১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, রবিবার, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যোগ্যতাহীন প্রাথমিকের ২৫০০ শিক্ষক চাকুরীচ্যুত হতে পারে

দৈনিক বিদ্যালয় : দেশে ২০১৩ সালে ২৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষককে জাতীয়করণ করে সরকার। যার মধ্যে চাকরিবিধি অনুযায়ী প্রায় ২৫০০ শিক্ষক এখনো শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণমূলক কাংখিত সার্টিফিকেট যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হননি।

এসকল শিক্ষকদের জাতীয়করণ করার পর তিন বছর সময় বেঁধে দেয়া হলেও অনেকে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সেই অযোগ্য ও ভুয়া সনদধারীদের তালিকা তৈরি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। উক্ত তালিকাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

জানাগেছে, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষকের চাকরি তিন ফেসে পূর্ণ সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যারমধ্যে ২ম ধাপে ২২ হাজার ৯২১, দ্বিতীয় ধাপে ১৭১৯টি এবং তৃতীয় ধাপে বেশ কয়েকটি এনজিও দ্বারা পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২ হাজার বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পূর্বের বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয়করণ হওয়া নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এইচএসসি পাস ও সিইনএড (সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন) এবং পুরুষ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি বা সমমান পাস ও সিইনএড কোর্স করতে বলা হয়।

শিক্ষকদের EFT ফরমে রাউটিং নাম্বার জানতে ব্যাংকে যাওয়া লাগবে না

শিক্ষকদের EFT নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর : নিজেই পুরণ করতে পারবেন

শিক্ষকদের EFT ফরম পূরণে ৩টি বিশেষ নির্দেশনা

এবং উক্ত যোগ্যতা অর্জনে তাদের জাতীয়করণের পর পাসের সময় বেঁধে দেয়া হয় ০৩ বছর। এ সময় পার হয়ে আরও এক বছর হয়ে গেলেও জাতীয়করণ হওয়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৪৯৬ জন শিক্ষক এখনো নিজেদের যোগ্যতা সম্পন্ন করতে পারেননি। তা সত্যেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন তারা।

এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ শিক্ষকদের অধিকাংশরাই চাকরির বয়সের শেষ সময়ে চলে এসেছে এবং তাদের অনেকের বয়দ এখন ৫০ থেকে ৫৫ ছুয়েছে। এছাড়া ৩৫ থেকে ৪৫ বছরের কিছু নারী-পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন, যারা এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে বেসরকারি স্কুলে চাকরি শুরু করেন। এরপর জাতীয়করণ হলেও তারা আর সে পদের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেননি।

উক্ত বিষয় নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জানতে চাওয়া হলে জানা জায়, নব্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য দেয়া নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে। এখন পিছিয়ে পড়াদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা অবসরে যাওয়ার পথে, তাদেরকে অবসরে পাঠানো হতে পারে, বাকীদের নতুন করে সময় বাড়ানো হতে পারে। সেই সময়ের পরও যদি তারা যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হন, তবে তাদের চাকরিচ্যুত করা হতে পারে! অধিদপ্তর সূচনা আরও জানা যায়, যেহেতু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে এসকল বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছিল, সেজন্য এবিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক এ এম মনসুর আলম বলেন, নব্য জাতীয়করণকৃত যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক ও প্রশিক্ষণের সনদ নেই, তাদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে; কেউ ভুয়া সনদে চাকরি করছেন কিনা তা দেখা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।তিনি আরও বলেন, কাংখিত যোগ্যতা অর্জনে নির্ধারিত সময় পার হলে গেলেও, কেউ কেউ তা থেকে এখনো পিছিয়ে রয়েছেন। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে
চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সময় বৃদ্ধি বা চাকরিচ্যুত করার যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিক্ষার সকল খবর জানতে dainikbidyaloy.com লিখে সার্চ দিন।

ফেসবুকে লাইক দিন