প্রাথমিক শিক্ষকের আত্মহত্যার ঘোষণা

প্রাথমিক

দৈনিক বিদ্যালয় নিউজ : পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় অবস্থিত ভদ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (আনুঃ ৩৫) বিরুপ কর্মপরিবেশের কারণে আত্মহত্যা করবেন বলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

গত কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষক এ ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার বিষয়টি সকলের কানাকানি হয়। ওই শিক্ষক দাবি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্যর মানসিক নির্যাতনে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে এমন ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খাঁন বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানাগেছে।

বিষয়টি জানতে চাইলে একজন সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি ৫ বছর আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ভদ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান। ওই স্কুলের যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার সাথে বিরুপ আচরণ করে আসছে। এর সাথে যোগ দেন প্রধান শিক্ষকের বন্ধু ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম।

নির্যাতিত সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার বিকেলে আবেগঘন কণ্ঠে জানিয়েছেন, তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএমসি সদস্য মিলে তার ওপর প্রতিদিন মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তারা পাঠ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও তিনি যখন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তখনও ওই দুজন তাকে কটাক্ষ করে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, তিনি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে যান, এরপরও তাকে অপমান করা হয়। একজন মানুষ যতটুকু অতিষ্ঠ হলে আত্মহত্যা করতে চান তার অবস্থা এখন তেমন পর্যায়ে। তাকে বদলি করে দেয়া হলেও অন্তত: তিনি প্রাণে বাঁচবেন জানান শিক্ষক।

ভদ্রপাড়ার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও জাহিদুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দুজনই একই ভদ্রপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তাদের এই বিরোধের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে কাজ হয়নি। ধারাবাহিকভাবে ওই শিক্ষককে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। তবে শিক্ষক জাহাঙ্গীর কখনও প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক আরও চড়াও হয়েছেন।

READ MORE  ১০ম গ্রেডে বেতন ও গেজেটেড হতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পক্ষে চুড়ান্ত রায়

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের ইন্ধনে ম্যানেজিং কমিটি সদস্য জাহিদুল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়েও তার সামনে দাঁড়িয়েছেন। এমন অবস্থায় তিনি গত কয়েকদিন আগে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে বলেছেন তার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই।

তবে এতদিন তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন না হলেও এবারে ওই শিক্ষকের আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়ার পর বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়া ভাঙ্গুড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ ও আবেগময় ঘোষণা জানার পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকের সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করা হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সাথেও বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলছেন।

-ডিবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *