৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং, বুধবার, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের আদেশ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

দৈনিক বিদ্যালয় প্রতিবেদন :: দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১০ ও ২০১২ সনে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে সৃষ্ট বেতন বৈষম্য নিরসন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাদের সৃষ্ট বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে এ বিষয়ে করা শিক্ষকদের রিট আবেদনটি দেড় মাস বা ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আদেশ দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ২৪ অক্টোবর, রোববার প্রাথমিক শিক্ষকদের করা একটি রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এমন আদেশ দেন বিচারপতিদের যৌথ বেঞ্চ থেকে এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

যাতে রিটকারী শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট বিপুল।
আদালতের এমন আদেশ প্রদানের পরে রিটকারীদের আইনজীবী জানান, এই পিটিশনটির শুনানি শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ২০১০ এবং ২০১২ সনে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষদের মধ্যে সৃষ্ট বেতন বৈষম্যে দূর করা সংক্রান্ত রিটকারীদের আবেদন আগামী দেড় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এখানে উল্লেখ্য যে, এই রিটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সচিব অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ ৫ জনকে বিবাদী করা হয়।

ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া আরও জানান, গত ২০১০ সনে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ও ২০১২ সনে ৩০ জুনের আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের থেকে কম বেতন নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২০১০ এবং ২০১২ সনের নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষদের মধ্যে সৃষ্ট বেতন বৈষম্যে দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করলেও এই বেতন বৈষম্য নিরসনে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এখানে উল্লেখ্য, সর্বশেষ ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুসারে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে কর্মরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন স্কেল হল ১৩ হাজার ৫০ টাকা এবং ২০১২ সনের ৩০ জুনের আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩ হাজার ৭১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঠিক একারণেই প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যর শিকার হয়ে থাকেন। এই বৈষম্য নিরসনে লক্ষ্যেই আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ ও ১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন বৈষম্য নিরসনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে আদালত।

এছাড়া এখানে আরেকটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান প্রাথমিক শিক্ষকদের সর্বশেষ ঘোষিত পে-স্কেলে চরম বৈষম্য দৃশ্যমান হয়। অন্যান্য সরকারি কর্মচারী ও প্রধান শিক্ষকদের তুলনায় অনেক বেশি কম বেতন পান প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। যা নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে কিন্তু ফল পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। -ডিবি আর আর।

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন