১লা আগস্ট, ২০২১ ইং, রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

এক দেহে ২ প্রাণ : একজন গণিত অপরজন ইংরেজির

অ্যাবি ও ব্রিটনি হ্যানসেল

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: ঘটনা জার্মানির। সেদিন প্রসব বেদনায় তখন কাতরাচ্ছি আমি। জানতাম এখনই আমার সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। আমি হব মা। আমার গর্ভ থেকে সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখল। তবে সে সন্তানের সংখ্যা একটি নয় বরং দুইটি। এই খবর পেয়ে আমি তো খুশিতে মাতোয়ারা।

অ্যাবি ও ব্রিটেনি। অতঃপর আমাকে হাসপাতালের নার্স জানালেন আপনার দুই কন্যা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছে। দেহ এক গলা থেকে মাথা ২ টা। সে সময় ডাক্তাররা বলেন, তাদেরকে পৃথক করা গেলেও একজনের প্রাণ সংশয় রয়েছে। কথাগুলো জমজ ও সসংযুক্ত দুই কন্যার মা পেটি হেনসেল।

সময়টা ১৯৯০। ৭ মার্চ জার্মানির মিনেসোটায় জন্ম গ্রহণ করে পেটি হেনসেলের দুই কন্যা।

এক সন্তানকে বাঁচিয়ে আরেকজনকে মারতে পারতেন মা। কিন্তু তা করেন নি। তাদের মা তখন চিকিৎসককে জানিয়েছিলেন, আমি এভাবেই আমার কন্যাদেরকে বড় করে তুলব। এরপর জীবনযুদ্ধ চলতে থাকে মায়ের।

এজন্য অনেক মন্দ কথাও শুনতে হয়েছে। এখন তার একদেহের দুই কন্যাকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলেছেন তিনি। তারা এখন শিক্ষকতা করেন। তাদের দুই বোনের একজন পড়ান গণিত, আরেকজন পড়ান ইংরেজি। মটর বাইকও চালাতে পারেন তারা। তাদের নাম সংযুক্ত দুই কন্যা ’অ্যাবি’ ও ’ব্রিটেনি’।

তারা দুই বোন দুই জনই সংযুক্ত। তবে তাদের গলায় দুইটি মাথা ও ২ টি ঘাড়। দুই পায়ে ভর করে চলেন এই শিক্ষক দুই বোন। এমনকি তাদের হাতের সংখ্যাও দুটি। ৩১ বছর বয়সী এই বোন জমজেরা এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়েও ফেলেছেন। এখন তারা স্বাবলম্বী।

লালেহ ও লাদেন ছিল প্রায় এমনই এক জমজ। তবে তাদের দেহ ছিল দুই। তাদের অপারেশনের সময় মারা যায়। তারা দুই বোন ইরানের ছিল।

কিন্তু এরা দুই বোন বেঁচে আছে। একজন আরেকজনকে সাজিয়ে দেন। বিশ্বে মোট ৫০ হাজারের মধ্যে মাত্র একজন এমনভাবে জন্মাতে পারে। যার মধ্যে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ সংযুক্তারা বাঁচলেও অন্তত ৩৫ শতাংশই জন্মের পরপরই মারা যায়। তাদেরকে মূলত ডিসেফুলাস টুইনস বলা হয়।

তাদের ২ টি মাথা, ২ টি ঘাড়, ২ টি হৃৎপিণ্ড, ২ টি পিত্তথলি এবং ২ টি পাকস্থলী। তবে তাদের তিনটি ফুসফুস রয়েছে। এছাড়া দুইটি কিডনি। একটি করে লিভার, জরায়ু, ডিম্বশয়, যৌনাঙ্গ ও মূত্রাশয়। তাদের জন্মের সময় তারা মোট তিনটি হাত নিয়ে জন্মায়। তবে একটি হাত তারা সেভাবে ব্যবহার করতে পারত না। যে কারণে একটি তারা পরবর্তীতে কেটে ফেলে।

এখম তারা স্বাবলম্বী, নিজেদের সব কাজই তারা করতে পারে। লিখতে, পোশাক পরতে, বাইক চালাতে, কি-বোর্ডে লিখতে, পিয়ানো বাজাতে এমনকি হাঁটতেও পারে তারা।

তবে তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ঘুমানোর সময় কাত হয়ে শোয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেকারণে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না এই দুই বোন। এই দুই বোন অ্যাবি ও ব্রিটেনি একে অন্যকে সাজিয়েও দেন।

এই জমজ বোনদের মা পেটি হেনসেল জানান, তাদের দুই জনের চাহিদা কিংবা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যাও এক নয়। তিনি বলেন, অ্যাবির সর্দি-জ্বর হলও ব্রিটেনি ঠিক সুস্থই থাকে। ব্রিটেনির পেটে ব্যথা করলে তখন অ্যাবি আবার সুস্থ থাকে। এছাড়া তারা একে অন্যের চেয়ে মানসিকভাবে আলাদা। তাদের মা আরও জানান, তাদের খাবারের চাহিদাও এক নয়। তাদের একজন খায় তো আরেকজন ঘুমায়।

এমনই ভিন্নতা ঘটে তাদের চাকুরীরত বিদ্যালয়েও।অ্যাবি হেনসেল অবশ্য ব্রিটেনি হেনসেলেএ চেয়ে উচ্চতায় লম্বা। একারণে পোশাকেও তাদের দু’জনের পোশাকের মাপ আলাদা হয়ে থাকে। তাদের ২ জনের জুতার মাপও আলাদা। এজন্য অ্যাবি ফ্ল্যাট জুতা পরেন ও ব্রিটেনিকে অন্য পায়ে পরতে হয় হিল জুতা। যাতে উচ্চতায় ২ জন সমান হন। এভাবেই মানিয়ে গুছিয়ে চলতে হয় তাদের। ছাত্রী হিসেবেও আলাদা তারা। অ্যাবি গণিত পছন্দ করেন ও ব্রিটেনির পছন্দ ইংরেজি।

তারা দুই জনই আলাদা আলাদা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। এছাড়া তারা দুই জনেই একটি স্কুলে দুই বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন। মজার বিষয় হল, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার সময় তারা দুই হাত দিয়ে দুইজন ভিন্ন বিষয় লিখতেন। এভাবেই তারা ভালো ভালো নম্বর অর্জন করে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন।

তবে এখানে একটি প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল এই জমজ বোনদের একজনের মৃত্যু হলে আরেকজনের ও কী মৃত্যু ঘটবে? প্রশ্ন থাকল প্রিয় পাঠকের কাছে ‘দৈনিক বিদ্যালয়’ প্রিয় অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে। কমেন্টে জানাবেন প্লিজ।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন