২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, মঙ্গলবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

তিনি একজন প্রাথমিক শিক্ষক

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: করোনা পজেটিভ হওয়ায় মায়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। আর সেই মাকে বাঁচাতে নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেল যোগে হাসপাতালে ছুটছেন ছেলে। এমন ছবি মূহুর্তেই ভাইরাল হয়।

গত ১৭ এপ্রিল, শনিবার ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের ট্রা‌ফিক সা‌র্জেন্ট তৌ‌হিদ টুটুল এ সংক্রান্ত ছ‌বি ফেসবু‌কে পোস্ট করেন। যে ছবিটি বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছিল।

ছবি তোলাত বিষয়টি নিয়ে সার্জেন্ট তৌ‌হিদ বলেন, ১৭ই এপ্রিল দুপুরে তার ডিউটি ছিল বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায়। এদিন দুপুর ৩টার দিকে তিনি দেখতে পান মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি এক নারী আরোহীকে নিয়ে যাচ্ছেন। যার পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা এবং আরোহী নারী সেই সিলিন্ডার থেকে নল দিয়ে অক্সিজেন নিচ্ছেন।

এ দৃশ্য দেখার পর কর্তব্যরত সার্জেন্ট মোটর সাইকেলটিকে না থামিয়ে চলে যাওয়ার সঙ্কেত দেন। তবে সেই দৃশ্যটিকে তিনি তার নিজ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ছবিটিকে তিনি ফেসবুকে তার নিজ আইডি থেকে পোস্ট করেন।

সার্জেন্ট তৌহিদ আরও জানান, করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই তিনি সেই ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।

পরে ছবিতে থাকা ২ জনের ঠিকানা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠী শাখার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান এবং পেছনে বসা ছিলেন তার মা রেহানা পারভিন। তিনি নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। থাকেন ঝালকাঠী জেলার নলছিটি পৌর শহরে।

শিক্ষিকা রেহানা পারভিন কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন এবং শনিবার দুপুরে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ছেলে জিয়াউল হাসান তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোটরসাইকেলে করে ভর্তির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এবিষয়ে অসুস্থ রেহানা পারভিনের বোনের ছেলে নাঈম হোসেন সূত্রে জানা যায়, তার খালার করোনা সন্দেহ হলে গত মঙ্গলবার শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। সেই নাঈম আরও জানান, তার খালা রেহানা পারভিন বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কিন্তু হঠাৎ করে শনিবার সকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর দুপুরে শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয়।

লকডাউনের কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়ার মতো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার কেউ কেউ করোনা রোগী শুনে তাদের গাড়িতে নিতে রাজি হচ্ছিল না। সেজন্য কোনো উপায়ান্তর না দেখে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে যান ব্যাংকার জিয়াউল।

উক্ত শিক্ষিকা বর্তমানে মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন এবং এখন তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল আছে বলে জানা গেছে।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন