২৬শে জুলাই, ২০২১ ইং, সোমবার, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

মৃত্যুর মিছিল : দেশে বিদেশে এপর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা জেনে নিন

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস এর তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ কোটি ৫৪ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

এই সংখ্যা নিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী এই মহামারিতে এ পর্যন্ত ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী নিট সংখ্যায় এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ কোটি ৫৪ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৭৩ জন। যার মধ্যে ২৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬০ জনের এতিম মৃত্যু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১০ কোটি ১২ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৩৬ জন করোনা রোগী।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস এর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দেশ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৭ লক্ষ ৪২৯২ জন। এবং সেখানে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট পাঁচ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪২২ জন করোন রোগীর।

বৈশ্বিক ভাইরাস করোনা আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২২ লক্ষ ২৭ হাজার ১৭৯ জন। যার মধ্যে এপর্যন্ত ৩ লক্ষ এক হাজার ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৩ জন। যার মধ্যে এক লক্ষ ৬০ হাজার ৭২৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে।

এ পর্যন্ত আমাদের দেশ বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষ ৮০ হাজার ৮০৮ জন। যার মধ্যে ৮ হাজার ৭৬৩ জন রোগীর ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৯০ হাজার ১২৫ জন। যার মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৬ জন আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। উৎপত্তি স্থান চিনের করোনা রোগীর সঠিক সংখ্যা নির্ণয় নিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ ও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, বুদ্ধি ও বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনও মানুষ এই প্রকাশিত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন।

এখানে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক রি করোনা ভাইরাস। এক সময় এসে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির আক্রমনের হার কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর আক্রমণের হার বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে এটাকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডব্লিউএইচও।

আরো উল্লেখ্য, বৈশ্বিক এই মহামারির প্রথম সময় থেকেই মার্কিনীরা দাবি করে আসছে, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের ভূমিকা রয়েছে। সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবিকে আরও জোরালো করে উপস্থাপন করে চীনের উহানের ল্যাবের এক ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ানের বক্তব্য। তিনি বলেন, চীনের একটি ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। এবং এটি যে মানুষের তৈরি সে বিষয়ে বলে তার কাছে শতভাগ প্রমাণ ও রয়েছে। এছাড়া হংকংয়ে জন্ম নেওয়া একজন ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ান পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাকে চীন হত্যা করতে চেয়েছিল বলে এই ভয়ে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকাতে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন।

এছাড়া কভিড ১৯ বা করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার শুরুর দিকের সময়কার মূল তথ্যগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বা ডব্লিউএইচও এর তদন্ত দলকে সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানায় উৎপত্তি স্থল চীন। তাদের দেওয়া সেই তথ্যগুলো বিস্তারিতভাবে না দিয়ে তারা সারমর্ম আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হ্যা তবে আশার কথা হচ্ছে, এরইমধ্যে করোনার একাধিক টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে এবং মানুষ সে ঠিকা গ্রহণ ও করছে। তবে ভয়ের বিষয় হল করোনায় দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ ইতিমধ্যে তান্ডব চালাচ্ছে।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন