২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, বুধবার, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রাপ্তিতে বাঁধা সমুহ

পর্ব -০১

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সভাপত, বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষকসমিতি

দৈনিক বিদ্যালয় : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দকে দু’ভাগে বিভক্ত হওয়া নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার নামান্তর। কেউ টাইমস্কেল চাইবেন আর কেউ চাইবেন না, এমন হওয়া আত্মঘাতী। বকেয়া টাইমস্কেল আদায় না হলে প্রায় শতভাগ প্রধান শিক্ষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শামছুদ্দিন সাবেরার উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষক সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত

যারা টাইমস্কেল পেতে চাচ্ছেন, তাঁদের কথা,”আগে টাইমস্কেল, পরে অন্যকিছু।” এতে শতভাগ প্রধান শিক্ষকেরই স্বার্থ রক্ষা হয়।

যারা টাইমস্কেলের বিপক্ষে, তাদের কয়েকজনের কথা,”টাইমস্কেল দিয়ে কী করব? টাকা-পয়সা সুইপারেরও আছে, আগে সম্মান। ০৯.০৩.২০১৪ থেকেই দশম গ্রেড চাই।” প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহোদয় বলেছিলেন AUEO পদ নবম গ্রেড হলে প্রধান শিক্ষক পদ দশম গ্রেডের চিন্তা করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রধান নির্বাহী মহোদয়ের এ বক্তব্যে টাইমস্কেল বিরোধী অনেকেই দশম গ্রেডের দাবি থেকে সরে এসেছেন।

মাধ্যমিকে আলাদা বিভাগ নিয়ে সংসদে শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য

টাইমস্কেল বিরোধীরা এখন কামনা করছেন ১৪.১২.২০১৫ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক পদ এগারোতম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণির গ্যাজেটেড হয়ে যাক, যেন টাইমস্কেলপ্রাপ্তরা বঞ্চিত হয়। প্রধান শিক্ষক পদ ইতিমধ্যেই এগারোতম গ্রেডে অবস্থান করছে। শুধুমাত্র টাইমস্কেলের প্রাপ্যতা বন্ধ করতে এগারোতম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণির দাবি হাস্যকর, হিংসাত্মক, নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার সমান।

আইন অনুসারে দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোন টাইমস্কেল নেই। ০৯.০৩.২০১৪ থেকে ১১তম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণি হলেও তিনটি টাইমস্কেল প্রাপ্তরা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিদের সাথে ১১তম গ্রেডে নেমে আসবেন (কারণ এখনই দশম গ্রেড পাওয়ার কোন সুযোগ নেই)। এটি হলে টাইমস্কেলপ্রাপ্ত প্রশিদের হাজার হাজার টাকা বেসিক কমে যাবে এবং প্রত্যেককে লক্ষ লক্ষ টাকা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। আমার মনে হয় টাইমস্কেলপ্রাপ্ত কোন প্রশি’ই এটি মানবেন না। অন্যদিকে টাইমস্কেলের দাবিদার প্রধান শিক্ষকদের ১৪.১২.২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল হয়ে গেলে ১৪.১২.২০১৫ এর পর থেকে ১১তম গ্রেডে বা দশম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণি হলে, কোন সমস্যা বা ক্ষতি নেই।

সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডের আইবাস++ এ ফিক্সেশনের অগ্রগতি কতদূর

সপ্রাবি প্রধান শিক্ষকবৃন্দ কোন পথ বেছে নিবেন ভাবুনঃ

(1) টাইমস্কেলপ্রাপ্ত কিংবা প্রাপ্য প্রশিদেরকে টাইমস্কেলের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। তাহলে, খুব তাড়াতাড়িই ১১তম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণি হবে, কারণ এই মুহুর্তে দশম গ্রেড হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

৬ টি শর্ত মেনে প্রাথমিক শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ

অথবা,

(2) টাইমস্কেল বিরোধী প্রশি’রা ০৯.০৩.২০১৪ থেকে দশম গ্রেড দাবিতে করা রীট বা মামলা উঠাবেন অথবা ১১তম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণির গ্যাজেটেড রায় আনতে কামনা করবেন না। তাহলে খুব তাড়াতাড়িই টাইমস্কেল হবে। টাইমস্কেল বিরোধীদের কারণেই যেমন টাইমস্কেল পেতে বিলম্ব হচ্ছে, তেমনি দশম গ্রেড পেতে আরও বেশী বিলম্ব হচ্ছে।

যাঁরা টাইমস্কেলপ্রাপ্ত, তাঁরা অবশ্যই এ পদে সিনিয়র। প্রধান শিক্ষক হিসাবে জুনিয়ররা কেন সিনিয়রদেরকে টাইমস্কেল বঞ্চিত করে ঠকাতে চায়, বুঝতে বড়ই কষ্ট হয়।

টাইমস্কেল বিরোধীদেরকে বলছি, গোপনে টাইমস্কেলের বিরোধীতা না করে প্রকাশ্যে টাইমস্কেলের পক্ষে আসুন দেখবেন, রাত যত গভীর হয় ভোরের আলো তত নিকটবর্তী হয়, টাইমস্কেলের কাজ শেষ হলে অন্যান্য ন্যায্য দাবি সহজেই বাস্তবায়ন হবে।

টাইমস্কেল বিরোধীরা করোনা ভাইরাস মহামারীর সময়েও বসে ছিলেননা। তারা বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরি করে টাইমস্কেল বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন।

প্রাথমিকে প্রমোশনে মূল বেতন দুই হাজার দশ টাকা কম

টাইমস্কেল বিরোধীরা টাইমস্কেলের পক্ষে চক্রান্তমূলক বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি করে টাইমস্কেলের পক্ষের শিক্ষকদেরকে শান্ত রেখে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছিলেন যেন টাইমস্কেল প্রাপ্তি বন্ধ হয়।

টাইমস্কেলের আগে দশম গ্রেড অর্থাৎ ০৯.০৩.২০১৪ থেকে দশম গ্রেডের পক্ষে প্রচারকারী বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ, মিথ্যা তথ্য প্রচার হতে বিরত থাকুন। সবাইকে জানিয়ে দিন ০১.০৭.২০১৫ এর আগে অর্থাৎ ০৯.০৩.২০১৪ থেকে দশম গ্রেড নয় এগারোতম গ্রেডে গ্যাজেটেড হলেও

*০৯.০৩.২০১৪ থেকে ১৪.১২.২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাওনাদার প্রশিগণ টাইমস্কেল পাবেননা।

*০৯.০৩.২০১৪ থেকে ১৪.১২.২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল গ্রহণকারী প্রধান শিক্ষকগণকে টাইমস্কেল ফেরত দিতে হবে। ইতিমধ্যেই ফেরত নেয়া শুরু হয়েছে।

*০৯.০৩.২০২৪ এর পূর্বে কোন প্রধান শিক্ষকেরই দশ বছরের আপগ্রেড হবেনা। যিনি ২০০৮ সনে প্রশি পদে নিয়োগ পেয়েছেন, তিনি ২০১৮ সনে দশ বছরের আপগ্রেড পাবেননা।

*টাইমস্কেলের করেস্পোন্ডিং বাতিল হবে। প্রধান শিক্ষকদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে এবং বেসিক শতকরা প্রায় ত৩০-৩৫ ভাগ কমে যাবে।

*চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের পদ পেতে পিএসসি’র মাধ্যমে অনেক দেরি হবে।

*১০ম গ্রেডের মামলা বা ১১তম গ্রেডে দ্বিতীয় শ্রেণির দাবি সকল প্রধান শিক্ষকের ক্ষতির কারণঃ

>>আমরা যে যাহাই বলি না কেন,শিক্ষা বান্ধব সরকার সব সময় শিক্ষকদের স্বার্থের পক্ষে।

>>মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ০৯.০৩.২০১৪ খ্রিঃ তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদকে ২য় শ্রেণির ঘোষণা করেছিলেন। আবার প্রশিদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেই প্রশি পদকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ২০১৭ সনে আন্তঃ মন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রশিদের টাইমস্কেলের করেস্পোন্ডিং দেয়া হয়েছিল, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি ছিল। কাজেই নিশ্চিতভাবে বলা যায় সপ্রাবি প্রশি পদ এখন তৃতীয় শ্রেণির। সপ্রাবি প্রশিবৃন্দ প্রজাতন্ত্রের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ১৪.১২.৩০১৫ তারিখ পর্যন্ত টাইমস্কেল পাওয়া প্রধান শিক্ষকবৃন্দের অধিকার।

সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে কোটা বাতিল চেয়ে রিট

সম্মানিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মহোদয় এবং সম্মানিত মহাপরিচালক মহোদয়ও টাইস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকবৃন্দের স্বার্থের প্রতি সহানুভূতিশীল।

বিষয়টি ভেবে দেখার ও যথাযথ দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে বিনয়ের সাথে ১৪.১২.২০১৫ পর্যন্ত টাইমস্কেল বহাল রাখার পক্ষকে জোর অনুরোধ করছি।

-জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতি।

ডিবি আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন