২৭শে অক্টোবর, ২০২১ ইং, বুধবার, ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে ক্লাস করা ২১ হাজার শিক্ষক ভাতা পাচ্ছেন

ছবিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিটিআই

বিদ্যালয় রিপোর্ট :: গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের পিটিআইগুলো ও বন্ধ হয়। বন্ধ হয় সশরীরে ক্লাস। এরপর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে (পিটিআই) প্রশিক্ষণ নিয়েও ভাতা পাচ্ছিলেন না ২১ হাজারের বেশি শিক্ষক।

আরও খবরঃ শিক্ষকদের অনলাইন বদলী ও প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত

প্রাথমিক শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ : আপত্তি জানাতে হবে যেভাবে

এবার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ২ দিন ক্লাস

জানাগেছে, গত বছরের জুলাইয়ে প্রশিক্ষণ শুরুর পর করোনার প্রকোপ বাড়লে পিটিআইগুলোতে সরাসরি প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে অনলাইনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। সেই প্রশিক্ষণার্থীদের এ বছর জুনে প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গেলেও তারা ভাতা পাচ্ছিলেন না। এবিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মন্তব্য ছিল, সশরীরে প্রশিক্ষণের বদলে অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় ভাতা আটকে গেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে প্রাথমিকের ডিপিএড কোর্স করা সেই শিক্ষকদের ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবিষয়ে জারি করা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আছমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-পিইডিপির আওতায় পিটিআইগুলোতে ডিপিএড প্রশিক্ষার্থীদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং অনলাইনভিত্তিক ডিপিএড প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য দুই শিফট বিশিষ্ট পিটিআইগুলোতে রাজস্ব খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক মূল বেতনের অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ টাকা প্রদানের জন্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এবিষয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের করোনাকালে প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাকালে তিন মাস সরাসরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদ্যালয়ের সাথে সাথে পিটিআই ও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আমাদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয়। হিসাব নিকাশ করে জানা যায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ ভাতার পরিমাণ ৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ও বেশি।

আরও জানা যায়, ডিপিএড (পিটিআই থেকে) প্রশিক্ষণ চলার সময় প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা এবং কিট অ্যালাউন্স বাবদ এককালীন ১৮ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। কিন্তু গত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রশিক্ষণার্থীরা তিন মাস ক্লাস করার পরপরই কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সরাসরি আর ক্লাস করতে পারেননি। সরাসরি না পারলেও অনলাইনে তাদের নিয়মিত ক্লাস করতে হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি সপ্তাহে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে তা পিটিআইতে সশরীরে যেয়ে জমা দিয়ে আসতে হয়েছে। এসময় অনলাইনে ক্লাস করা এবং নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে পিটিআইয়ে পৌঁছে দিতে হতো বলে পিটিআই কর্তৃপক্ষ তাদের প্রশিক্ষণ ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।

সেই শিক্ষকরাই জানিয়েছেন, এখন অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তি তো দূরে থাক, নিয়মিত ভাতাই পাননি তারা। তারা জানান, ২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন- এই ছয় মাসের ভাতা দেওয়া হলেও গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের ভাতা তারা এখনও পাননি।
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার মান এগিয়ে নিতে অনেক প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক যারা অনেকে ঋণ নিয়েও মোবাইল সেট কিনেছেন তারা জানান, আমাদের ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার স্মার্টফোন, ৫ হাজার টাকার ওয়াইফাই লাইন, ৫০০-হাজার টাকার নেট বিল, সংস্থাপন খরচ বাবদ এক হাজার ৮০০, অ্যাসাইনমেন্ট ৫০০-৬০০, বিজ্ঞান ব্যবহারিক খরচ ২০০, এক্সপ্রেসিভ আর্টের জন্য ২০০, বার্ষিক পরীক্ষার ফরম ফিলআপ বাবদ দুই হাজার ৮০০ টাকা ছাড়াও বার্ষিক পরীক্ষার সময় বাসা ভাড়া ও করোনার জন্য বাড়তি সুরক্ষা খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে তাদের। তারপরও এতদিন ধরে প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে জানতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এর মহাপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, আমরা কিছু জটিলতার কারণে শিক্ষকরা এতদিন প্রশিক্ষণ ভাতা দিতে পারিনি। আমাদের বিধান ছিল সশরীরে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কিন্তু করোনা এসে যাওয়ায় আমরা ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ দিয়েছি। অবশ্যই এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা করে দিয়েছে, করোনাকালে অনলাইনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার করা যাবে। এখন অর্থছাড় দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের। খুব শিগগির অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহন করা শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়ে যাবেন। -ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন