২১শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, বুধবার, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বেতন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৯০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: জিটুপি বা গভর্নমেন্ট টু পার্সন পদ্ধতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকের সকল শিক্ষকরা ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে বেতন পাবেন। এলক্ষে সকল সরকারি প্রাথমিক শিক্ষককে আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য এন্ট্রি করতে বলা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল শিক্ষকবৃন্দ ইএফটি ফরম পূরণ করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চাকরির অন্যান্য কাগজ-পত্র যথা বয়স ও নামের মিল না থাকা, বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না করা, শিক্ষকের নাম না থাকা ইত্যাদি কারণে ৮১ হাজার ৯৪৬ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং এসকল শিক্ষক কবে থেকে আবার বেতন পাবে তাও এখনো অনিশ্চিত। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এমনটা জানা গেছে।

এছাড়া ৮১ হাজারের বাইরে আরও ৮ হাজার ৪২২ জন শিক্ষকের কোন ধরনের তথ্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে এসকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইএফটি সফটওয়্যার এর মাধ্যমে অটোমেশন পদ্ধতিতে বেতন ও ভাতা পেতে জটিলতার সম্মুখীন হবে।

জানাগেছে গত ১৬ মার্চ অর্থ বিভাগের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ অ্যান্ড কো-অর্ডিরেটর সমন্বয়কারী বিলকিস জাহান রিমি, যুগ্মসচিব এসব প্রাথমিক শিক্ষক দ্রুত তালিকাভুক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রক হিসাবরক্ষক বা সিজিএ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠির মাধ্যমে এসকল তথ্য অবগত করিয়েছেন।

এসপিএফএমপি বা পাবলিক ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে মোট ২ লক্ষ ১৬ হাজার ১৫২ জন শিক্ষকের বেতন ইএফটিতে দেওয়া হয়েছে। এবাদে ৬৯ হাজার ৯৯২ জন প্রাথমিক শিক্ষকের বেতন ও ভাতা এখনো ইএফটিতে দেয়ার আদেশ অপেক্ষমাণ অবস্থায় আছে।

পূর্বে উল্লেখিত এসপিএফএমপি এর তথ্যমতে, দেশে মোট ৬৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া সরকারি বেতনভুক্ত মোট ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৬ জন শিক্ষক রয়েছে। এর মধ্যে ৮১ হাজার ৯৪৬ জন শিক্ষক গত ৭ মার্চ পর্যন্ত ইএফটিতে কোন তথ্য প্রদান করেননি। জানাগেছে এসকল শিক্ষকবৃন্দের জন্ম সনদ, বয়স, নাম ও বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষকের নাম ইত্যাদি তথ্যগত ভুল আছে। যার মধ্য থেকে অনেকেই এসকল ভুল সংশোধনের নিমিত্তে প্রাথমিক শিক্ষা অফিদপ্তর বরাবর আবেদন ও করেছে। সেকারণে তারা ইএফটিতে আবেদন ও করতে পারেননি।

এর বাহিরে থাকা বাকি ৩ লাখ ৬২ হাজার শিক্ষকের মধ্যে আইবাস সফটওয়্যারে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষক তথ্য এন্ট্রি হয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১৪৪ জন শিক্ষকের তথ্য এন্ট্রি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিস অনুমোদন করেছে। এছাড়া তথ্য এন্ট্রি করেও থানা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় ৬৭ হাজার শিক্ষক। বাকি ৮,৪২২ জন শিক্ষকের তথ্য এখনও এন্ট্রি হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে দেশে এখনো ৩,১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারিভাবে কোন ধরনের গেজেট, প্রজ্ঞাপন কিংবা বিজ্ঞপ্তি না থাকায় জিটুপি পদ্ধতিতে এসব বিদ্যালয়ের নাম আইবাস++ এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রশ্ন আসেনি। যারফলে এসকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইএফটির মাধ্যমে বেতন ও ভাতা পেতে জটিলতার সম্মুখীন হবে বলে এসপিএফএমপি বা পাবলিক ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম জানিয়েছে।

এক্ষেত্রে অবশ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসকল বাদপড়া শিক্ষকদের তথ্য সংশোধন করে এবং ইএফটিতে তথ্য এন্ট্রি করে এসপিএফএমপিকে জানাতে বলা হয়েছে।

এবাদেও উপজেলা ও থানা পর্যায়ে ইএফটি ডাটাবেজে তথ্য এন্ট্রির অপেক্ষায় থাকা ৬৭৮৫৩ জন শিক্ষকদের তথ্য দ্রুত অনুমোদন, ৮, ৪২২ জন শিক্ষকের আসল তথ্য ও ৬৯, ৯৯২ জন শিক্ষক যারা ইএফটির জন্য অপেক্ষমাণ তাদের তথ্য দ্রুত দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে যেসব বিদ্যালয়ের গেজেট, প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি নেই সেসব বিদ্যালয়ের ও তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক জানান, আশা করছি ইএফটির ব্যাপারে খুব শিগগিরই জটিলতা কেটে যাবে এবং তিনি শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার বিষয়ে দুঃখও প্রকাশ করেন।

এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষক আছেন যাদের ইএফটিতে তথ্যগত ঝামেলায় বেতন পেতে সমস্যা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষকের সমস্যা সমাধানও হয়েছে। আশাকরি বাকিদেরও খুব দ্রুত সমাধান করা যাবে।

ইএফটিতে তথ্যগত ভুলের কারণে বেতন প্রাপ্তিতে শিক্ষকদের ঝামেলায় পড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, যেহেতু বেতনের বিষয়। সেহেতু দ্রুত তথ্যগত সমস্যা কাটিয়ে যেন দ্রুত এসকল শিক্ষকরা ইএফটিতে বেতন পেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন দৈনিক বিদ্যালয়, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে।

-ডিবি আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন