কওমি মাদরাসা বৃদ্ধি চরমে : ছাত্র ধরে রাখা দায় প্রাথমিকে

মাদ্রাসা

দৈনিক বিদ্যালয় নিউজ ডেস্ক :: করোয় প্রায় দেড় বছরকাল দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিস্ফোরক মাত্রায় বেড়ে গেছে কউমি মাদ্রাসার সংখ্যা। এসময় দেশের সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ ছিল, অথচ কওমি মাদরাসা খোলা থাকায় শিশু ভর্তি ও মাদ্রাসার সংখ্যা অতি মাত্রায় বৃদ্ধি ঘটেছে।

এছাড়া করোনায় ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায়, তাদের সন্তানদের নিকটবর্তী কওমি মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন ও করাচ্ছেন। এমনই অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষকরা সহ সংশ্লিষ্টদের। এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে গত ২৩ জানুয়ারি, রবিবার জাতীয় সংসদে দেয়া শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, এমপির এক তথ্যে উপস্থাপন থেকে। 

তিনি সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জানান, বর্তমানে দেশে ১৯ হাজার ১৯৯টি কওমি মাদরাসা রয়েছে। অথচ ব্যানবেইসের তথ্য মতে ২০১৫ সালে এই কওমি মাদরাসার সংখ্যা ছিলো ১৩ হাজার ৯০২টি এবং এখানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো প্রায় ১৪ লাখ। এছাড়া ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে কওমি মাদরাসা সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ২৫০টি।

যদিও গত ২৩ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর লিখিত উত্তরে মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। 

দীপু মনি সংসদকে আরো জানান, দেশের কওমি মাদরাসা সমুহকে একটি বোর্ডের অধীনে নিয়ে আসা প্রয়োজন। এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য নিবন্ধন করানো ও জরুরি।তিনি বলেন, এসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং ৬টি পৃথক বোর্ডকে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে আসার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনে ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস বা তাকমিল এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি বা ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি সমমান প্রদান বিল ও  ২০১৮ পাস করানো হয়।

READ MORE  এবার কওমি মাদরাসা সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার নির্দেশনা

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমুহে দাবি করে আসছেন যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় কউমি মাদ্রাসা ও কিছু কিছু কিন্ডারগার্টেনের কার্যক্রম চালু থাকায়,  তাদের পক্ষে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ধরে রাখা কষ্টের হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

আরও পড়ুন: বিএড কলেজে ভর্তি চলছে : ভর্তি হতে পারেন যে ১৭ টি কলেজে : নাম ঠিকানা সহ

৬ মাসের উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে, দ্রুত তুলতে হবে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

দৈনিক শিক্ষা ও চাকরি বিষয়ক নিউজের জন্য নিয়মিত সার্চ করুন ‘দৈনিক বিদ্যালয়.কম। গুগল থেকে দৈনিক বিদ্যালয় অথবা dainikbidyaloy.com লিখে সার্চ করুন। শিক্ষা ও চাকুরির খবরে আপডেট থাকুন।

দৈনিক বিদ্যালয় : আর আর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *