২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকরা শতভাগ বোনাস না পেলে প্রেসক্লাবে মোরগ কুরবানির ঘোষণা

ফাইল ফটো : শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটি

ডিবি ডেস্ক :: গত ঈদুল ফিতরে আশ্বাস পাওয়ার পরও শতভাগ উৎসব ভাতা পান নি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্রচারিগণ। তাই আসন্ন ঈদুল আজহায় ফের শতভাগ উৎসব ভাতা হতে বঞ্চিত হলে প্রতিবাদস্বরূপ প্রতীকী মোরগ কোরবানির ঘোষণা দিয়েছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৩ সংগঠনের জোট শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটি। ঈদের তৃতীয় দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এই কর্মসূচি পালন করবে বলে তারা জানান।

এবিষয়ে শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন এবং শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের (বামাশিকফো) সভাপতি উপাধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী স্বাক্ষরিত আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০০৪ সাল হতে ১৭ বছর ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পেয়ে আসছেন। এমপিওভুক্ত এন্ট্রি লেভেলের একজন মাধ্যমিক শিক্ষক ২৫% উৎসব ভাতা হিসেবে মাত্র ৩১২৫ টাকা পান। মাদরাসার ইবতেদায়ি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা আরও কম। এই সামান্য উৎসব ভাতা দিয়ে কোনো অবস্থায়ই উৎসব পালন করা সম্ভব নয়।

এতে আরও বলা হয়, ইতঃপূর্বে প্রায় অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রীকে শতভাগ উৎসব ভাতার বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের জন্য স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদেরসহ ছয়জন এমপি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং আসন্ন ঈদুল আযহা থেকেই শিক্ষকদেরকে শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

শতভাগ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন-কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের যে বিষয়ে সতর্ক করল সরকার

স্থগিত থাকা মাদ্রাসার সহকারী গ্রন্থাগারিক ও গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ সিদ্ধান্ত দ্রুতই

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ বহু দিন থেকে বেতনের শতভাগ উৎসব ভাতা দাবি করে আসছিলেন। গত ঈদুল ফিতরে তাদের এ দাবি জোড়ালো ভাবে প্রকাশ পায়। শতভাগ উৎসব ভাতা না পেয়ে সেসময় অনেক শিক্ষক তাদের বাড়ি ভাড়া ১০০০টাকা এবং কেউ কেউ চিকিৎসা ভাতা ৫০০টাকা সরকারি ট্রেজারে ফেরত দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তাছাড়া শতভাগ উৎসব ভাতা না দেওয়া প্রতিবাদ স্বরূপ সেসময় তারা ঈদুল ফিতরের নামাজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আদায় করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ মূল বেতনের ২৫% এবং কর্মচারিগণ ৫০% হারে উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। যা সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় নগণ্য।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন