২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিকের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় চির প্রমোশন বঞ্চিত হবেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডিবি ডেস্ক :: প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিধি চুড়ান্ত হয়েছে। যাতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ করে সহকারী শিক্ষকদের চুড়ান্তভাবে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।

এই সমন্বিত নিয়োগ বিধি প্রস্তুত হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা দুইটি শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‌‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দিতে পারতেন। যে শর্ত দুইটি ছিলঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর হওয়া এবং আরেকটি ছিল বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে হওয়া। এই সুযোগ থাকাত অতীতে অনেক শিক্ষকই বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পেতেন।

নতুন নিয়োগ বিদিতে সে সকল শিক্ষকদের এভাবে কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ আর থাকল না।

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা’। যাতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ রাখা হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।

ইতোমধ্যে নতুন নিয়োগ বিধিমালাটি সচিব কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে। যা শিগগিরই চূড়ান্ত অনুমোদিত হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। এটা নিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।

এনিয়ে দেশের শিক্ষকদের প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। তারা বলছেন , এর আগে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হত পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদে তাদের বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো না। তবে নতুন এই বিধিতে সকল ধরনের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে সহকারী শিক্ষকদের।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট একজন তথা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিত জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালা সকল ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই বিধিমালা ক্যাবিনেট থেকে আসলে ছোটখাটো কিছু কাজ আছে সেসব শেষ করে সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি এবিষয়ে আরও বলেন, ১৯৮৫ সালের পরে এই বিধিমালা সংশোধন করা হল। এটি নয়ে দীর্ঘদিন নানা জটিলতা ছিল। যে কারণে এই নীতিমালা সংশোধন করা হল।

পন্ডিত বলেন, এই সংশোধিত বিধিমালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অফিস সহায়ক থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত ৭৬টি পদে নিয়োগ-পদোন্নতি ও কর্মকর্তাদের গ্রেড সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ আছে।

মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বিদ্যালয়কে বলেন,

#প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমন্বিত নিয়োগবিধি ২০১৯ (প্রস্তাবিত) শুধু সহকারী শিক্ষক নয়, প্রধান শিক্ষকদেরও ঠকানোর কৌশলঃ এই নিয়োগ বিধি অনুসারে ৪৫ বছরের পর থেকে শিক্ষকরা অফিসার পদে পদোন্নতির আযোগ্য।

সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পোষ্যরা ব্যবসা করতে পারবে না

তিনি বলেন, সচিবের কথা অনুযায়ী প্রাথমিকে আর কোন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হবে না। তার মানে একজন সহকারী শিক্ষককে অফিসার পদে পদোন্নতি পেতে হলে কমপক্ষে ৪২ বছর বয়সের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে হবে। যা কিনা আদো সম্ভব!

তিনি বলেন, কতজন প্রধান শিক্ষক আছেন যাদের বয়স ৪৫ বছরের কম! নোয়াখালী সদর উপজেলায় ২০১০ খ্রি. এর পর প্রধান শিক্ষক পদে কোন নিয়োগ হয়নি। এ রকম অনেক উপজেলা আছে যেখানে বিগত ১০-১৫ বছরে শূণ্যপদ না থাকার কারণে কোন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়নি।

পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এর একজন কনস্টেবল যদি বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে ওসি, সহকারী পুলিশ সুপার হতে পারেন। সচিবালয়ের একজন অফিস সহকারী যদি পদোন্নতিরর মাধ্যমে সহকারী সচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে পারেন তাহলে প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন পারবেন না?

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার যে যে বিকল্প পদ্ধতি আসছে : ঘোষণা হবে যখন

শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, আমরা চাই শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি, যেখানে শুধু প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক নয় একজন রাজস্বখাতভুক্ত অফিস সহকারীও তার যোগ্যতা দিয়ে ডিপার্টমেন্ট এর সর্বোচ্চ পদে পদোন্নতি পাবেন এবং অন্য ডিপার্টমেন্ট এর ন্যায় চাকুরীর শেষ দিন পর্যন্ত তার পদোন্নতির পথ খোলা থকবে। এটা পুরোটা শুভঙ্করের ফাঁকি। এখানে বলা হয়েছে সহকারী শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবে না। আবার বলা হয়েছে, ৪৫ বছরের বেশি হলে প্রধান শিক্ষকরাও আবেদন করতে পারবে না। তাহলে পদোন্নতি পেয়ে একজন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হতে হতে তার আবেদনের বয়স সীমা শেষ হয়ে যাবে। এই নতুন সমন্বিত নিয়োগ বিধিতে, এখানে শুধুমাত্র যারা বিসিএস দিয়ে প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন তারাই এ সুযোগ পাবেন। বাকিদের জন্যো এ সুযোগ থাকবে না সিস্টেমের কারণেই। আমরা এ বিধিমালাটি মানতে পারছি না।

এ সম্পর্কিত আরেকটি নিউজ: প্রাথমিকের নিয়োগ বিধিমালায় শিক্ষকদের পদোন্নতির নামে শুভঙ্করের ফাঁকি

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন