২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি মাত্র সংগঠন রাখতে যে উদ্যোগ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডিবি ডেস্ক : : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে গত ২৬ জুন এক ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়, এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৩ জুলাই সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ব্যাপী আরেকটি ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা এএকাডেমি-নেপ এর আয়োজনে।

গত ২৬ তারিখের মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, অতিরিক্ত সচিব রতন কুমার পণ্ডিত, ডিপিই মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম, সকল বিভাগীয় উপ পরিচালক, সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিসহ ১৩ টি শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেই মিটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল সমিতিতে একত্রিত করে একটি সংগঠনে রুপান্তর করা। তা না হলে বিচ্ছিন্নভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেজন্য এর আগেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মুনসুরুল আলম বিষয়টি উপলব্ধি করে একত্রিত এক সংগঠন করার গুরুত্বারোপ করেছেন।

এই একত্রিত করণের বিষয় নিয়ে আজ প্রায় সকল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন নিয়ে বসেছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি -নেপ এর মহা পরিচালক মো. শাহ আলম ও নেপের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

‘আজ কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হল?’ দৈনিক বিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে আজকের ভার্চুয়াল মিটিং এ উপস্থিত বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. বদরুল আলম মুকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ মূলত গত ২৬ তারিখের ধারাবাহিকতায় আবারও শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে নেপের মহাপরিচালক বসেছিলেন। এখানে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগঠন সমুহকে একত্রিত করাই এই মিটিং এর উদ্দেশ্য ছিল। আজকের মিটিং এ সকল নেতৃবৃন্দ প্রায় একমতে এসেছে। তবে মিটিং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ২ টি সংগঠন ১টি প্রধান শিক্ষকদের জন্য এবং আরেকটি সহকারী শিক্ষকদের জন্য। এমনটাই মতামত জানিয়েছেন প্রায় সকল নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া বদরুল আলম দৈনিক বিদ্যালয়কে মুঠোফোনে আরো জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে নেপ মহা পরিচালক সকল সংগঠনের কমিটির খসড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিতে বলেছেন।

তিনি আরও জানান আমি আমার সংগঠনের পক্ষে প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড প্রদান শিক্ষকদের টাইমস্কেলের বকেয়া প্রদানের দাবি জানাই।

এছাড়া সহকারী শিক্ষক নেতা শামছুদ্দিন মাসুদ, আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, মো. আবুল কাশেম, শাহিনুর আলামিন প্রমুখ সহকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন।

এছাড়া আজকের মিটিং সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন,

আজকের মিটিং আমরা দাবি উত্থাপন করলে নেপ মহা পরিচালক আশ্বস্ত করেছেন, জুন মাসের পরও শিক্ষকদের ডিপিএড ভাতা পাওয়ার সুযোগ আছে। অর্থমন্ত্রণালয় এখনো এটা বাতিল করেনি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী মিটিংয়েও আলোচনা হবে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর সহ সকল উচ্চতর পদে বিভাগীয় প্রার্থীতার সুযোগ এবং নিয়োগ যোগ্যতায় ডিপিএড/সিইনএড সার্টিফিকেট রাখার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

সহকারী শিক্ষকদের ১টি এবং প্রধান শিক্ষকদের ১ টি সংগঠন করার দাবীতে বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দের মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ ৩ টি সংগঠনের পক্ষে ও মত দিয়েছেন।

যে সকল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রেজিষ্ট্রেশন আছে তাদের ক্ষেত্রে মনগড়া কোন গঠনতন্ত্র নয়, নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত সদস্যদের নামসহ আরজেএসসির সীলমোহরকৃত গঠনতন্ত্র।

এছাড়া ওয়ার্কশীট প্রিন্ট খরচ কমিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম।

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক নেতা বদরুল আলম আরো জানান বিষয়টি নিয়ে আরো ১-২ টি মিটিং হওয়ার ঈঙ্গিত দিয়েছেন নেপ মহাপরিচালক।

আরও পড়ুন ও নিউজ শেয়ার করুনঃ প্রাথমিকের যে তথ্য পূরণের সময় বেড়েছে

১ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ৫ হাজার ও আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছেন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূনরায় সভাপতি হতে সংসদ সদস্যদের আপিল

চাকুরীজীবীদের এ মাসে ইনক্রিমেন্ট পেয়ে বেতন কত হল দেখে নিন

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন