স্কুলে ১০ বছর ধরে শিক্ষার্থী নেই অথচ শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন

প্রাথমিক

বিদ্যালয় রিপোর্ট :: ভিন দেশের কোন গল্প নয়, এটা এদেশেই! স্কুল আছে, শিক্ষক আছেন, আছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিল। নেই বিদ্যালয়ের প্রাণ কোন শিক্ষার্থী। সরকারি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নিয়মিত পাচ্ছেন বেতন ও।

আরও খবরঃ বিষয় : প্রাথমিক শিক্ষকদের স্কুল ত্যাগের সময় নির্ধারণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে আইনি নোটিশ

প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ৬৪ জেলায় মেন্টর নিয়োগ

শিক্ষকরদের প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হয়। মাস শেষে নিয়তিম অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বেতন পেয়ে যান। শুধু আসে না কোনো শিক্ষার্থী।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এভাবেই চলছে প্রায় দশ বছর। শিক্ষকদের প্রতিদিন হাজিরা খাতায় এসে স্বাক্ষর করতে হয় মাত্র।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এমন ঘটনা গত দশ বছর ধরে চলতে থাকা বিদ্যালয়টির অবস্থান পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায়। আর বিদ্যালয়টির নাম ১৪৫ নং চর-বাঁশিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সমস্যা কী বিদ্যালয়টির? দশমিনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা জানা, দশমিনা উপজেলায় তেতুঁলিয়া নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা এটি একটি চর। যার নাম বাঁশবাড়িয়া। ধীরে ধীরে নতুন জনবসতী গড়ে ওঠে এখানে।

বিদ্যালয়বিহীন এই চরে শিশুদের শিক্ষার জন্য এই গ্রামে ‘পনের শত’ বিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় এই উপজেলায় ২০১১ সালে চর-বোরহান, চর-শাহ জালাল, চরহাদী ও চর-বাঁশবাড়িয়াসহ ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এরপর ২০১২ সালে চর-বাঁশবাড়িয়ায় দেশের সব চেয়ে বড় বীজবর্ধন খামার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই খামারের জন্য বাংলাদেশ সরকার সব জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে চর-বাঁশবাড়িয়া তখন বসতি শূন্য হয়ে পড়ে।

বর্তমানে এই চরটির অবস্থা হল, বীজবর্ধন খামারে কাজ করতে আসা ১০-১৫টি পরিবার ছাপড়া ঘর তুলে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। কিন্তু এই স্কুলে পড়ার মতো কোন ছেলে-মেয়ে আপাতত নেই।

এখানে উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়টির গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এরপর ২০১৮ সালে এসে উপজেলার ঢনঢনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষককে মৌখিক আদেশ দিয়ে উক্ত চর-বাঁশিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর আরও ৩ জন শিক্ষককে পদায়ন করানোর ফলে এখন মোট ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

READ MORE  এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি টাকা যেভাবে আসবে

জানাগেছে, প্রতিষ্ঠালগ্নে বিদ্যালয়টিতে মোট ২০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খাতাকলমে দেখানো হয়। যদিও মাছ ধরার মৌসুমে তাদের কেউ এই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হত না। বর্তমানে এখানে কোনো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেনা বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এই চরে কোনো জনবসতি গড়ে ওঠারো সম্ভাবনা নেই। এছাড়া নদীপথ হওয়ায় এখানে যাতায়াতেরও কোনো সুব্যবস্থা নেই।

প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থী না থাকলেও আমাদের এই দূর্গম পথে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া-আশা করতে হয়। আমরা সকাল ৬টায় বীজবর্ধন খামারের ট্রলারে নদী পার হয়ে শ্রেণি কার্যক্রম সময় শেষে বিকাল ৩টায় তাদেরই ট্রলারে আবার ফিরে যাই।

দশমিনা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এ বিষয়ে বলেন, আমরা বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী না থাকার বিষয়ে অবগত। বিদ্যালয়টি যাতে অন্যত্রে স্থানান্তর করা হয় সেই মর্মে আমরা উর্ধতনের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করেছি। -ডিবি আর আর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *