২রা আগস্ট, ২০২১ ইং, সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

পদোন্নতি জটিলতায় প্রাথমিকের বহিরাগত শিক্ষকের খোলা চিঠি

প্রাথমিকের পদোন্নতি জটিলতায় বহিরাগত শিক্ষকের খোলা চিঠি

ডিবি ডেস্ক :: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী কোন নাগরিক যথাযথ আইন মেনে অপর কোন স্থানে বসবাস করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে আবেদন করলে রাষ্ট্র ঐ নাগরিককে পরিবর্তিত স্থানে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আর এটা সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখতে পাই ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬ নং আইন [ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০০৯] এর অনুচ্ছেদ ৮। অধিবাসী অর্থ ধারা: ৮(৩) কোন ব্যক্তি সরকারী চাকুরীরত থাকিলে বা কোন সরকারী পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে তিনি, যে নির্বাচনী এলাকার বা ভোটার এলাকায় চাকুরীসূত্রে সচরাচর বসবাস করেন সেই নির্বাচনী এলাকার বা ভোটার এলাকার অধিবাসী হিসাবে গণ্য হইবেন, যদি না তিনি অনুরূপ চাকুরীরত না থাকিলে বা অনুরূপ সরকারী পদে অধিষ্ঠিত না থাকিলে যে ভোটার এলাকার বা নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী থাকিতেন সেই এলাকার অধিবাসী হিসাবে তালিকাভুক্ত হইবার জন্য রেজিষ্ট্রেশন অফিসার বরাবর আবেদন করেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অনুরূপ কোন ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং তাহার ছেলেমেয়েদের মধ্যে যাহারা ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী তাহারা যদি সচরাচর অনুরূপ ব্যক্তির সহিত বসবাস করেন তাহা হইলে তাহারা অনুরূপ ব্যক্তি যে নির্বাচনী এলাকার বা ভোটার এলাকার অধিবাসী বলিয়া গণ্য হইয়াছেন সেই এলাকার অধিবাসী বলিয়া গণ্য হইবেন।

শিক্ষকদের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জরিপ করে তথ্য দিতে বলেছে সরকার

বৃদ্ধিকৃত ছুটিতে শিক্ষকরা কী শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে যাবে

১৬ সেট প্রশ্নে যেভাবে নেওয়া হবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে বদলী শুরু হওয়ার সময় ঘোষণা

কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য : কারোর বেড়েছে ৪২৫০ কারোর ৬২ হাজার

তাহলে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, যেকোন কারনে কোন ব্যক্তির ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সাথে সাথে তাঁর সকল ধরণের নাগরিক অধিকার পরিবর্তিত এলাকায় স্থানান্তরিত হয় বা হয়েছে বলে গন্য করতে হবে, এটাই আইনানুগ। তাহলে এটা সুস্পষ্ট স্থানীয় অধিবাসী জন্মের কারণে এবং কর্মের কারণে দুইভাবেই হয়।

এখন আসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকগনের প্রসঙ্গে। তাঁরা সকলেই উপজেলা ভিত্তিক স্থানীয় কোটায় নিয়োগকৃত। এটার মূল কারণ হলো যাতে দেশের সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রশাসনিক অঞ্চলের নাগরিকগণ প্রজাতন্ত্রের কর্মে সুষম প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে এবং সেটা সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদ দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন হয়তোবা অনেকে বলবেন মহিলা কোটা কেনো? আসলে তারা আমাদের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হলেও পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বঞ্চনার স্বীকার হয়ে বিকশিত হওয়ার যথাযথ সুযোগ পায়নি। ফলে তারা এখন রাষ্ট্রের পিছিয়েপড়া জনসম্পদ। এদের অব্যবহৃত রেখে রাষ্ট্রের সুষম উন্নয়ন হচ্ছে না। আমরা যেহেতু তাদের বঞ্চিত করছি তাই রাষ্ট্র স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের জন্য বিশেষ বব্যবস্থা রেখেছে যাতে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে সুষম প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে- সংবিধানের অণুচ্ছেদ -২৯।

এখন দ্বিতীয় প্রসঙ্গে আসি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন উপজেলা ভিত্তিক স্থানীয় কোটায প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগকৃত হয়ে অত্যন্ত পেশাদারীত্বের সাথে জাতীয় কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষক জন্মের কারণে হউক বা কর্মের কারণে হউক নিয়োগ লাভের পর অন্য উপজেলায় বদলী হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে তাদের সকল নাগরিক সুবিধাদিও বর্তমান কর্মস্থলের ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এটাই যুক্তিযুক্ত।

অন্য উপজেলায় বদলীকৃত শিক্ষকদের মধ্যে একটা বিশেষ শ্রেণির শিক্ষকদেরকে (মহিলা শিক্ষক) পারিবারিক, সামাজিক এবং মনোজৈবিক শৃঙ্খলা রক্ষার কারণে আবশ্যিকভাবে অন্য উপজেলায় বদলী হতেই হয় যার সুযোগ রাষ্ট্র তাকে বদলীর প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে অরাবিত করে দিয়েছে। আন্তঃউপজেলা বদলীকৃত এসব শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব রকমের পেশাদারীত্বের স্বাক্ষর রাখছে যা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ তথা মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

এতোদিন তাদের চাকরীতে সুবিধাদি ঠিকঠাকমত পেয়ে আসছিলো কিন্তু গত… ২০২১ খ্রি: তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারকমূলে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য প্রণীত সমন্বিত গ্রেডেশন ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারে আন্ত: উপজেলা বদলীকৃত শিক্ষকগনকে বহিরাগত শিক্ষক হিসেবে গণ্য করে উপজেলায় যোগদানের তারিখে উপজেলায় সর্বোকনিষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে গণ্য করে জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ফলে সেইসব বদলীকৃত শিক্ষকগন তাদের চাকরীস্থলে আইনানুগ জ্যেষ্ঠতা থেকে শুধু বঞ্চিত হচ্ছেনা বরং চরমভাবে অবহেলিত হচ্ছে যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯,২৬,২৭,২৮,২৯ ও ৩১ এবং নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতি) বিধিমালা ২০১১ এর সাথে সাংঘর্ষিক।

এই বিধিমালার অনুচ্ছেদ (১) এ বিধিমালার প্রয়োগ, অনুচ্ছেদ (৩) এ বিধিমালার প্রাধান্য এবং অনুচ্ছেদ (৪) এ কর্মচারীদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও কেনো এমন ব্যতীক্রম হচ্ছে, তা জানার কৌতূহল আজ সবার মনে জাগছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সবিনয়ে অনুরোধ করছি, আন্তঃউপজেলা বদলীকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি আইনানুগভাবে বিবেচনা করবেন।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক আইনানুগভাবে দেশের অভ্যন্তরে যখন যেখানে বাসকরে সেখানেই সে স্থানীয়।”

সকলের নিকট আমার অবুঝ মনের একটি জিজ্ঞাসা,” বিয়ের পর স্ত্রী, স্বামীর বাড়ির ঠিকানা ব্যহার করে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে সে যদি বহিরাগত শিক্ষক না হয়, তবে বিয়ের আগে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরী নিয়ে স্বামীর ঠিকানায় বদলী হলে সে শিক্ষক কোন যুক্তিতে বহিরাগত শিক্ষক হয়ে চাকরীতে জ্যেষ্ঠতা হারাবেন?”

মোছা: সুলতানা রাজিয়া, সহকারী শিক্ষক, টেপাপলাশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আদিতমারী, লালমনিরহাট।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন