১লা আগস্ট, ২০২১ ইং, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

সমন্বিত নিয়োগ বিধিতে যে সকল শিক্ষকদের পদোন্নতির বিধান নেই

দৈনিক বিদ্যালয় :: বাংলাদেশে একমাত্র ব্যাতিক্রম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি। এটি একটি ব্লক পোস্ট। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বা AUEO পদে হবে সরাসরি নিয়োগ।

সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ এ প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হতে চলেছে। সম্প্রতি সচিব কমিটি তে অনুমোদিত প্রস্তাবিত নীতিমালায় ০৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং অনূর্ধ্ব ৪৫ বছর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক বৃন্দ বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ পেতে পারবেন।

আবারো ৪৫ বছর বয়সের ফ্রেমে বাঁধা পড়তে যাচ্ছে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা, যেকোনো সময় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে বলে সূত্রে প্রকাশ।প্রাথমিকের নিয়োগ বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির নামে উন্মুক্ত পরীক্ষা দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। এ নিয়োগ বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির কোনই সুযোগ রাখা হয়নি। বিভাগীয় পদোন্নতির পরিবর্তে বিভাগীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাও আবার কঠিন শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ। সে শর্তগুলো পূরণ করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

বিভাগীয় প্রার্থী হবার শর্ত গুলো হলোঃ

১। AUEO পদের ৮০% প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযোগ দেওয়া হবে এবং বাকি ২০% বাইরে থেকে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

২। প্রধান শিক্ষকদের বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে । ৩। প্রধান শিক্ষক পদে কমপক্ষে তিন বছরের অভিঙ্গতা থাকতে হবে। ফলশ্রুতিতে সন্তান সমতুল্য ফ্রেসারের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় PSCএর প্রিলিমিনারী পরীক্ষার উত্তীর্ন হয়ে আসতে হবে। যদি আপনি PSC এর (সকলের জন্য উন্মুক্ত) পরীক্ষা য় উত্তীর্ণ হয়ে আসতে পারেন তাহলে ভাইবা পরীক্ষার সময় আপনাকে ৮০% কোটা দেওয়া হবে।

আমার ব্যাক্তিগত অভিমতঃ

ক। উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করে প্রধান শিক্ষকগণ হয়ত কোন অবস্থাতেই AUEO হতে পারবেনা। কারন নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে আর সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবেনা। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককের শুন্যপদ পুরণ করা হবে।

খ। প্রধান শিক্ষকদের যদি পদোন্নতি না হয় তাহলে প্রধান শিক্ষকের পদ সাধারণত অবসর বা অকালীন মৃত্যু ছাড়া শুন্য হবে না ।

গ। সাধারণত একজন সহকারী শিক্ষক ২৭/২৮/২৯/৩০ বছর বয়সে চাকুরিতে যোগদান করলো প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে এমনিতেই তার ১৫/২০ বছর সময় লেগে যায়। যে সকল উপজেলায় শিক্ষক সংখ্যা বেশি সেখানে পদোন্নতি পেতে আরোও বেশি সময় লেগে যাবে।
ফলশ্রুতিতে কি হবে। একজন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে তার বয়স এমনিতেই ৪৫ বছর অতিক্রম করে যাবে। তার পর বিভাগীয় প্রার্থী হতে প্রয়োজন প্রধান শিক্ষক পদে তিন বছরের চাকুরির অভিঙ্গতা। সুতারাং বয়স ৪৫ বছর অতিক্রম করার কারনে প্রধান শিক্ষকগণ AUEO পদে বিভাগীয় প্রার্থীও হবার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন।

ঘ। যদিও কালেভদ্রে দুই একজন প্রধান শিক্ষক বিভাগীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেতেও পারেন, তাদেরকে আবার সদ্য পাশ করা প্রার্থীদের সাথে PSC এর সকলের জন্য উন্মুক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে আসতে হবে। ৪০/৪৫ বছর বয়সে একজন প্রধান শিক্ষককের পক্ষে কি সদ্য পাশ করা প্রার্থী দের সাথে অসম প্রতিযোগিতা মুলক পরীক্ষায় টিকে থাকা সম্ভব?

ঙ। পদোন্নতির শর্তে আরো উল্লেখ আছে যে, প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে, ডিপার্টমেন্ট এর বাইরের প্রার্থীদের মধ্য থেকে AUEO পদ পূরণ করা হবে।

চ। বিষয়টি আমার কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, প্রধান শিক্ষকগণ যাতে কোন অবস্থাতেই পদোন্নতি না পায় তার একটা কৌশল মাত্র। এই বিধিমালা সম্পর্কে সকল শিক্ষকদেরকে সচেতন হতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের সকল ডিপার্টমেন্ট এর সকল চাকরিজীবীদের ফিডারপোস্ট থেকে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডেশন এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। শুধুমাত্র এবং একমাত্র ব্যতিক্রম প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।

# সহকারী শিক্ষকবৃন্দ,

চাকুরীর শেষ দিন পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডেশন এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি পাবেন। #আবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার গন চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডেশন এর মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদে চাকরি শেষ দিন পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতা এবং গ্রেডেশন এর মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন এবং পাবেন। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কিন্তু কেন?

# ১৯৯৪ সালের একটি কালো আইনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকবৃন্দের সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে দিয়ে চালু করা হয়েছিল সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি।উল্লেখ্য যে এর পর্বে প্রধান শিক্ষক হতে AUEO পদে সিনিয়র প্রধান শিক্ষক গন পদোন্নতি পেতেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালেও পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতে চলেছে। প্রধান শিক্ষকবৃন্দ ১৯৯৪ সাল থেকে
“ব্লকপোষ্ট” হিসেবে নতুন নিয়োগ বিধিমালাও ব্লক পোষ্টই থেকে গেল।

সদাশয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের অনুরোধ সমূহঃ

ক) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে প্রধান শিক্ষকসহ সর্বস্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতির দ্বার উম্মোচন করে দেয়া।

খ) জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে পদোন্নতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা।

গ) প্রধান শিক্ষক দের রুদ্ধ পদোন্নতির পথ উন্মুক্ত করে দিন।

ঘ) প্রধান শিক্ষকদের ২৬ বছরের বঞ্চনার যন্ত্রণা নিরসন করুন।

ঙ)ব্লক পোস্টকে উন্মুক্ত করে দিন।

চ) সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ নয় বরং উক্ত পদে প্রধান শিক্ষকদের শতভাগ পদোন্নতি প্রদান করুন।

আরও পড়ুন :: প্রাথমিকের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় চির প্রমোশন বঞ্চিত হবেন শিক্ষকরা

প্রাথমিকের নিয়োগ বিধিমালায় শিক্ষকদের পদোন্নতির নামে শুভঙ্করের ফাঁকি

ছ) সহকারী শিক্ষকের পদকে এন্ট্রিপদ ধরে উপরের AUEO পদ সহ পর্যায়ক্রমে সকল পদে অন্য সকল বিভাগের মত পদোন্নতির বিধান চালু করার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

-লিপি খাতুন, প্রধান শিক্ষক, প্রতিভাময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলিয়া, খুলনা। ও প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় কমিটি।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন