২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, মঙ্গলবার, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

৪৮ হাজারের বেশি প্রাথমিক শিক্ষক টাইমস্কেলের জন্য আদালতে যাচ্ছেন

প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল

ডিবি ডেস্ক :: দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ হাজারের বেশি শিক্ষকের টাইমস্কেল জটিলতায় আদালতের রিট খারিজের আদেশের বিপক্ষে আপিল করতে যাচ্ছে শিক্ষকরা।এ সকল শিক্ষকের সংখ্যা মোট ৪৮ হাজার ৭২০ জন।

এসকল শিক্ষকবৃন্দ যারা ২০১৩-১৪ সালে জাতীয় করণকৃত হয়েছিল তারাই। যাদেরকে নব্য জাতীয়করণকৃত বা নব্য সরকারি শিক্ষক হিসাবে বলা হয়ে থাকে।

এবিষয়েটি নিয়ে ৪ জুন শুক্রবার ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবী জানান, শিক্ষকদের পক্ষে টাইমস্কেল সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এবিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি শেষ করেছি। চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি নিয়ে আপিল করা হবে।

আরো সংবাদ : প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশন সহজ করতে উদ্যোগ গ্রহন

প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিনে যা খেতে দেওয়া হবে

উপবৃত্তি বাবদ ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় : শিক্ষার্থীরা টাকা পাবে যখন

এখানে উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ সালে যারা জাতীয়করণকৃত হয়েছিলেন তাদের টাইমস্কেলের টাকা ফেরত প্রদানের একটি রিট চলতি বছরের মার্চ মাসে হাইকোর্টের বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খারিজ করে দেন।

জানাগেছে এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে ২০১৩-১৪ সালের জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইম স্কেলের টাকা ফেরত সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র নিয়ে করা রিটের শুনানিতে জারি করা রুল শুনানি শেষ হয়। পরে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে শিক্ষকদের পক্ষের আইনজীবী বলেন, ২০২০ সালের ১২ আগস্ট তারিখে নব্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইম স্কেল সুবিধা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। যার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষকরা রিট করেন। তখন হাইকোর্ট বিভাগ পরিপত্রটি স্থগিত করে ফের রুল জারি করেন।

যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তথা অর্থ মন্ত্রণালয় আপিল বিভাগে আবেদন করে। এরপর ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। পরে স্থগিতাদেশ তুলে দিতে শিক্ষকরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এরপর ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ৩ সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলেন। পরে আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাসে রিট আবেদনটি খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য হলঃ

এর আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তারা টাইমস্কেল নিয়েছে বলে জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। তারপর হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে এক নির্দেশে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠানো হয়, সেই চিঠিতে শিক্ষকদের বেতন পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

এরপর জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ পাওয়া টাকা ফেরতের নির্দেশন দিয়ে জারি করা হাইকোর্টের স্টে অর্ডারটিও স্টে করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যার পর থেকে শিক্ষকদের বেতন থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নিতে একাউন্স অফিসগুলাের কোনাে আইনি বাঁধা ছিল না।

এবিষয়ে ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ সূত্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে জাতীয়করণ কৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেসরকারি থাকা অবস্থায় চাকরিকাল গণনা করে টাইমস্কেল দেয়া হয়েছিল। এই প্রদত্ত টাইমস্কেলকে সম্মতি না নিয়ে একাউন্স অফিসগুলাে থেকে শিক্ষকদের এভাবে টাইমস্কেল দেওয়াকে নিয়ম বহির্ভূত বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ১২ আগস্ট ২০২০ তারিখে জারি করা এক আদেশে এসব শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাবদ দেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সাথে সাথে নিয়ম ভেঙে প্রাথমিক শিক্ষকদের টাইমস্কেল দেয়ার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ ও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ১২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে রিট মামলা করেন প্রাথমিক সমিতি ২ টি গ্রুপই। তার মধ্যে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (মহাসচিব, মুনছুর আলী) র সিঃ সহ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, বাগমারা রাজশাহী ও তার অনুসারীগণ এই আদেশের বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা করেন। যাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশটি স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের চিঠির ওপর দেয়া হাইকোর্টের স্টে অর্ডারটি ও স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশন।

এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সব ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস, ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অন্ড ফিনান্স অফিসার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং উপ মহানিয়ন্ত্রককে পাঠানাে এক চিঠিতে বেসরকারি আমলে চাকুরী কাল গণনা করে টাইম স্কেল পাওয়ায় শিক্ষকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। সেজন্য জেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই স্টে অর্ডারের উপরে স্টে অর্ডারের ফলে নব্য জাতীয়করণকৃত, যাদের ১৩/১৪ সালে নিয়োগ তাদের সিনিয়রিটি, পদোন্নতি ও টাইমস্কেল বাতিল হবে। অতিরিক্ত গৃহিত কয়েক লক্ষ করে টাকা ফেরত দিতে হবে। এর সাথে সাথে মূলবেতন ও কমে যাবে।

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি তারিখে সারাদেশের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষকের টাইমস্কেল সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে করা রিট মামলা তিন সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তারই ধারাবাহিকতায় এই রুলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয়করণকৃত ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষককে টাইম স্কেলের এ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এবং এ বিষয়ক মামলায় যদি উল্লেখিত শিক্ষকবৃন্দ না জিততে পারেন তাহলে প্রত্যেক শিক্ষকক্র টাইমস্কেল বাবদ অতিরিক্ত গ্রহনকৃত কয়েক লক্ষ টাকা তো ফেরত দিতেই হবে, তাছাড়া পদোন্নতি, সিনিয়রিটি ও মূল বেতন কমে যাবে।

এবং এবিষয়ে একটি উপজেলার একাউন্স অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এই মূহুর্তে যারা পিআরএলে যাচ্ছেন তাদের টাইমস্কেলের জন্য নেওয়া অতিরিক্ত টাকা পিআরএল বা অবসরকালীন সময়ে পাওয়া টাকা থেকে কেটে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ডিবি/আর আর

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন