২০শে জুন, ২০২১ ইং, রবিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

মাধ্যমিকে প্রকল্প ভিত্তিক নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি : দায়িত্ব বাড়বে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের

এনসিটিবি : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক

ডিবি ডেস্ক :: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিততে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে-এনসিটিবির সভায় সম্প্রতি এক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আর তা হল ‘প্রকল্প ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি’।

সেই সভা থেকে জানা যায়, দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা পদ্ধতি বা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে। আগামী ২০২২ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তুরে এই ‘প্রকল্পভিত্তিক শিখন পদ্ধতি’ প্রবর্তিত হবে। যে শিখন পদ্ধতিতে পরীক্ষায় ২০% নাম্বার থাকবে মূল্যায়নের জন্য। এর বাহিরে বাকি ৮০% যেমন আছে এমন পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে শিক্ষার্থীদের।

এই প্রকল্পভিত্তিক শিখন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের রূপরেখার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

একটি সূত্র থেকে জানাগেছে, প্রকল্প ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকের দেওয়া নানা সমস্যা বাস্তবজীবন ও পারিপার্শ্বিকতার আলোকে সাক্ষাৎকার ও সরেজমিনে দলবদ্ধ কাজের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সমাধানে প্রস্তাব করে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করবে। এছাড়া পুরোনো পাঠ্যক্রম বা সিলেবাসে মূল্যায়ন ব্যবস্থার একটি অংশ প্রবর্তনে নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্যাকেজ’।

আরও পড়ুন : জুনে পুলিশে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : শিক্ষাগত ও শারীরিক মাপে পরিবর্তন আসছে

১৩ তারিখে কী আসলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে?

মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীদের তথ্যছক পূরণ সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা

মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডির ৭টি নির্দেশনা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য, অধ্যাপক মশিউজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, পুরোনো শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ২০% নম্বরের ব্যবস্থা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আগামী ২০২১ সালেও পুরোনো শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই যাবে। তাতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। যাতে প্রকল্পভিত্তিক শিখন পদ্ধতি যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের শিখনফল মূল্যায়নে বাকি সব পদ্ধতি পূর্বের মতোই থাকবে। এছাড়া ক্লাস টেস্ট, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ধরম একই রকম থাকবে।

এই প্রকল্প পদ্ধতি কেমন হবে? সে বিষয়ে একটু পরিস্কার করে এনসিটিবির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, এই পদ্ধতিতে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের গ্রুপে ভাগ করে দেবেন। এরপর প্রত্যেক গ্রুপকে কাজ ভাগ করে দেবেন। শিক্ষার্থীরা বাস্তবসম্মত, অপেক্ষাকৃত জটিল প্রশ্ন, চ্যালেঞ্জ অনুসন্ধান, সমাধান করার জন্য নির্ধারিত সময়ে হাতে-কলমে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবে। এছাড়া এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সূক্ষ্মচিন্তনশক্তি অর্জন, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা, সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহ বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা অর্জন করবে।

এবিষয়ে আরো জানাগেছে, এই রূপরেখায় সর্বোচ্চ ৭০% ও সর্বনিম্ন ৫০% নাম্বারে প্রকল্পভিত্তিক শিখন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। অবশ্য এই পদ্ধতিতে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান না রাখাসহ আরও কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতির একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে খসড়া তৈরি হয়েছে। যাতে দেখা গেছে, দশটি মূল বিষয়বস্তুর উপর ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এসব বিষয়ে প্রজেক্ট ঠিক করবেন শিক্ষক।

এ শিখন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে শিখনকালীন সময়ে। যার ৫০% করবেন শিক্ষক আর বাকিটা করবে শিক্ষার্থী সহপাঠীরা। যথা পারগ শিক্ষার্থীর দ্বারা মধ্যমান বা নিম্নমান শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন। এতে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা ভালো-মন্দ বিচার করবে এবং তার ভিত্তিতে নম্বর প্রদান করবে। এতে কুইজ, লিখিত অ্যাসাইনমেন্ট, উপস্থাপনাও থাকবে এবং শ্রেণি শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন ক্লাস বা কোর্স চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে।

২০২২ সাল থেকে এই পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য হল, শিক্ষাক্রমের রূপরেখার সঙ্গে শিক্ষক এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরিচয় ও অভ্যস্ত করা। এ জন্য শিক্ষকদের অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষম দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।

মূলতঃ এই ‘প্রকল্প ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি’ হল শিক্ষা প্রশিক্ষণের ভাষায় গাঠুনিক মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি। যা কোন কোর্স চলাকালীন বা প্রতিটি ধাপে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। তবে এই পদ্ধতির সাথে বাস্তব ভিত্তিক যোগ্যতা অর্জন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সাধনে দারুন উপাদেয় হবে।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন