২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, শুক্রবার, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাথমিকের শিক্ষকরা কী এগারো ও দশম গ্রেড পাওয়ার যোগ্য নয়!

দৈনিক বিদ্যালয় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশভাবে জয় পায়। এই নির্বাচনের পূর্বেই শিক্ষকদের বড় দুটি আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। একটি ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে। শহীদ মিনারে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে টানা কয়েকদিন অনশনের পর এদিন সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৪০জন প্রাথমিক শিক্ষক। যাদের মধ্যে ১৭ জনকে ঢাকা মেডিকেলে এবং কয়েকজনকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন সে সময়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। অনশন ভাঙিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, ‘দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব সমস্যার সমাধান হবে। আপনারা ফিরে যান।’

স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে জানালেন জাতীয় পরামর্শক কমিটি

আন্দোলন ও মন্ত্রীর ওই আশ্বাসের পর কয়েক বছর কেটে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে নতুন মেয়াদে, বদল হয়েছে মন্ত্রীত্ব; পরিবর্তন হয়েছে প্রাথমিক অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অন্য সব পদও। কিন্তু শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা আজো ঠিক ঘোরেনি।

এর পর ২৩ অক্টোবর ২০১৯ সাল। শহীদ মিনারে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন তথা ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারনের দাবীতে শিক্ষকরা একত্রিত হতে চাইলেও সে পর্যন্ত না পৌছাতে পেরে দোয়েল চত্তরে সমাবেশ করে ১১তম গ্রেডের দাবিতে।

সেখান থেকে আরো প্রায় ২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে শিক্ষকদের সেই কাংখিত দাবি এখনো পূরণ হয়নি। মাঝখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সর্বশেষ ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত দিতে সম্মত হয়। যা শিক্ষকরা তার সুফল ভোগ করতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও আছেন কিছুটা সংশয়ে। এখন ও তার ফিক্সেশন হয়নি।

প্রাথমিকে যেভাবে মূল্যায়ন ও প্রমোশন দিতে হবে : জানালেন ডিজি

এছাড়া ১৩ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইসতেহারে স্পষ্টই উল্লেখ ছিল ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে, আগামী মেয়াদে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এখন আসা যাক শিক্ষকরা, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কি আসলেও ১১তম পাওয়ার অধিকার রাখে না কি রাখেনা? একই যোগ্যতা দেশের অন্য চাকুরীজীবীরা কে কত তম গ্রেডে আছে সেটি দেখে আসা যাক!

সরকারি অন্যান্য কিছু বিভাগে বা ডিপার্টমেন্টে যারা কর্মরত আছে তাদের শিক্ষাগত যােগ্যতা ও তাদের বেতন গ্রেডঃ

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএসসি পাস ও ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারী তারা পেয়ে থাকেন ১০ম গ্রেড। সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, এইচএসসি পাস ও ২বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারী তারা বেতন পেয়ে থাকেন ১০ম গ্রেডে। উপসহকারী মৎস কর্মকর্তা, যারা এইচএসসি পাদ ও ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারী তারা পেয়ে থাকেন ১১ তম গ্রেডে বেতন। উপসহকারী প্রকৌশলী এসএসসি পাস ও ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাধারূ তারা বেতন পান ১০ম গ্রেডে। সরকারি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট যারা এইচএসসি পাসে চাকুরী করছেন এবং ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা আছে তারা বেতন পান ১১ তম গ্রেডে। এছাড়া সহকারী ফরেস্টার এসএসসি পাস ও ৪বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা নিয়ে বেতন পান ১০ম গ্রেডে। এছাড়া সর্বশেষ স্নাতকধারী পদ ইউনিয়ন সচিবদের দশম গ্রেড দেওয়া হয়েছে।

১৫ থেকে ১১ গ্রেড পর্যন্ত বেতন হিসাব ২০১৫ জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী

এখন আসা যাক ভিন্ন একটি আলোচনায়। যা উপরের আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে স্বাধীনতা নিয়ে আসার মাত্র কয়েক বছর পরে একটি মাত্র ঘোষণায় ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করেন। এর ৪১ বছর পরে এসে বর্তমান ও সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু কন্যা ২০১৩ সালে ২৬ হাজারের বেশি নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় এক লক্ষের বেশি শিক্ষককে সরকারি করণ করেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের ভাইভা অনুষ্ঠানের তারিখ জানালেন এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ

এখন কথা হল, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীনতা পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতিময় সময়ে যদি ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করতে পারেন। তার কন্যা যদি পিতার ধারাবাহিকতায় ২৬ হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারেন। তবে তিনি কী জাতি গড়ার কারিগর প্রাথমিক শিক্ষদের জন্য সার্টিফিকের বুনিয়াদে যদিও দশম গ্রেড পান; শিক্ষকরা সেটিও চাচ্ছেন না। তার ও একধাপ নিচে ১১তম গ্রেড সহকারী শিক্ষকদের জন্য, প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১০ গ্রেড কী তিনি দিতে সদয় হবেন না! এমনটাই আর্জি জানায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী ও প্রধান শিক্ষকবৃন্দ। তাদের দাবী নির্বাচনী ইসতেহারে যে ন্যায্যতার কথা বলা হয়েছে সে ন্যায্যতা ১৩ ও এগারো গ্রেড নয়। আপাতত ১০ম ও এগারো তম গ্রেড। যা বঙ্গবন্ধু কন্যার পক্ষে শিক্ষকদের জন্য মুজিব শতবর্ষের সেরা উপহার হতে পারে।

বদলী আটকে যাচ্ছে শিক্ষকদের

-ডিবি আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন