যে কারণে শিক্ষার্থী ক্লাসে ‘অনুপস্থিত’ থাকলেও অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হবে না

প্রজ্ঞাপন

বিদ্যালয় রিপোর্ট :: প্রায় দেড় বছর পরে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শিক্ষাঙ্গন আবার আগের মত স্বাভাবিক হবে প্রত্যাশা সবার। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী বিশেষ কারণে যদি অনুপস্থিত থাকে। তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না। এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা দেহে কোনো ধরনের উপসর্গের কারণে যদি শিক্ষার্থীরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্লাসে যোগদান করতে না পারে, তাহলে (যথোপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে) তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না।

বিষয়টি নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন ছিলেন। তেমনই কিছু অভিভাবক জানান, স্কুল-কলেজে পর্যায়ক্রমে সশরীরে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচক ভাবে নিচ্ছেন। তবে তারা মনে করেন, এখনও কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। যেমন: মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইন্সটিটিউটের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থীর ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পাতে। ক্যাম্পাস থেকেও সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে যদি স্বাস্থ্যবিধিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা না হয়।

অভিভাবক আরও জানান, সাধারণত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য মাস্ক পরতে চায় না। শিক্ষার্থীদের অনেক দিন পর একে-অন্যের সাথে দেখা হবে, তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করবে ও আড্ডা দেবে।

এবিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ-মাউশির সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, যদি কোনো শিক্ষার্থী তার পরিবারের কোনো সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ক্লাসে আসতে না পারে, সেক্ষেত্রে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

তিনি দেশ-বিদেশে বহুল প্রচলিত দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’কে আরও জানান, কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এই রিপোর্টকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে বলেও জানান সচিব মাহবুব হোসেন।

সরকার ৫ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পর্যায়ে স্কুলে সশরীরে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত জানায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা কর্মীর করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

READ MORE  আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক : যে তিনটি কাজ করতে হবে

এ ছাড়াও, ভাইরাস ধরা পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে এবং তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না।

সেই নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসের শুরুতে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য। কোনো ছাত্র যেন ক্লাসের মাঝখানে বের হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে, তারা যেন যেকোনো ধরনের অসুস্থতার কথা শিগগির অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। এছাড়া  কোনো জরুরি কারণ ছাড়া শ্রেণীকক্ষের বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেন তারা শিগগির এই তথ্যটি প্রধান শিক্ষককে জানান। একইসঙ্গে, শিশুদের বাইরের খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।

এবিষয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় স্কুল খোলার সরকারি পরিকল্পনা ঘোষণা করার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, সরকার স্কুল খোলার পর সার্বিক কোভিড-১৯  সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা সেটার ওপর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হবে। -ডিবি আর আর।

আরো খবরঃ ফের বন্ধ করা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

সর্বোচ্চ সাড়ে তিন ঘন্টার মধ্যে শেষ করতে হবে ক্লাস

যে কারণে এবছর হবে না প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ

শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তিতে সুখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *