১৭ই অক্টোবর, ২০২১ ইং, রবিবার, ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড সকল শর্তের বাঁধামুক্ত এখন

ছবিতে : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালেহা মুক্তা

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক : : ১৩ তম গ্রেডে পরিপত্র হয় ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী। সেখান থেকে প্রায় দেড় বছর সময়কাল অতিবাহিত হয়ে যায়। প্রাথমিক সময়ে ছিল সংশয় ১৩ তম গ্রেডে প্রাথমিকের যারা উন্নত ডিগ্রিধারী নয় (স্নাতক পর্যায়ে ২য় শ্রেণি নেই) তারা বাদ পড়ছেন।

এমন সংশয়ের আগুনে পেট্রোল ঢালে একটি পরিপত্র। সেই বেতন বিষয়ক পরিপত্রে উল্লেখ্য, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। এছাড়া কোন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রী ও থাকতে হবে।

এছাড়া এর আগে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যের মাঝে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে বলে ঘোষণা দেন।

সেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য ১১তম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে এবং ৩ লাখ ৮২ হাজার সহকারী শিক্ষককের জন্য ১৩ তম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় দেড় বছর সময়কাল অতিবাহিত। শিক্ষকরা ১৩ তম স্কেলের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণের ফিক্সেশন না হওয়ায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত উন্নত স্কেলের বাড়ি ভাড়া ও বৈশাখি ভাতা কম পেয়েছে প্রতিজন শিক্ষক।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের দাবির মুখে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২৬ এপ্রিল ২০২১ তারিখের এক পত্রাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড (উন্নীত স্কেল) এ বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম অনতিবিলম্বে সম্পাদনের নিমিত্ত মাঠ পর্যায়ে কর্মপরিকল্পনা প্রেরণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা জারি করে।

সেই নিদর্শনায় আগামী ১০ মের মধ্যে আইবাস প্লাস প্লাস-এ বেতন ফিক্সেশনের জন্য নির্দেশ পাঠানো হয়।

কিন্তু ১৩ তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশন দ্রুত না করতে পারার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আইবাস++ সফটওয়্যারে একটি অপশন আছে, যাতে স্নাতক ২য় শ্রেণির বাধ্যতামূলক। এই অপশনটি থাকার কারণে সকল শিক্ষক ১৩তম গ্রেডের ফিক্সেশন করতে পারছিলেন না। এজন্যই ১৩ তম গ্রেডের ফিক্সেশনে দেরি হচ্ছিল।

এরপর আজ ২৯ এপ্রিল আইবাস++ এ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অবশেষে ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণে কোনও শিক্ষকের বাধা থাকলো না।

আইবাস++ সফটওয়্যারে সবার বেতন ফিক্সেশন করার অপশন যুক্ত করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি, মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ থেকে আইবাস++ সফটওয়্যারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক বেতন ফিক্সেশন করতে পারছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যে বাধ্যবাধকতা ছিল তা আর নেই। তিনি বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে যাদের স্নাতক তৃতীয় শ্রেণি আছে তারাও ১৩ তম গ্রেডে ফিক্সেশন পূর্বক বেতন পাবেন। এখন স্নাতক তৃতীয় শ্রেণির সনদধারীদের সার্টিফিকেট ও জমা দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই।

শামসুদ্দিন মাসুদ আরো বলেন, এইচএসসি ও এসএসসি সার্টিফিকেটে নিয়োগকৃত শিক্ষকরাও ১৩ তম গ্রেড পাবেন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্নাতক তৃতীয় শ্রেণি থাকলেও শিক্ষার উপরে ১ ও দেড় বছরের সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা আছে সকল চাকুরীস্থায়ী করণকৃত শিক্ষকদের। আর এজন্যই ১৩ তম গ্রেড দিতে আর কার্পণ্য করল না প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন : বাড়িভাড়া, বৈশাখী ভাতা স্থায়ী বঞ্চিত : ৫২ কোটি টাকা ঈদবোনাস কম পাচ্ছে শিক্ষকরা

উপবৃত্তি ও কিট এলাউন্স পেতে শিক্ষার্থীদের তথ্য অন্তর্ভুক্তি শুরু ৯ মে

ঈদের আগে ৬ মাসের উপবৃত্তির টাকা পাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন