২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিনিয়রিটি, পদোন্নতি, টাইমস্কেল বাতিল, টাকা ফেরত, মূলবেতন কমল প্রাথমিক শিক্ষকদের

যখন জাতীয়করণ করা হয়নি, সে সময়ের চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল বাবদ নেওয়া টাকা অবশেষে ফেরত দিতেই হচ্ছে ২০১৩/২০১৪ সালে জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। নিয়ম বহির্ভূতভাবে তারা টাইমস্কেল নিয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কিছুদিন আগে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে এক নির্দেশে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছে, তাতে শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা অফিস সমুহ থেকে এ খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ খবর হল; এসব শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ পাওয়া টাকা ফেরতের নির্দেশন দিয়ে জারি করা হাইকোর্টের স্টে অর্ডারটিও স্টে করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এখন শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নিতে একাউন্স অফিসগুলাের কোনাে আইনি বাঁধা থাকল না।

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ সালে জাতীয়করণ কৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেসরকারি থাকা অবস্থায় চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়া হয়েছিল। সম্মতি না নিয়ে একাউন্স অফিসগুলাে থেকে শিক্ষকদের এভাবে টাইমস্কেল দেয়াকে নিয়ম বহির্ভূত বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ১২ আগস্ট ২০২০ তারিখে জারি করা এক আদেশে এসব শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ দেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সাথে সাথে নিয়ম ভেঙে প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল দেয়ার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ ও দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রিট মামলা করেন প্রাথমিক সমিতি ২ টি গ্রুপই। তার মধ্যে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (মহাসচিব, মুনছুর আলী) র সিঃ সহ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, বাগমারা রাজশাহী ও তার অনুসারীগণ এই আদেশের বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা করেন। যাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশটি স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের চিঠির ওপর দেয়া হাইকোর্টের স্টে অর্ডারটি ও স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশন।

এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সব ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস, ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অন্ড ফিনান্স অফিসার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং উপ মহানিয়ন্ত্রককে পাঠানাে এক চিঠিতে বেসরকারি আমলে চাকুরী কাল গণনা করে টাইম স্কেল পাওয়ায় শিক্ষকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। সেজন্য জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সোসাল মিডিয়ায় একজন শিক্ষক লিখেছেন, কিছু অর্থলােভী নেতার কারণে আজ সহজ সরল সাধারণ জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের এই দূরবস্থা। এই দায় নেতাদের এবং মামলাবাজ শিক্ষকদের নিতে হবে। আপনাদের বাড়াবাড়িতে সাধারণ শিক্ষকদের টাইমস্কেলের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। সবচাইতে নেতারা বেশি ভুল করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় বিরুদ্ধে মামলা করে; তাদের উচিত ছিলাে সরকারের সাথে আলােচনা করে সমাধান করা। কিন্তু উনারা সে পথে না গিয়ে মামলার পথে গেলেন। মামলা ছাড়া আপনারা ভাই, কিছু বুঝেননা! কি হলাে আজ আপনাদের স্থগিতাদেশ অর্ডারের উপর মহামান্য আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ/স্টে অর্ডার দিলাে।

উল্লেখ্যঃ সাধারণ শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা ভাষ্য অনুযায়ী তারা নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এই ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এই স্টে অর্ডারের উপরে স্টে অর্ডারের ফলে নব্য জাতীয়করণকৃত, যাদের ১৩/১৪ সালে নিয়োগ তাদের সিনিয়রিটি, পদোন্নতি ও টাইমস্কেল বাতিল হবে। অতিরিক্ত গৃহিত কয়েক লক্ষ করে টাকা ফেরত দিতে হবে। এর সাথে সাথে মূলবেতন ও কমে যাবে।
প্রাথমিকে ২৫ হাজার ৩০০ ও ১০ হাজারের বিশাল নিয়োগ

চার পাঁচজন শিক্ষক একই পদে যেতে চাইলে সফটওয়্যার যাকে মনে করবে অনুমোদন দেবে

বহিঃ বাংলাদেশ ও শ্রান্তি-বিনােদন ছুটি নিয়ে ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ বিধি

ফেসবুকে লাইক দিন