২০শে জুন, ২০২১ ইং, রবিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা কয়েকগুন বাড়ানোর সুপারিশ

প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা

ডিবি ডেস্ক :: দেশের করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা কতটুকু, এমন এক গবেষণা বিষয়ক তথ্য এনাউন্সমেন্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ১০ মে, সোমবার ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-বিআইজিডি’ ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার-পিপিআরসি।

মূলত তারা যৌথভাবে পরিচালিত একটি গবেষণার ফল ঘোষণার জন্য এই অনুষ্ঠানে কথা বলেন। যে গবেষণাটি পরিচালিত হয় গ্রাম ও শহরে থাকা প্রায় ৬০৯৯ জন অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে। এতে একটি জরিপটি গত ১১ থেকে ৩১ মার্চ তারিখ পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়।

সেই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কথা বলেন দুই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার। একজন হলেন, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। আরেকজন হলেন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন।

আরও পড়ুন : শুরুতেই প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ২৯ হাজার

১০ মে এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশনের নির্দেশ

ঈদের আগে ৬ মাসের উপবৃত্তির টাকা পাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সেখানে তারা বলেন, এদেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাখরচ বেড়েছে ১২ গুণ। যার ফলে শিক্ষার সুযোগ প্রাপ্তিতে সংকট তৈরি হয়েছে। এরফলে, বিদ্যালয়গামী ছেলে শিশুদের ক্ষেত্রে ৮% ও বিদ্যালয়গামী মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে ৩% শিশু কোনো না কোনো উপার্জনমুখি কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলে যেখানে শহরের তুলনায় মানুষের আয় ফিরে পাওয়ার ও কাজ করার ভালো সুযোগ আছে, সেই শহরাঞ্চলেও এই হার বেশি।

উপরোক্ত তথ্য সমুহ পিপিআরসি ও বিআইজিডি এর সেই যৌথ গবেষণার মাধ্যমে পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে।

এই অনুষ্ঠানে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান শিক্ষাখাতে অভিভাবকদের উপর সন্তানদের শিক্ষায় খরচের চাপ কমাতে দেশে প্রচলিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বৃত্তিপ্রদান কর্মসূচিকে শিক্ষা খরচ হিসেবে ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়।

পিপিআরসি চেয়ারম্যান তথ্য-বিবরণী থেকে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ পূর্বক বলেন, ২০২১-২০২২ সালের অর্থবছরের বাজেটে ২৯৬০ কোটি টাকা সরবরাহ করেও সরকার বেশ দ্রুতই এই খাতে অর্থসংস্থান করতে পারে। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি হিসাবে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর থেকে করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে দরিদ্রতার রূপ কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা জানতে পিপিআরসি এবং বিআইজিডি যৌথভাবে পুরো দেশজুড়ে তিনধাপে একটি টেলিফোন জরিপ করে। যে জরিপ্টি ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত এটি পরিচালিত হয় এবং তার ফলাফল আজ ঘোষণা করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে গবেষণার ফল হিসাবে শিক্ষা খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির টাকা ১০০ থেকে ৫০০ করার প্রস্তাব করা হয়।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন