২৭শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, বুধবার, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শুধুমাত্র সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ১ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে বেকার যুবকেরা

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: সার্টিফিকেট অথবা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি জামানত হিসাবে গণ্য করিয়ে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণ পারবেন নতুন বেকার উদ্যোক্তারা। মাত্র ৪% সুদে ২১ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৫ বছর বয়সী উদ্যোক্তারা এই ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।

২৯ মার্চ, গত সোমবার উক্ত শর্ত দিয়ে ‘স্টার্ট আপ’ উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণ নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

উক্ত নীতিমালার আওতায় ‘স্টার্ট-আপ’ বলতে বুঝায় বাজারজাত করণের লক্ষ্যে নতুন পণ্য, সেবা, প্রক্রিয়া বা প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও অগ্রগতি।

তবে শর্ত হল, এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকৃত সমাধানগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিস্তৃতিযোগ্য হতে হবে। এছাড়া, ব্যবসায়িকভাবে টেকসই, বাণিজ্যিকভাবে সফল বিনিয়োগকারীদের ওপর অনুপাতহীন আয় সৃষ্টি করে, যা সফল হলে দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বাড়বে ও সম্পদ বাড়বে, এমন নতুন ও সৃজনশীল ব্যবসায়িক উদ্যোগে এই ঋণ মিলবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়।

এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকই তাদের গ্রাহকদের এই পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ মূলক চুক্তি করতে পারবে। এবং প্রত্যেক ব্যাংক যে পরিমাণ ঋণ দেবে তার ১০% নারীগ্রাহকদেরকে দিতে হবে।

এই নীতিমালার আওতায় একজন ঋণ গ্রাহক সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। তবে এই ঋণ গ্রাহকদের এককালীন সময়ে দেওয়া হবে না। কাংখিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর ভিত্তিতে ন্যূনতম ৩ কিস্তিতে এই ঋণ ছাড় দেবে ঋণ ব্যাংক।

এই ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শূন্য দশমিক ৫০% সুদে তহবিল। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩.৫০% সুদ যোগ করে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৪% হারে সুদ আদায় করতে পারবে। সরল সুদে এই নীতিমালার ভিত্তিতে এই ঋণ দেওয়া হবে।

হ্যা, তবে এই উদ্যোক্তাদের থাকতে হবে সরকারি কিংবা অনুমোদিত বেসরকারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনা, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি বিষয়ে অথবা অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে (পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, যন্ত্রপাতি মেরামত প্রভৃতি) সাফল্যজনকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহনের সনদ।

আর যদি প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা না থাকে সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোগ পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে। এই ঋণ সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য পাওয়া যাবে। এছাড়া গ্রেস পিরিয়ড হবে সর্বোচ্চ ১ বছর। ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হলে তিন মাসে বা ছয় মাসে কিস্তি আকারে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। 

এবং একই গ্রাহক একাধিক প্রকল্প বা একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে না। প্রতিজন গ্রাহক একবার মাত্র এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে।

হ্যা তবে প্রথমে ১ কোটি টাকার কম যদি ঋণ নেয়, তবে পরে প্রকল্পের সম্ভাবনা বিবেচনায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বাড়ানো যাবে। এই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জামানতের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা উভয়পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির অঙ্গীকারনামাই ব্যক্তিগত গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচিত হবে। ২ জনের বেশি ব্যক্তিগত গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

এছাড়া ডিগ্রিধারী উদ্যোক্তা শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ অথবা কারিগরি প্রশিক্ষণের সনদ জামানত হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক পর্ষদের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ থেকে জারি করা নীতিমালার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে একটি স্টার্ট-আপ ফান্ড গঠন ও এর নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ২০২১ সালের পর থেকে পরবর্তী ৫ বছরে প্রতিবছর তাদের পরিচালন মুনাফা থেকে ১% স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের অনুকূলে বিতরণের লক্ষ্যে তহবিল আকারে সংরক্ষণ করবে এবং তহবিলের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিলের নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ‘স্টার্ট-আপ’ উদ্যোগে ঋণ সহজলভ্য করতে এই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন