১লা আগস্ট, ২০২১ ইং, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

৬০ হাজার ও পৌনে ৪ লাখ ভুয়া শিক্ষক : জাল সনদধারীরা এবার ধরা খাবে যেভাবে

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ : এনটিআরসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশে ১ জুলাই তারিখ থেকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই করা যাবে অনলাইনে। এবার সেবা সহজ করতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ- এনটিআরসিএ।

এবিষয়ে এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ ও যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এবিষয়ে যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনধারী কোনও শিক্ষকের নিবন্ধন যাচাই করতে ইচ্ছুক সেসকল প্রতিষ্ঠানকে [email protected] ই-মেইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ ও নিয়োগপত্র প্রতিষ্ঠান থেকে সত্যায়ন করে পাঠাতে হবে। এছাড়া যে ই-মেইলে প্রতিষ্ঠান সনদ যাচাইয়ের প্রতিবেদন পেতে ইচ্ছুক সেই ইমেইল ঠিকানা ফরওয়ার্ডিং পত্রে উল্লেখ করতে হবে।

আরও পড়ুন : শিক্ষকদের টাইমস্কেলে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে সরিয়ে নেওয়া হবে

জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদে চাকরিজীবিদের হুশিয়ারি বার্তা

বয়স শেষ দেড় লক্ষের বেশি চাকুরীপ্রার্থীর : মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস

এই সনদ যাচাইয় প্রক্রিয়ার জন্য কোন ধরনের ফি দিতে হবে না। এবিষয়ে বলা হয়েছে, ফরওয়ার্ডিং পত্রে উল্লেখ করা ই-মেইলে যাচাই প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এছাড়া এনটিআরসিএ ওয়েবসাইট থেকে যাচাই প্রতিবেদন ডাউনলোড ও প্রিন্ট ও করা যাবে।

এবিষয়ে ২০১৫ সালের সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ”সারাদেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরের চিহ্নিত প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক এখন জাল সনদে শিক্ষকতা করছেন।”

এখন প্রশ্ন হল ২০১৫ সালে যদি সারাদেশে ৬০ হাজার ভুয়া সনদধারী শিক্ষক থেকে তাকে তবে এখন সেই সংখ্যাটি নিশ্চয় কমেনি।

এছাড়া এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভুয়া সনদধারী (শিক্ষক) রা মূলত ৪ ধরনের ভুয়া সনদ চাকরিতে বেশি ব্যবহার করছে। ১। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ২। নিবন্ধন সনদ, ৩। কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ক ভুয়া সনদ এবং ৪। অভিজ্ঞতার জাল সনদ।

এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, জাল সনদ ধরার জন্য দেশে কাজ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ)। তাদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র মতে, ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ৩৫ বছরে সারাদেশে ৫১ হাজার ৯৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষকের সনদ জাল বলে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ। এবং এসব (জাল) শিক্ষক এই সময়কালে সরকারি কোষাগার থেকে ৪৮২ কোটি ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ টাকা বেতন-ভাতা তুলেছে।

এছাড়া ২০১৬ সালে ডিআইএ এর তথ্য মতে তাদের কাছে ১০ হাজার ভুয়া সনদধারী শিক্ষক জাল সনদে চাকুরী করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ ছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের শর্ত হিসাবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এ জন্য নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ গঠন করা হয়। এই কর্তৃপক্ষের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যারা কৃতকার্য হন তারাই শুধুমাত্র নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র পান। এছাড়া এই নিবন্ধন প্রত্যয়ন শিক্ষক নিয়োগের বিভিন্ন শর্তের একটি।

এখানে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, শিক্ষক নিবন্ধনের সনদ প্রদানকারী সংস্থাও যেমন এনটিআরসিএ, তেমনি দেশের এত এত জালসনদের অধিকাংশ জালসনদ প্রদানের অধিকাংশ কৃতিত্বও নাকি সেই একই সংস্থার। এমনটাই দাবী ভুক্তভোগীদের।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন