২০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জের একজন প্রাথমিক শিক্ষকযোদ্ধা

জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মানিকগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ জেলার একজন সহকারী শিক্ষক আজ সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের করোনাকালীন সময়ের প্রথম থেকে ভার্চুয়াল জগতে নিজের মেধা, শ্রম ও প্রতিভার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

ইচ্ছে ছিল ব্যাংকার হবেন ।না হলে দেশের বাইরে গিয়ে পড়ালেখা করে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করবেন।
ঐ সব ইচ্ছে পূরণ এর চেষ্টার সাথে সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সকল ধাপ অতিক্রম করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ২০১০ সালে যোগদান করেন সৃজনশীল, অসাধারণ মেধাবী এ শিক্ষক।

প্রথম দিকে একটু আনমনা হলে ও পরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভালবাসা তাকে এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট করেন। নিজের মানবিকতা, আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও নিত্যনতুন উদ্ভাবনী সৃষ্টি দিয়ে তার স্কুল , উপজেলা, জেলা এবং বিভাগ ছাড়িয়ে সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের পজিটিভ ভাবে বদলে দিতে ভূমিকা রেখেই চলছেন।

আজ আমার লেখার বিষয় এই আলো ছড়ানো শিক্ষক এস.এম. রাব্বি কে নিয়ে।

২৫ শে মার্চ ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর হামলা করেছিল তেমন ৮ মার্চ করোনা নামক অদৃশ্য অপশক্তি আমাদের দেশে ধরা পড়ে। চারিদিকে আতংক, উৎকন্ঠা এবং ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়।

দেশের ভবিষ্যত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে বিদ্যালয় গুলি সরকার ১৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের কোন দিক নির্দেশনা দেওয়ার মতো সুযোগ ও ছিল না আকষ্মিক বন্ধে। সবাই ভেবেছে সাময়িক ছুটি। কিন্তু করোনার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বিদ্যালয়ের ছুটি ও দীর্ঘ হতে থাকে।

এমন পরিস্থিতি সরকার সংসদ টিভি তে ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নেন। এতে শিক্ষক হিসেবে এস এম রাব্বি ও বাছাই পর্বে ছিলেন।

সংসদ টিভি তে সুযোগ না হওয়াতে তার সাথে আরো যারা বাছাই পর্বে ছিলেন সবাই কে নিয়ে বাংলাদেশ আলোকিত প্রাথমিক শিক্ষক পেইজে লাইভ ক্লাস করার উদ্যোগ গ্রহণ করা টিমের তিনি অন্যতম একজন।

করোনার ভয়াবহতার প্রথম দিকে ভূমিকা পালন কারি শিক্ষকদের মধ্যে এস এম রাব্বি একজন করোনা যোদ্ধা। মানিকগঞ্জ জেলার জেলা প্রসাশকের নির্দেশনা , জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মানিকগঞ্জের পরিকল্পনায় ও উপজেলা শিক্ষা অফিস, মানিকগঞ্জ সদরের বাস্তবায়নে স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে প্রচারের জন্য তিনি ভিডিও ক্লাস তৈরি করে দিয়েছেন। শুরু থেকে এখন ও পর্যন্ত তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ওনার প্রতিভার আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছেন সারা দেশের লুকায়িত প্রতিভা গুলি কে।

করোনা কালীন সময়ে ওনার চারটি উদ্ভাবন সারা দেশে ব্যাপক প্রশংসিত ও আলোড়িত হয়েছে।

১। ফেইসবুকে লাইভ ক্লাস ফেস্টিভ্যাল: এই আইডিয়ার মধ্যেমে উৎসব উৎসব আমেজে শিক্ষকরা আনন্দের মধ্যে পাঠ নিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ও কাজে লাগছে পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে।

২। স্টোরি ফর গুড : এই ইনোভেশনের মাধ্যমে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের বিভিন্ন কার্যক্রম, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা কে তোলে ধরেন সারা দেশের শিক্ষকদের সামনে। সফল ও আলোকিত শিক্ষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

৩। প্রযুক্তি আড্ডা: এই ইনোভেশনের মাধ্যমে শিক্ষকদের আইসিটি তে দক্ষতা বৃদ্ধি তে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

৪| লিটল জিনিয়াস: যে ইনোভেশনের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রকাশিত ও লুকায়িত প্রতিভা গুলি কে বিকশিত হতে উৎসাহিত করছে সাথে সাথে অন্য শিশুদেরকেও উৎসাহিত করছে এবং শিশুদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বদ্ধ করছেন।

এসব ছাড়া ও তিনি আনন্দে ইংরেজি শিখি কার্যক্রমের জন্য সব সময় বিদ্যালয়ে ও অনলাইনে আনন্দায়ক ইংরেজী ক্লাস পরিচালনা করে থাকেন যা ইতিমধ্যে সারাদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

এস এম রাব্বি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন শিক্ষক। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সব সময় সহযোগিতা করে থাকেন। ২০১৭ সালে মানিকগঞ্জ জেলার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপের অন্যতম এডমিন হিসেবে প্রতিনিয়ত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি দূর করতে বিভিন্ন ট্রেনিং এর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পড়ার দক্ষতা উন্নয়নে Research Study তে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৭ সালে ইংলিশ-ইন-অ্যাকশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত টিচার্স ভয়েজ কনফারেন্সে অংশগ্রন করেন। তার Research Study টি Teachers Voices Conference জার্নালে প্রকাশিত হয়।

তিনি এতো সব কার্যক্রম পাশাপাশি নিয়মিত অনলাইনে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তের পরিকল্পনায় ও বাস্তবায়নে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ঘরে বসে শিখির শুরু থেকে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন।

এমন একজন প্রতিভাবান শিক্ষক যে সবাই কে আলোকিত করতে নিজের শ্রম, অর্থ এবং সময় খরচ করছেন হাসিমুখে। কোন প্রাপ্তির আশায় নয় যা করছেন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে।

আশা করি একদিন প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার এই কার্যক্রম এর জন্য তাকে সম্মানিত করে সংকটকালীন সময়ে ভূমিকা পালনকারী একজন শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা দান করে শিক্ষকদের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করবেন। এস.এম. রাব্বীর করোনাকালীন কার্যক্রমকে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকবৃন্দ সারাজীবন মনে রাখবেন।

-বিলকিছ আক্তার রুমা, সহকারী শিক্ষক, বয়ড়া ছালাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর ময়মনসিংহ।

আরও পড়ুনঃ চার পাঁচজন শিক্ষক একই পদে যেতে চাইলে সফটওয়্যার যাকে মনে করবে অনুমোদন দেবে

ফেসবুকে লাইক দিন