২১শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, বুধবার, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাস্তবায়ন ও কমিটি গঠন

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক প্রিয় সহকর্মী বৃন্দ, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। দীর্ঘ দিন ধরে আমরা টাইমস্কেল বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের শুধুই টাইমস্কেল পাওয়ার বিষয়ে মিথ্যা আশার বানিই শুনিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুধুই আশার বানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কাজের কোনই অগ্রগতি নেই, কেবলি মিথ্যা আশ্বাস।

যেমন কেউ বলছেন টাইমস্কেল পেতে একহাত দুরে, কেউ বলছেন আগামী মাসেই হয়ে যাবে। আবার কেহ বলছেন টাইমস্কেলের জন্য ৭দিনের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কেউ বলছেন টাইমস্কেল নিয়ে কোন মামলা নেই কজলিষ্টে মালার তালিকায় নাম নেই। সব ভুয়া কথা, এইসব কথা বলে কউ আবার নতুন করে মামলা করে এলেন এবং বলতে শুরু করে দিলেন যে, অচিরেই আপনারা টাইমস্কেল পেয়ে যাবেন। তাদের এসব অপরিপক্ব মামলা খারিজ হয়ে গেলেও তা কুট কৌশলে তারা গোপন করে রাখছেন। যা শিক্ষকদেরকে বুঝতে দিচ্ছেন না।

আবার মাঝে মধ্যে বলছেন টাইমস্কেল আদায়ের চাবিকাঠি আমার হাতে কিন্তু চাবিকাঠি কি? তা কখনো প্রকাশ করছেন না। নানা প্রকার মিথ্যা ও ছলতাচুরি করছেন।

এরা শুুধুই এহেন মিথ্যা আর অসত্য সংবাদ পরিবেষণ করে শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন যা খুবই দুঃখজনক। এদের থেকে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে!

আবার বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলছেন বঞ্চিত প্রধানগণ একহন, আমরা আগামী সপ্তাহে ঢাকাতে আপনাদের নিয়ে বসতে চাই প্রতি জেলা থেকে দুজন করে বঞ্চিত শিক্ষকের নামের তালিকা পঠান। এরা দুএক মাস পরপর এভাবে ষ্ট্যাটাস দেন কিন্তু তাদের বলা পর্যন্তই, শেষ কাজের কাজ কিছুই না। এদের মতিগতি বুঝা খুবই কঠিন । কেবলি বিভিন্ন প্রকার কথার ফুলঝুরি। কাজের বেলায় শুন্য।

এদের সবারই আসল উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন সুতোই গাথা তাহলো আমাদের টাইমস্কেল মামলার শুনানি নিয়ে সাধারন শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও কাল ক্ষেপন করা।

তারা চাইনা আমাদের মাধ্যমে বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকগণ তাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করুক বা পাক।

তাই আমি বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকের ব্যথা অনুভব করে ও তাদের না পাওয়ার কষ্টের কথা বিবেচনা করে, প্রধান শিক্ষকেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য গত ১৫ মার্চ ঢাকাতে প্রধান শিক্ষকদের একটা সর্বজনীন মিটিং আহ্বান করেছিলাম।

আমার এ আহবানে সাড়া দিয়ে সমগ্র দেশ থেকে প্রধান শিক্ষকগণ ও বিভিন্ন সমিতির নেতৃবৃন্দ সভাতে উপস্থিত হন।

সভা শেষে সবার মতামতের ভিত্তিতে বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদেরকে নিয়ে আমরা সর্বদলীয় ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী টাইমস্কেল বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে দিয়েছি। বিশেষ প্রয়োজনে এই কমিটি সংযোজন ও বিয়োজন করা যাবে। এছাড়াও কারোর ভালো কোন পরামর্শ থাকলে আমরা তা সাদরে গ্রহন করবো। টাইমস্কেল বাস্তবায়ন কমিটি বিভিন্ন জেলাতে অলরেডি তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রধান শিক্ষকদের বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের পাশে দাড়ানো এবং প্রত্যেক জেলাতে কমিটি গঠনে তাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করার জন্য আমি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি।

আমাদের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে তা সমালোচনা না করে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিন। আমাদের ন্যায্য পাওনা পেতে সহযোগিতা করুন।

টাইমস্কেলের পাশাপাশি আমরা প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড, পদোন্নতি সহ সকল প্রকার সমস্যার সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছি। এসকল বিষয়ে আপনাদের সহযোগীতা ও পরামর্ষ কামনা করছি।

ধন্যবাদান্তে, মোঃ বদরুল আলম মুকুল, সভাপতি,
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি।

-ডিবি আর আর।

আরও পড়ুন : প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে গমন প্রসঙ্গে

মাধ্যমিকের পর এবার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের আদেশ জারি

ফেসবুকে লাইক দিন