২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষক নেতৃত্বের কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু বাস্তবতা, কিছু প্রত্যাশা

আমরা যারা কোন না কোন শিক্ষক সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। আমরা কম বেশি শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে থাকি। এটা আমাদের দায়বদ্ধতা ও দ্বায়িত্ব বোধ থেকেই করে থাকি। এটা যে করতেই হবে এমন কোন কথা বা বাধ্যবাধকতা নেই। এটা কোন চাকরিনা যে, করতেই হবে। তার পরও আমরা যতটুকু পারছি আমাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছি। যা আপনারা বিভিন্ন পেপার পত্রিকা, সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন। এখনোও আমরা অনেক বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

যারা কাজ করে যাচ্ছেন ও করছেন শিক্ষকগণ তাদের সাথেই থাকবে আর যারা কাজ করতে পারেন না অথবা করছেন না স্বভাবতই শিক্ষকগণ তাদের এড়িয়ে যাবেন ও সমর্থন দিবে না। এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকগন কিন্তু বোকা নন তারা ভালো মন্দ সবই বুঝতে পারেন। তারা দেখছেন যে, কারা কাজ করছেন আর কারা কাজ করতে পারছেনা।

আমাদের সমাজে দেখা যায় যারা কাজ করতে পারে না, যাদের কাজ করার কোন যোগ্যতাও নেই। তারা লাফালাফি করে বেশি আলোচনা ও সমালোচনা করতেও সমান পারদর্শী। আমাদের শিক্ষক সমাজেও এর ব্যতিক্রম নয়। নিজে কাজ করতে পারেনা, কোথাও যাবার ক্ষমতা নেই। অফিস আদালতে ঢোকারও ক্ষমতা নেই অথবা কোন অবস্থাতে ঢুকতে পারলেও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের টেবিলে বসার ও আলোচনা করার সুযোগ পায়না। তারাই নানা প্রকার দোষ ত্রুটি নেতিবাচক মন্তব্য আলোচনা ও সমালোচনা করে থাকেন। কারন তাদের তো খেলার কোন জায়গা নেই। একমাত্র ফেসবুকেই তাদের খেলার মাঠ।
শিক্ষকগণ কিন্তু এদেরকে চিনে ফেলেছেন।

তাহলে শুনুন ক’দিন আগে টাইমস্কেল বঞ্চিত কিছু প্রধান শিক্ষক টাইমস্কেল জটিলতা নিরসন করার জন্য ঢাকাতে এসেছিলেন। ঢাকায় এসে তারা সচিবালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয়। ৩-৪ দিন ধরে সচিবালয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেও ভিতরে ঢুকতে পারেননি। অবশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ভিতরে ঢুকতে পারলেও মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারোর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে বিফল হয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি করে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এই হলো বাস্তবতা! নেতা সাজা সহজ কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়া এতটা সহজ নয়। রাতা-রাতি নেতা হওয়া যায়না। এর জন্য দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা ও প্রাকটিস লাগে।

অথচ আমরা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে ও অধিদপ্তরে যাচ্ছি, সিনিয়র সচিব, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত সচিব, উপ-সচিবদের সাথে শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি কথা বলছি। কোন সমস্যা নেই! মনে রাখবেন সমালোচনা করা যতো সহজ নেতা হওয়া এতোটাই সহজ নয় ।

শিক্ষকদের মধ্যে আমরা যারা কাজ করে যাচ্ছি, এরা তাদের সাহায্য সহযোগিতা না করে সবসময় বিরুপ মন্তব্য ও সমালোচনা এবং কাজের বাধাগ্রস্থ করে যাচ্ছেন। এদের কারণে আমরা অনেক পিছনে পড়ে যাচ্ছি। এই হলো বাস্তবতা। নিজে কাজ করতে পারেন না ঠিকই কিন্তু অন্যকেও করতে দিচ্ছে না।

এই সমালোচনাকারীদের অধিকাংশই
ঢাকা শহরও ভালো করে চেনেন না। এমন কি এরা বাংলাদেশের পাহাড় পর্বত, জঙ্গল, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করে থাকেন। এদের সাথে সমতলেরও কিছু শিক্ষক জড়িত আছেন। এরা অন্যের ভালো কাজ সহ্য করতে পারেন না। গঠনমূলক সমালোচনা না করে বিরোধিতার স্বার্থে কথা বলেন। আপনারা এদেরকে চেনেন ও জানেন। তাই শিক্ষক সমাজের প্রতি অনুরোধ আপনারা এদের থেকে সতর্ক থাকুন।

আমরা প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই সকল ভাইদের প্রতি অনুরোধ করছি। আপনারা এসব নোংরামি কাজ পরিহার করুন। আসুন আমরা প্রধান শিক্ষক সমিতির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা সব ভেদাভেদ ও কাঁদাছুঁড়া ছুড়ি না করে সমিতির হাতকে শক্তিশালী করি। প্রধান শিক্ষকদের, টাইমস্কেল, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, দশম গ্রেড, বেতন বৈষম্য সহ সকল প্রকার সমস্যার সমাধানের জন্য সকলে মিলে এক সাথে কাজ করি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

তাই আমি আপনাদেরকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি আসুন আমরা সবকিছু ভুলে যাই। সকল শিক্ষক মিলিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলি এবং শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি আদায়ে সচেষ্ট হই। আমরা নেতৃত্ব দিতে চাই না। আপনারা এগিয়ে আসুন, কাজ করুন ও নেতৃত্ব দেন। শিক্ষকদের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা যে কোন স্বার্থ ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছি।

আমার লেখায় যদি কিছু ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এ বিষয়ে সকল শিক্ষক ভাই ও বোনদের মতামত প্রত্যাশা করছি।

ধন্যবাদান্তে -মোঃ বদরুল আলম মুকুল।

৯.৩.১৪ থেকে টাইমস্কেল পাবেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা : পরিপত্র জারি

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদন্নোতিতে বয়স ও পরীক্ষা পদ্ধতি থাকবে না : অচিরেই পদোন্নতি

সরকারী কর্মচারীদের জিপিএফ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আরও পড়ুন

ফেসবুকে লাইক দিন