২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, মঙ্গলবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকুরী ১০বছর হলেই উচ্চতর গ্রেড : জেনে নিন বিস্তারিত

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক : যে সকল সরকারি কর্মচারীদের চাকরির বয়স ১০ বছর হয়েছে তাদের উচ্চতর গ্রেড দিতে আর কোনো বাধা নেই। হ্যা, তবে একই পদে ১০ বছর চাকরি করা অবস্থায় কোনো পদোন্নতি বা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড একবারও পাননি তারাই শুধু এ সুবিধা পাবেন। এ ধরনের কর্মচারীদেরকে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এবিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি যেসব কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর একবারও পদোন্নতি পাননি তাদের ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে গত ১৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ গত ১৩ সেপ্টেম্বর হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক (সিজিএ) র নিকট চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ এর অনুচ্ছে ৭ (১) এর অধীনে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে আর কোনো বাধা নেই।

এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল একই পদে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। হ্যা, তবে এরই মধ্যে একটিমাত্র টাইম স্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন স্কেলে শুধু একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

আরও পড়ুন : প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন পে‌তে আর কতদিন লাগবে

এখানে উল্লেখ্য যে, সরকারি চাকুরীতে নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ খুবই সীমিত। সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি বঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুল আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পুরাতন প্রথা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ সালে বাতিল করেছ এবং নতুন বেতনস্কেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড প্রথা প্রবর্তন করে।

উক্ত বেতন স্কেলে ২৯১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭.১ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। যার মধ্যে একটি পাবেন চাকরির ১০ বছর করার পর ১১তম বছরে এবং অপরটি পাবেন ১৬ বছর পর ১৭ তম বছরে।

কিন্তু মূল পে-স্কেলে এ বিধান রাখার পরও এ সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা না থাকায় এতো দিন এটি কার্যকর হয়নি।

উল্লেখ্য, মূল পে-স্কেলে দেওয়া উল্লেখিত নিয়ম কার্যকর করতে স্পষ্টীকরণের ব্যাখ্যা দিয়ে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগে একটি পরিপত্র জারি করে। অবশ্যই সেই পরিপত্রের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীরা একটি রিট ও করে।

এরপর সরকারি চাকরিজীবীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের দেওয়া পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এবিষয়ে আদালত বলেছে, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ করে দেওয়া ব্যাখ্যা মূল পে-স্কেলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর ফলে এ সংক্রান্ত প্রদত্ত পরিপত্রটি অবৈধ। এরপর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে আপিল করলে বিষয়টি বর্তমান আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন