১১ই এপ্রিল, ২০২১ ইং, রবিবার, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে যেভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হবে

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক: বদলী বাণিজ্য বন্ধ ও হয়রানিমুক্ত করতে অবশেষে আগামী জানুয়ারি থেকে অনলাইন ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষক বদলির কার্যক্রম শুরু করতে চলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এ লক্ষ্যে তৈরি করা সফটওয়্যারটি ইতিমধ্যে ট্রায়াল শেষ করেছে বদলী সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। এপর্যায়ে সবার মতামত গ্রহনের জন্য পোর্টালটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সায় মিললেই জানুয়ারি থেকে বদলী কার্যক্রম শুরু করা হবে। এমনই তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানাগেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইএমইডি শাখা উক্ত সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে। গত ২৩ নভেম্বর অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি করার জন্য ডিপিই ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইএমইডি পরিচালক বদিয়ার রহমানকে আহ্বায়ক ও আইএমইডির কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার শরীফ উল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। যে কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: ডিপিই পলিসি ও অপারেশন বিভাগের উপপরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি।

উক্ত বদলী কমিটির সদস্যরা টানা এক মাস কাজ করে সফটওয়্যারের ট্রায়াল শেষ করেছেন। উক্ত ট্রায়াল চলাকালীন সময় দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার একজন করে শিক্ষকের তথ্য দিয়ে আবেদন করা হয় এবং অতীতে যেসব ক্যাটাগরিতে বদলির আবেদন করা হয় সব ক্যাটাগরির আবেদন নেওয়া হয়। এসময় অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা হতে পারে সেগুলোও চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়।

অনলাইনে বদলি ও সফটওয়্যারের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে যেয়ে উক্ত কমিটির সদস্য সচিব শরীফ উল ইসলাম বলেন, সফটওয়্যারের টেকনিকাল কাজ শেষে কয়েক দফা ট্রায়াল শেষ হয়েছে এবং সবার মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এরপর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী জানুয়ারি ২০২১ থেকে অনলাইনে বদলির কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।

এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন সফটওয়্যারে মাধ্যমে সারা বছরই বদলি কার্যক্রম চলবে। যখনই পদ ফাঁকা হবে তখনই আবেদন করতে পারবেন বদলি আগ্রহী প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চে মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত বদলি হওয়ার যে নিয়ম ছিল সেটি বন্ধ হয়ে গেল।

বদলী বিষয়ক নিয়ম জানতে চাওয়া হলে এ সংক্রান্ত কারগিরি কমিটি সদস্যরা জানান, নতুন এই সফটওয়্যারে একজন শিক্ষক তার পিন বা ই-প্রাইমারি সিস্টেম ব্যবহার করে OTP বা Authentication এর মাধ্যমে লগইন করে নিজস্ব UI বা User Interface এ প্রবেশ করে নিজের আবেদন নিজেই করতে পারবেন। প্রতিজন শিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের তথ্যাদি আগে থেকেই ডাটাবেইজে সংরক্ষণ থাকবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী শুধুমাত্র বদলির ক্ষেত্র আন্তঃউপজেলা, আন্তঃজেলা, আন্তঃবিভাগ এবং আন্তঃসিটি করপোরেশন এবং বদলির কারণ সিলেক্ট করে বদলির আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

উক্ত আবেদনের সঙ্গে পূর্বের মত মাসিক রিটার্ন, চাকরি বইয়ের ফটোকপি ইত্যাদি সংযুক্ত করতে হবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণপত্র, বদলির কারণ কিংবা প্রেক্ষাপটের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা ভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রাথমিকের শিক্ষকরা যা করতে পারবেন না

২টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ : ১৬ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি

বিদ্যমান বদলির নীতিমালার শর্তাবলীর আলোকে এমনভাবে সেট করা হয়েছে যেন অযাচিত কিংবা বদলির শর্তপূরণ করে না এমন কেউ আবেদনই করতে পারবে না। বদলীর ক্ষেত্রে শুন্যপদের সব তথ্য ডাটাবেজেই থাকবে তাই শিক্ষকরা আবেদনের সময়ই সব শুন্যপদ দেখতে পাবেন এবং এক বা একাধিক বিদ্যালয় বাছাই করে আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

বদলী আবেদনকারী সঠিকভাবে আবেদন সাবমিট করলে আবেদনের একটি পিডিএফ কপি এবং আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর সম্বলিত সিস্টেম জেনারেটেড একটি রিসিপ্ট পাবে এবং আবেদনকারীর মোবাইলে নোটিফিকেশন চলে যাবে। এছাড়া শিক্ষক পিন ব্যবহার করে লগইন করে যেকোনো সময় তার ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সফটওয়্যারে প্রতিটি ধাপে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনটি উপরের দিকে যেতে থাকবে এবং কোনো ধাপে অতিরিক্ত সময় লাগার কোনো সুযোগ থাকবে না। যদি কোথায়ও অতিরিক্ত সময় লাগে, সেক্ষেত্রে আবেদনকারী জানতে পারবেন যে, তার আবেদনটি কোন ব্যক্তি বা অফিসারের টেবিলে পড়ে আছে বা ছিল।

উক্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, এ সফটওয়্যারে আবেদনকারীর বদলির প্রেক্ষাপটের আলোকে সিস্টেম হতে অটোমেটিকভাবে স্কোর নির্ধারিত হবে। যার ফলে আবেদনকারী একাধিক হলে অগ্রাধিকার তালিকাও সিস্টেম থেকে অটোমেটিকভাবে তৈরি হবে। এর ফলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে অযাচিত তদবির ও চাপ কমে যাবে।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম পয়লা জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলে। জেলা ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ আবেদন পড়ে। এ বদলি নিয়ে প্রতি বছর অনিয়ম-দুর্নীতির প্রচুর অভিযোগ ওঠে। বদলির সময় ডিপিই ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালরা যোগসাজশ করে বদলি বাণিজ্যে লিপ্ত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এবিষয়ে আরো জানা গেছে, অনলাইন ভিত্তিক এই বদলি কার্যক্রমে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি যথা, প্রতিবন্ধী, গুরুতর অসুস্থ ও বিবাহ বিচ্ছেদ বা বিধবা নারী, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা অপশন রাখা হয়েছে।

শিক্ষার খবর জানতে dainikbidyaloy.com লিখে সার্চ দিন। শিক্ষার প্রিয় খবর ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ এর সাথে থাকুন।

ফেসবুকে লাইক দিন