২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, বুধবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

ফেসবুকে অধিদপ্তর থেকে জারি করা চিঠি সম্পর্কে মন্তব্য করায় শিক্ষক বরখাস্ত

দৈনিক বিদ্যালয় : তুষার চৌধুরী, যশমাধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি বারহাট্টা, নেত্রকোনা এর সহকারী শিক্ষক। তাকে ফেসবুকে ২৭.১০.২০২০ তারিখে নিজ ফেসবুক আইডি থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে ২৭ অক্টোবর তারিখে স্মারক নং-৩৮,০০,০০০০.০০৮.১২.০০৭.১৬-৩৭৪ যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, সেই চিঠির বিষয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় সামমিয় বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য উক্ত চিঠিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যােগ্যতার সনদসমূহ সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য সকল শিক্ষককে সুযোগ প্রদান মুলক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বরখাস্তের চিঠিতে মো. ওবায়দুল্লাহ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, নেত্রকোনা স্বাক্ষরিত উল্লেখ করেন, জনাব তুয়ার চৌধুরী, সহকারী শিক্ষক, যশমাধব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারহাট্টা, নেত্রকোণা গত ২৭।১০।২০২০ খ্রি.তারিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) তার ব্যক্তিগত আইতি থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৮,০০.০০.০০৮.১২.৫০৭,১৬,৩৭৪ মূলে
জারীকৃত পত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যােগ্যতার সনদসমূহ সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুকরণ প্রসঙ্গে বিরূপ মন্তব্য এবং অবজ্ঞা করায় সরকারি কর্মচারী (শৃংলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি -৩ (খ)
অনুযায়ী তাকে অদ্য ২৮।১০।২০১৭ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলাে।

উক্ত শিক্ষক বরখাস্তকালীন সময় তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয় বরখাস্ত পত্রে।

উল্লেখ্য, উক্ত শিক্ষক তুষার চোধুরী তার স্টাটাসে যা লিখেছেন তা উল্লেখ্য করা হল, “নিয়মিত ক্লাস করেছেন, এবং নিয়মিত চাকুরি
করেছেন। একই ব্যাক্তি এক সাথে দুই জায়গায় উপস্থিত,সরকারি হিসাব মতে। শিক্ষক হাজিরাতে স্বাক্ষর করেছেন এবং কলেজে ছাত্র হাজিরায় ৬০% নুন্যতম উপস্থিতি ছাড়া, পরিক্ষা দিতে পারেন না। যা বিদ্যমান চাকুরি বিধি মালা, নিয়মিত উপস্থিতি বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক। বিপুল পরিমানের ঘুষ লেনদেন ব্যাতিত এই আদেষ জারি হতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।”

গত ২৭ অক্টোবর তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি প্রায় অবিকৃত ভাষায় এমন ছিল।

উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপযুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জানানাে যাচ্ছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সাধারণত চাকরিতে যােগদানকালে যে সকল সার্টিফিকেট জমা দেন তা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নিয়ােগকারী কর্তৃপক্ষের
অনুমতি নিয়ে শিক্ষাগত যােগ্যতা/প্রশিক্ষণ অর্জন করলে তাও সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অনেক শিক্ষক অধ্যয়নরত থাকাকালীন চাকরিতে যােগদান করেছেন এবং পরবর্তীতে চাকরিরত অবস্থায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন।

এছাড়াও, অনেক শিক্ষক নৈশকালীন/খন্ডকালীন কোর্স সম্পন্ন করেছেন কিন্তু অসচেতনতার কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমােদন গ্রহণ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমােদন ব্যতিরেকে যদি কোন শিক্ষক শিক্ষাগত যােগ্যতা/অভিজ্ঞতা অর্জন
করে থাকেন তবে উক্ত যােগ্যতা/অভিজ্ঞতা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়ােজন।

২। এমতাবস্থায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের শিক্ষাগত যােগ্যতার সনদসমূহ যাচাই করে। সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরােধ করা হলাে।

তবে, এখন থেকে শিক্ষাগত যােগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমােদন গ্রহণ করতে হবে।

উক্ত প্রজ্ঞাপনটি নাজমা শেখ, উপসচিব, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্বাক্ষরিত।

ডিবি/আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন