাড়াহুড়া করে ঝুঁকি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। এ কারণে পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সঠিক সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন বলে আশা করছে সবাই।

আরো পড়ুনঃ প্রেস রিলিজ : অতিশীঘ্রই প্রাথমিক শিক্ষকরা উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন

শিক্ষকদের ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির আবেদনের নমুনা কপি

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ স্পষ্টিকরণ প্রজ্ঞাপন

ফেসবুকে লাইক দিন