যে কারণে গ্রেডেশন সফটওয়্যারে বহিরাগত অপশন বাতিলের দাবি প্রাথমিক শিক্ষকদের

ডিবি নিউজ :: বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ এর ২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’

উপবৃত্তি বাবদ ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় : শিক্ষার্থীরা টাকা পাবে যখন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৭ সাল থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়ন করে চলেছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারীদের শুমারির তথ্য পূরণের আদেশ

দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে এই জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। গত বছর ১৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়নের একটা সুস্পষ্ট গাইডলাইন নীতিমালা প্রণয়ন করে আদেশ জারী করা হয়। যে গাইডলাইনটা খুবই প্রশংসনীয় হয়েছে।

প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিনে যা খেতে দেওয়া হবে

সেজন্য অধিদপ্তরের সকল সম্মানিত কর্মকর্তাবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এমন সুষ্ঠু সুন্দর স্বচ্ছ গাইডলাইন দিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এমন একটা মহৎ কাজও যেন কোথাও এসে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন ফিক্সেশন সহজ করতে উদ্যোগ গ্রহন

সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের জন্য যে সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে সেখানে বহিরাগত শিক্ষক হিসেবে একটা নতুন অপশন যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই অপশনটা বিবেচনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

১৩ তারিখে কী আসলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে?

আমরা বুঝতে পারছি না যে, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এই বিতর্কিত গাইডলাইনটা কোন আইন কিংবা বিধি বলে গ্রহণ করা হলো! যে কোনো রাষ্ট্রকে সরকারি কর্মকাণ্ডগুলো সুনির্দিষ্ট আইন কিংবা নীতিমালার আলোকে পরিচালনা করতে হয়। এখানে যেহেতু সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হচ্ছে, স্বাভাবিক একটা সুনির্দিষ্ট আইনের অধীনে এই জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে এটাই স্বাভাবিক।

READ MORE  স্কুলে ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থী নেই অথচ শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-“আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার।”

আমাদের সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে প্রত্যেক নাগরিক আইনানুযায়ী ব্যবহার তথা সুযোগসুবিধা লাভ করবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ যেহেতু তৃতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদ, স্বাভাবিক নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা-২০১১’ অনুযায়ী তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে।

কোনো শিক্ষক অন্যকোনো উপজেলায় বদলি হলে, সেই বদলিকৃত উপজেলায় যোগদান তারিখ থেকে সেই শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে উক্ত জ্যেষ্ঠতা বিধিমালার কোথাও এমন কোনো বিধি সংযোজন করা হয় নি। এমনকি শিক্ষক বদলি নীতিমালায়ও এ ধরনের কোনো বিধি সংযুক্ত নেই। তাহলে জ্যেষ্ঠতা বিধি সফটওয়্যারে এ ধরনের অপশন কিসের ভিত্তিতে সংযোজন করা হলো? এটা চরমভাবে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল, একই সাথে বৈষম্যমূলক সংবিধানবিরোধী এবং সংবিধানের চরম অবমাননা।

এছাড়া আমাদের সংবিধানের ২৮ এর ১ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে যে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। এখানে সংবিধান বলছে যে জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করতে পারবে না। তাহলে যেসকল শিক্ষক অন্য উপজেলায় বদলি হয়ে গিয়েছেন, তাদের সেই উপজেলায় যোগদান তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনা করে তাদের প্রতি কেন এই বৈষম্য করা হচ্ছে?

আর কোন আইন বা বিধি বলে এমনটা করা হচ্ছে সেটাও আমাদের জানা জরুরি। কেননা কেউই আইনবহির্ভূত কোনোকিছু করার ক্ষমতা রাখেন না। বাংলাদেশ সংবিধান হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। এবং এ আইনের সাথে অন্যান্য আইনের যতটুকু অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, ততটুকু বাতিল হবে বলা হয়েছে ৭ এর ২ অনুচ্ছেদে।

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের উপবৃত্তির টাকা বাড়ছে : আরো কিছু সুখবর

READ MORE  নগদে যারা উপবৃত্তি বা জামা জুতার টাকা পায়নি : তাদের যা করতে হবে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রণীত সফটওয়্যারে বদলিকৃত শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট উপজেলায় যোগদান তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনা বিধি আমাদের সংবিধানের ২৯ এর ১ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধায় এই অপশনটা বাতিল হওয়াটাই উচিত বলে আমরা মনে করি।

সুলতানা রাজিয়া, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক।

Leave a Comment