২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জিপিএফ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য : ইএফটিতে জিপিএফ চেক করার নিয়ম

জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল

দৈনিক বিদ্যালয় ডেস্ক :: আইবাস++ এ ইএফটিতে এখন সকল সরকারি ও আধা সরকারি সাধারণ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহের কর্মরত সকলের বেতন হচ্ছে জিটুপি পদ্ধতিতে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই আছি একাউন্স অফিসে যেয়ে জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে কত জমা আছে? কত কাঠানো যায়? এর মুনাফা কত হয়? এসকল অনেক প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। আজ সেজন্য জিপিএফ এর আদ্যোপান্ত ও জিপিএফ একাউন্টে কত আছে তা নিজ মোবাইল দিয়ে বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।

জিপিএফ কীঃ জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্য তহবিলে সরকারি কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণের পর বেতন হতে সর্বনিম্ন ৫% স্থিতি রাখা বাধ্যতামূলক। সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফ এ জমাকৃত অর্থ একজন সরকারী কর্মচারীর জন্য একটি ভবিষ্য তহবিল যেখান হতে বিপদে পড়লে ঋণ গ্রহণ করা যায়। যে ঋণের উপর সাধারণত কোন সুদ প্রদান করা লাগে না। এই ঋণ শুধুমাত্র নির্ধারিত কিস্তির হারের এক কিস্তি অতিরিক্ত প্রদান করতে হয় যা চাকুরীজীবির নিজের হিসাবেই জমা থাকে। এছাড়া, চাকুরীজীবী নিজের জমাকৃত অর্থ নিজ বয়স ৫২ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে উত্তোলন করতে পারে না।

জিপিএফ বা ভবিষ্য তহবিলে যােগদানের যােগ্যতাঃ একজন সরকারি কর্মচারী চাকুরীর মেয়াদ ২ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর এই তহবিলে যােগদান করা আবশ্যকীয়। হ্যা, তবে একজন কর্মচারী ইচ্ছা করলে ২ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেও সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে যােগদান করতে পারেন।

জিপিএফ এর নমিনি নির্বাচনঃ সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা চাঁদাদাতা তার পরিবারের সদস্য নয়, এমন কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মনােনয়ন করতে পারবনে। চাঁদাদাতা বা সরকারি কর্মচারী যদি অবিবাহিত হন, তবে পিতা/মাতা/ভাই/বােনকে মনােনয়ন করতে পারেন। হ্যা, তবে উক্ত সরকারি কর্মচারীর বিয়ে হওয়ার সংগে সংগে পরিবার বহির্ভূত ব্যক্তিকে মনােনয়ন দান সংক্রান্ত মনােনয়ন পত্র আপনা-আপনি বাতিল হয়ে যায়।

জিপিএফ এর চাঁদা প্রদানের হারঃ সরকারি কর্মচারী বা কর্মকর্তার মূল বেতনের সর্বোচ্চ ২৫% সর্বনিম্ন ৫% এই তহবিলে কাটানো যায়।

জিপিএফ নমিনি পরিবর্তনঃ চাঁদা প্রদানকারী কর্মচারী নমিনি পরিবর্তন করতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যের নামে নমিনি থাকলে, চাঁদাদানকারী বিবাহ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ত্রীর নামে নমিনি হয়ে যায়।

জিপিএফ মুনাফার হারঃ বর্তমানে জিপিএফ এর মুনাফার হার হল ১৩%।

জিপিএফ থেকে লোনঃ ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ ০৪ বার অগ্রিম জিপিএফ থেকে বিনা সুদে লোন নেওয়ার সুযােগ আছে। হ্যা, তবে ৫২ বৎসর পূর্ণ হলে অফেরতযােগ্য অগ্রিম এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নেই।

জিপিএফ থেকে অগ্রিম মঞ্জুরঃ আবেদনকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী জিপিএফ অগ্রিম এর আবেদন করলে ডেলিগেশন ফিন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অগ্রিম মঞ্জুর করে থাকেন।

জিপিএফ অগ্রিম উত্তোলনের নিয়মঃ এই তহবিল থেকে প্রথমে অগ্রিম উত্তোলনের জন্য স্ব-অফিসে আবেদন করতে হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ আবেদনের প্রেক্ষিতে মঞ্জুরী ইস্যু করে জিপিএফ অগ্রিমের বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণ করলে, হিসাবরক্ষণ অফিস ব্যক্তির নির্দিষ্ট জিপিএফ একাউন্টস এর পৃষ্টায় নােট উল্লেখ পূর্বক পরিশােধ করে থাকেন।

জিপিএফ অগ্রিম গৃহিত অর্থ চালানে জমা দেওয়াঃ জিপিএফ এর অগ্রিম বাবদ গৃহিত অর্থ চালানে জমা দেয়া যায় না। তবে, নিজ বেতন হতে কিস্তির মাধ্যমে আদায় করা হয়।

জিপিএফ অগ্রিম উত্তোলন করলে সুদঃ জিপিএফ অগ্রিম উত্তোলন করলে অগ্রিম উত্তোলিত টাকা জিপিএফ স্থিতি হতে সমন্বয় হবে। যে মাসে অগ্রিম উত্তোলন করবে তার পরবর্তী মাসের বেতন বিল হতে উত্তোলিত টাকায় কোন সুদ বা মুনাফা প্রাপ্ত হবেন না কর্মকর্তা বা কর্মচারী।

অগ্রিম উত্তোলিত টাকা কর্তন করলে বিনিয়ােগঃ অগ্রিম উত্তোলিত টাকা কর্তন করলে এটি অবশ্যই
বিনিয়ােগ হিসাবে গণ্য হবে।

জিপিএফ এর স্থিতি কমে যাওয়ার কারণঃ একই সঙ্গে একই হারে চাদা কর্তন করলেও যিনি
অগ্রিম গ্রহণ করেছেন তার স্থিতি কমে যায় কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর হলঃ উত্তোলিত অগ্রিম জিপিএফ স্থিতি হতে বিয়ােগ হয় বিধায় জিপিএফ এর স্থিতি কমে যায়।

জিপিএফ এর টাকা কমানাে বাড়ানােঃ বৎসরের মাঝখানে জিপিএফ এর টাকা কমানাে বাড়ানাে যায় না। হ্যা, তবে বিশেষ প্রেক্ষিতে বৎসরের মাঝখানে জিপিএফ এএ টাকা কম কাটানো যায়।

জিপিএফ চূড়ান্ত টাকা উত্তোলনের সিস্টেমঃ জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে চুড়ান্ত টাকা উত্তোলনের জন্য ৬৬৩ নং ফরম পূরণপূর্বক আবেদনকারী চূড়ান্ত উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ আবেদনের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক চূড়ান্ত উত্তোলনের অথরিটি ইস্যু করার জন্য পত্র জারী করেন। হিসাবরক্ষণ অফিস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমুদয় জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলে জমাকৃত হিসাবের সুদ ও আসল নির্ণয়পূর্বক অথরিটি ইস্যু করেন। উক্ত অথরিটির ভিত্তিতে স্ব-স্ব সরকারি কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত পরিশােধের নিমিত্তে মঞ্জুরীসহ বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করেন। এরপর, হিসাবরক্ষণ অফিস জিপিএফ চূড়ান্ত বিল কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পরিশােধ করে থাকেন।

জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের ব্যালেন্স চেক করার পদ্ধতিঃ

# স্মার্ট ফোন বা এন্ড্রয়েড মোবাইল দিয়েই চেক করা যাবে। এক্ষেত্রে EFT তে যাঁদের বেতন হয় শুধুমাত্র তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য।

নিজে নিজে জিপিএফ চেক করার ধাপ সমুহঃ
১। যে কোন ব্রাউজার ওপেন করে এ্যাড্রেস বারে নিচের ঠিকানা লিখে সার্চ দিতে হবে। ঠিকানাটি হল cafopfm.gov.bd

২। এরপর, ঈফে নিচে Click Here লেখাতে
ক্লিক করব। GPF Information To get GPF
Information please dick on the following button Click here এ।

৩। এরপর, GPF information এ Please insert your 17-Digit NID or 10-Digit Smart ID লেখা আসলে শুরুতে জন্ম সাল দিয়ে NID নম্বর লিখব।

তারপর, number and Registered phone number for EFT আসলে সেখানে ইএফটিতে দেওয়া ফোন নাম্বার লিখতে হবে।
এরপর, fiscal year এর ঘরে ২০২০-২১ সাবমিট করে submit নিচে লেখার উপর চাপ দিতে হবে।

৪। এরপর, employee verification ঘর আসলে সেই ঘরে মোবাইলের ম্যাসেজে পাঠানো ৪ সংখ্যার opt নাম্বার লিখতে হবে।

৫। এরপর আপনার জিপিএফ একাউন্টে কত আছে তা আপনি বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন।

উল্লেখ্য, প্রথম ধাপের পরে gpf লেখা আসলে সেখানে চাপ দিয়ে তার পর বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামের উপর চাপ দিতে হবে। ছবিতে সংক্ষেপে ধাপ গুলো দেওয়া হল।

ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন