২১শে এপ্রিল, ২০২১ ইং, বুধবার, ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নিবন্ধনধারীদের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করার নিয়ম

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)। এই বিজ্ঞপ্তি বেসরকারি, কলেজ, মাদারাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এন্ট্রি লেভেলের ৫৪ হাজার ৩০৪টি পদের জন্য।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৪ঠা এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

৫৪ হাজার ৩০৪ পদে শিক্ষক নিয়োগের যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তার বিপরীতে এমপিওভুক্ত শুন্য পদ আছে ৪৮ হাজার ১৯৯ টি। এবং ননএমপিওভুক্ত পদ আছ ৬,১০৫ টি। এরমধ্যে আবার ২,২০৭ টি এমপিও পদে রিটে অংশগ্রহণ করা নিবন্ধনধারীরাও আবেদনে করার সুযোগ পাবেন।

এই গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করতে হলে http://ngi.teletalk.com.bd অথবা www.ntrca.gov.bd সার্চ করে আবেদন করতে হবে। ফরম পূরণ সঠিক হলে আবেদনকারীর মোবাইলে টাকা জমা দেওয়া সহ এসএমএসের মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশনা পাঠাবে NTRCA। এবার আবেদনেকারীর জন্য আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ১শত টাকা।

এবার আসা যাক, যেভাবে আবেদন করবেন নিবন্ধনধারীরা।

১. আবেদনকারীর যোগ্যতা কী হবে: আবেদনকারীকে আবশ্যই এনটিআরসিএ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধনধারী এবং সমন্বিত মেধাতালিকাভুক্ত হতে হবে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা সর্বশেষ জনবলকাঠামো অনুযায়ী কাংখিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে।

২. আবেদনকারীর বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে ৩৫ বছর বা তার চেয়ে কম হতে হবে। বেশি হলে চলবে না। তবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইনডেক্সধারী প্রার্থী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মামলার রায় অনুযায়ী ১২.৬.২০১৮ সালের আগে যাঁরা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ লাভ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য হবে।

৩. আবেদনের সময়সীমাঃ অনলাইনে Application ফরম পূরণ ও ফি জমা প্রদান শুরু ৪ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শুরু।

এছাড়া অনলাইনে Application জমা প্রদানের শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত।

৩০ এপ্রিল রাত ১২টার পর শুধু Application আইডি যারা পাবেন, তারাই শুধুমাত্র ওই সময়ের পরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তথা ৩রা মে রাত ১২টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবেন।

৪. আবেদনের ফি কত টাকা: নিবন্ধনধারীদের আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে ১০০ টাকা করে ফি জমা দিতে হবে। এই নির্ধারিত হারে ফি জমা না দিলে আবেদনটি বাতিল হবে।

অবশ্যই অনলাইনে আবেদন ও ফি জমা দেওয়াসংক্রান্ত নিয়ম টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট এবং NTRCA এর www.ntrca.gov.bd ওয়েবসাইটে দেখা যাবে।

৫. সতর্কতা ও বিশেষ পরামর্শঃ প্রত্যেকটি পদের জন্য প্রাপ্ত সকল বৈধ আবেদনকারী অনলাইনে সফলভাবে আবেদন পেশ করার পর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ম্যাসেজ পাবেন। এ ছাড়া আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে দাখিল করা আবেদনের একটি প্রিন্ট কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

নারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদের জন্য শুধু নারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। নারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরুষ প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়া যেসকল পদের বিপরীতে ‘নারী কোটা’ লেখা দেখাবে, সেসব পদে শুধু নারী প্রার্থীরা আবেদন করবেন। বাকি সব পদে নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন ফরমটি সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। কারণ, ফরম পূরণ শেষে একবার আবেদনপত্র সাবমিট করা হয়ে গেলে তা কোনোভাবেই সংশোধন করা যাবে না।

আরও পড়ুন : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ভোকেশনাল : ৪ ধরনের শিক্ষক পদ সৃষ্টি

প্রধান শিক্ষক হতে এখন থেকে নতুন যোগ্যতা

এবার বাড়িতে বসেই এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ

শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট জমাদান বিষয়ক পরিপত্র অধিদপ্তরের

নিবন্ধন সনদধারী অনলাইন বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত তাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয় বা বিষয়সমূহের বিপরীতে তালিকায় বর্ণিত সব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। তবে একাধিক প্রতিষ্ঠানের একাধিক পদে আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই পছন্দের সিরিয়াল উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রার্থীর পছন্দের ক্রমানুসারে মেধাক্রম অনুসরণ করে মাত্র একটি পদের বিপরীতে তাঁর নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ জনবলকাঠামো অনুযায়ী প্রার্থীকে অবশ্যই কেবল তাঁর শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লেখিত বিষয় সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করতে হবে।

এছাড়া আবেদনকারী কোন মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও পরবর্তীতে সেই সুপারিশ বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৬. নিয়োগে নির্বাচিত বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হবে: প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আবেদনগুলো সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সমন্বিত জাতীয় মেধাতালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ সুপারিশের জন্য বাছাই করে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বরাবর সুপারিশপত্র প্রেরণ করা হবে। এছাড়া নির্বাচিত প্রার্থীকে এসএসএমের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।

নিয়োগ সুপারিশে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুপারিশকৃত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ অনুযায়ী সেই সকল প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিংবডি বাতিলকরা হবে।

তথ্যসূত্র : এনটিআরসিএ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। বিশেষ কৃতজ্ঞতা : মো. শাকিরুল ইসলাম, প্রভাষক, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।

-ডিবি আর আর।

ফেসবুকে লাইক দিন