২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

অসহায়ত্বের মৃত্যু এক শিক্ষকের : দায় নেবে কে?

দৈনিক বিদ্যালয় : শিক্ষকের স্ত্রী ও কন্যা দাবি করেন পেনশনের টাকা না পাওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত শিক্ষক মো. সানাউল করীম চিকিৎসাসেবা গ্রহণে অপারগ হওয়ায় তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। শিক্ষা অফিসের ঘুষ দূর্নীতির কাছে অসহায় হয়ে মৃত্যু বরণকারী আলোচিত এই শিক্ষক হলেন কিশোরগঞ্জের কালটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সানাউল করীম।

৪০% মহার্ঘভাতা ও দ্রুত পে-স্কেল গঠনের দাবিতে লিখিত আবেদন

ঘুষ দিয়েও পাননি নিজের পেনশনের টাকা। টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন তিনি।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চিলাকারা গ্রামের মো. সানাউল করীম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কালটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান। চলতি সনের ২০ মে তার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) ও শেষ হয়।

প্রসঙ্গ : ০৯.০৩.১৪ থেকে শিক্ষকদের টাইমস্কেল জটিলতা নিরসন

নিয়ম হল পিআরএল শুরু থেকেই পেনশন ফাইল প্রস্তুতির কাজ শুরু করা কিন্তু পিআরএল শেষ হওয়ার পরও পেনশন ফাইল প্রস্তুতির কাজ শুরু না হওয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত শিক্ষক দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। তার চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হলে দ্রুত পেনশন ফাইল নিষ্পত্তি করতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কামরুল হাসানের কথামতো দেনা করে তার হাতে ৫০ হাজার ঘুষের টাকা তুলে দেন। এরপর কামরুল আরও টাকার জন্য টালবাহানা করে এবং ফাইলটি আটকে রাখে।

মাধ্যমিকে আলাদা বিভাগ নিয়ে সংসদে শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য

এ দময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত শিক্ষক সানাউল করীম মারাত্মক অসুস্থ হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী হন। গত ১২ নভেম্বর রাতে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকাস্থ জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তির পর শুক্রবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এরপর শিক্ষকের মৃত্যুর খবরে দীর্ঘকাল পর দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফিক্সেশন রিভাইজের জন্য জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের কার্যালয়ে পেনশন ফাইল পাঠান সেই অফিস সহকারী কামরুল হাসান।

সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডের আইবাস++ এ ফিক্সেশনের অগ্রগতি কতদূর

অফিস সহকারী কামরুল হাসানের দাবি, নানা জটিলতার কারণে ফাইলটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা যাচ্ছিল না। সে সমস্ত জটিলতা শেষে চলতি সপ্তাহে ফাইলটি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তার কাছে ৫০হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর মেলেনি।

তিনি সময়মতো তার পেনশন ফাইলে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন এবং এতদিন আটকে রাখার এবং ঘুষ নেয়ার বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। এ ধরনের কথাটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামূল হক খানের।

এ বিষয়ে শিক্ষক মো. সানাউল করীমের মেয়ে স্মৃতি আক্তার (কলেজ পড়ুয়া) জানান, কী কারণ বলতে পারব না; কামরুল হাসান তাকে দেওয়া ঘুষ বাবদ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা আমাদেরকে ফেরত দিয়ে গেছেন এবং আগামী রোববার আবার অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বলেছেন। (ধারণা করা হচ্ছে সেই ৫০ হাজার টাকায় তার ভাগ ছিল ২০ হাজার টাকা। এবং বাকি ৩০ হাজার টাকা সে অন্য কোন সংশ্লিষ্টকে দিয়েছে।)

প্রাথমিকে প্রমোশনে মূল বেতন দুই হাজার দশ টাকা কম

এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ঘটনাটি নজিরবিহীন। এখন কয়েক দিনের মধ্যেই পেনশন কেস নিষ্পত্তি করা হয়। তিনি আরো বলেন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, দীর্ঘদিন পেনশন ফাইল আটকে রাখার বিষয়ে তদন্ত করে সেই অফিস সহকারীর শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া দ্রুত পেনশন ফাইলটি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ও করা হবে।

উল্লেখ্য বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষক ও সচেতন জনেরা। এবিষয়ে শিক্ষকরা বলছেন, সানাউল করীম এখানে প্রতীকী একজন শিক্ষক তবে ভোগান্তির শিকার অনেকে।

মৃত্যু কিশোরগঞ্জের কালটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সানাউল করীম

-ডিবি আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন