২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, রবিবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য : কারোর বেড়েছে ৪২৫০ কারোর ৬২ হাজার

বেতন বৈষম্য এর চিত্র

ডিবি ডেস্ক :: বৈষম্যেরও একটা সীমা থাকা চাই। বিশ্বের কোন দেশে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এমন বৈষম্য বিরল। কারোর বেতন বৃদ্ধি ৩৭.৫% কারোর আবার ২.৫% হারে।

চলুন আলোচনা করা যাক, দেশের সরকারি কর্মকর্তা বনাম কর্মচারীদের মধ্যে যে বৈষম্য বিরাজমান সেটি নিয়ে।

#১৯৭৩ সালে প্রদত্ত পে স্কেল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পে স্কেল পর্যালােচনা করলে দেখা যায় যে, ১৯৭৩ সাল থেকে বর্তমান পে স্কেল পর্যন্ত গ্রেড প্রথম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রতিটি পে স্কেলে বৈষম্য বাড়তে বাড়তে চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

#পে-স্কেল ২০১৫ তে কী-কী বৈষম্য বিদ্যমান?

এবার আসুন দেখে নেওয়া যাক ২০১৫ সালের দেওয়া পে স্কেলে এই বৈষম্যের চিত্রটা কেমন। ২০১৫ সালের পে স্কেলে দারুণ সুকৌশলে নিন্মগ্রেডের তথা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সকল কর্মচারীদের ঠকানাে হয়েছে।

এই পে স্কেলে কর্মকর্তাদের বেতন ১৬০০০ (ষোল হাজার) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮০০০ (আটাত্তর হাজার) টাকা করা হয়েছে। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ৮২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ
১২৫০০ টাকা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেড়েছে মাত্র ৪২৫০ টাকা।

অন্যদিকে ১০ম গ্রেড থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়ানো হয়েছে (৬২০০০) বাষট্টি হাজার টাকা। এখানে বৈষম্যের চিত্রটা একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবার আসুন শতভাগে কতটুকু ঠকছে কর্মচারীরা সেই চিত্রটা একটু দেখে আসা যাক।শতাংশে হিসাবে দেখলে আরও বুঝা যাবে এই বৈষম্যটা।

২০১৫ সালের পে-স্কেলে কর্মকর্তাদের ১২৫০০ থেকে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত শুধুমাত্র মূল বেতনে ১০তম থেকে ১ম গ্রেডে প্রতি ধাপে প্রায় ২০.৪ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে মূল বেতনে ২০.০৪% বেতন প্রতি প্রমােশন এ বৃদ্ধি পায়। গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি ২০% এর অধিক হওয়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি ৫%। ইনক্রিমেন্ট বা যে কোন প্রকার ফিক্সেশনের তাদের আর্থিক সুবিধা বেশি হয়ে থাকে যারফলে তারা প্রমােশন পেতে অনুপ্রাণিত হন।

এছাড়া কর্মচারীদের জন্য ৮২৫০ থেকে ১২০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুধুমাত্র মূল বেতনে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রতি ধাপে প্রায় গড়ে ৪.২৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে মূল বেতনে ৪.২৮% বেতন প্রতি প্রমােশন এ বৃদ্ধি পায়।

চলমান পে-স্কেলে বেতন বৈষম্যের চিত্র

কর্মচারীদের গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি ৪.২৮% এর অধিক হওয়ায় বার্ষিক ৫% ইনক্রিমেন্ট বা যে কোন প্রকার ফিক্সেশনের তাদের আর্থিক সুবিধা খুবই নগন্য হয়। যার ফলে তারা প্রমােশনে অনুপ্রাণিত হন না বরং বদলিজনিত বিরম্বনার ভয়ে তারা প্রমোশন নিতে চাননা।

এজন্যই সময়ের প্রয়োজনে ও দেশের দ্রব্য মূল্যের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মচারীদের দাবী হল; এই তীব্রতর বেতন বৈষম্য মূলক পে-স্কেল রহিত করে নতুন বৈষম্যহীন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে ও কর্মচারীদের কাজে অনুপ্রাণিত করতে নতুন পে-স্কেল গঠন করে এই বৈষম্যের নিপাত করা।

এবার একটু দেখে নেওয়া যাক দেশের শিক্ষকবৃন্দ যাদের এখনো অনেকের ১৩ তম গ্রেডে বেতন উন্নত হয়নি তাদের প্রতি ধাপে কত টাকা বেতন বৃদ্ধি পায়। ১৫তম গ্রেডে চাকুরী শুরু করে এদেশের শিক্ষকরা। সে হিসাবে তাদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে এই পে-স্কেলে ৪.৩০% হারে। এরপর এর আগে দক্ষতা বৃদ্ধি মূলক ট্রেনিং সি-ইন-এড বা ডিপিএড এর প্রশিক্ষণ শেষে তাদের একধাপ বেতন উন্নত হত। এই পে-স্কেলে সেই বেতন বৃদ্ধির ফলে উচ্চধাপে বেতন ফিক্সেশন না হওয়ায় সেক্ষেত্রে মূল বেতন থেকে আরও কমে যায়। যা নিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা বহুদিন ধরে লেখালেখি করে আসছে। এছাড়া চলমান পে-স্কেলে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের এই বেতন বেতনের বৈষম্য ও অনেক।

এছাড়া ১৩তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশন হলে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি হবে ৭.৮৪%। যাতে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি পাবে অতি নগন্য হারে।

-ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন