৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, বুধবার, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রাথমিক ও জুনিয়রবৃত্তির খবর : হতাশায় দেড়লাখ শিক্ষার্থী

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

দেশে ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা পিইসি পরীক্ষা ও ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট-জেএসসি পরীক্ষা চালুর পর পুরনো পদ্ধতির বৃত্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বলা হয় ওই পরীক্ষা দু’টোতে সবাই অংশ গ্রহন করতে পারতো না। তাই নতুনভাবে চালু করা পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতেই শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু গত দুই বছর পিইসি ও জেএসসি এবং সমমানের পরীক্ষাগুলো হয়নি। এছাড়া এ বছরই সরকার ঘোষণা করেছে, এ দুই পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক ও জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তি। এবং এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ মেধাবী শিক্ষার্থী।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী বছর পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং সেই নতুন শিক্ষাক্রমে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা রাখা হয়নি। যেকারণে আগামীতে এ দুই পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আর নেই। সেজন্য পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়ার সুযোগও আর থাকছে না। এছাড়া এই শিক্ষাবৃত্তি বন্ধের পর প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রস্তাব কী, তা জানা যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহিবুর রহমান বলেন, ‘পূর্বের দুই বছরের মতো এ বছরও পিইসি হবে না। নতুন শিক্ষাক্রমেও পিইসি পরীক্ষা নেই। কিন্তু বৃত্তিবিষয়ক পরীক্ষা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, সে কথা এখন পর্যন্ত অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয়নি।” তিনি বলেন, আগে তো আমাদের এ বিষয়ক সার্কুলার পেতে হবে। সেটা পেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবব। তিনি আরও বলেন, হয়তো কোনো উপায় বের হয়ে যাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস যেভাবে পালন করতে হবে

এবিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘জুনিয়র পর্যায়ের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব তৈরি হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলো বসে এ ব্যাপারে একটা পদ্ধতি খুঁজে বের করা হবে। তবে নতুন কোনো পরীক্ষার পক্ষে আমি নই। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অ্যাসেসমেন্ট ও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফল দিয়েই জুনিয়র বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় সর্বশেষ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০ লাখের মতো। যার মধ্য থেকে বৃত্তি দেওয়া হতো ১ লাখ ৬০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে। পিইসি ও ইবতেদায়ির ১ লাখ ৫ হাজার এবং জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট বা জেডিসি পরীক্ষার ভিত্তিতে ৫৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হতো। প্রাথমিকের পিইসির শিক্ষার্থীরা তিন বছর এবং জেএসসির বা জেডিসির শিক্ষার্থীরা দুই বছর বৃত্তি পায়।

প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পেত ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী, যারা প্রাথমিক-জুনিয়র বৃত্তিবঞ্চিত দেড় লাখ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ আগস্ট , ২০২২

২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা ও ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা চালুর পর পুরনো পদ্ধতির বৃত্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বলা হয় ওই পরীক্ষা দুটোতে সবাই অংশ নিতে পারতো না। তাই নতুন চালু করা পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতেই বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু গত দুই বছর পিইসি ও জেএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা হয়নি। এ বছরই সরকার ঘোষণা করেছে, এ দুই পরীক্ষা আর হবে না। ফলে বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি। এই ঘোষণার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ মেধাবী শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী বছর পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা রাখা হয়নি। আগামীতে এ দুই পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আর নেই। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়ার সুযোগও আর থাকছে না। বৃত্তি বন্ধের পর প্রায় আড়াই বছর পার হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে নতুন প্রস্তাব কী, তা জানা যায়নি।

জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মুহিবুর রহমান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘আগের দুই বছরের মতো এ বছরও পিইসি হবে না। নতুন শিক্ষাক্রমেও পিইসি পরীক্ষা নেই। কিন্তু বৃত্তিবিষয়ক পরীক্ষা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, সে কথা এখন পর্যন্ত অফিশিয়ালি ডিক্লেয়ার করা হয়নি। আগে তো আমাদের এ বিষয়ক সার্কুলার পেতে হবে। সেটা পেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মতে বৃত্তি নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবব। হয়তো কোনো উপায় বের হবে।’ 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ  বলেন, ‘জুনিয়র বৃত্তি নিয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব তৈরি হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলো বসে এ ব্যাপারে একটা পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে। তবে নতুন কোনো পরীক্ষার পক্ষে আমি নই। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অ্যাসেসমেন্ট ও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফল দিয়েই জুনিয়র বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

জানা যায়, পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় সর্বশেষ অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০ লাখের মতো। বৃত্তি দেওয়া হতো ১ লাখ ৬০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে। পিইসি ও ইবতেদায়ির ১ লাখ ৫ হাজার এবং জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ভিত্তিতে ৫৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হতো। পিইসির শিক্ষার্থীরা তিন বছর এবং জেএসসির বা জেডিসির শিক্ষার্থীরা দুই বছর বৃত্তি পায়।

এছাড়া প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পেত ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী, যারা প্রতি মাসে পেত ৩০০ টাকা। আর সাধারণ বৃত্তি পেত ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী, যারা প্রতি মাসে পেত ২২৫ টাকা। এবং ইবতেদায়ির ৭ হাজার ৫০০ মেধাবৃত্তি এবং ১৫ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেত। তাদের প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সমান। জেএসসিতে ১৪ হাজার ৭০০ মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী মাসে ৪৫০ এবং ৩১ হাজার ৫০০ সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী পেত ৩০০ টাকা করে।

এছাড়া জেডিসিতে ৩ হাজার শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি ও ৬ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেত। তাদের টাকার পরিমাণ ছিল জেএসসির শিক্ষার্থীদের মতই একই। এর বাইরে সব স্তরের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে বছরের শুরুতে এককালীন বই-খাতা কেনার টাকা দেওয়া হতো।

এবিষয়ে ভিকারুননিসা অভিভাবক ফোরামের নেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বৃত্তি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরও বিপদে পড়েছে। যুগ যুগ চলে আসা এ বৃত্তির মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো। তিনি বলেন, শুনেছি এটা আবার চালু হবে।

প্রতি মাসে শিক্ষার্থী পেত ৩০০ টাকা। আর সাধারণ বৃত্তি পেত ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী, যারা মাসিক হিসাবে পেত ২২৫ টাকা। ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৭ হাজার ৫০০ মেধাবৃত্তি এবং ১৫ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেত। তাদের প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের সমান। জেএসসিতে ১৪ হাজার ৭০০ মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী মাসে ৪৫০ এবং ৩১ হাজার ৫০০ সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী পেত ৩০০ টাকা করে। এবং জেডিসিতে ৩ হাজার শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি ও ৬ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেত। তাদের টাকার পরিমাণ ছিল জেএসসির শিক্ষার্থীদের সমান। এছাড়া সব স্তরের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে বছরের শুরুতে এককালীন বই-খাতা কেনার টাকা দেওয়া হতো।

ভিকারুননিসা অভিভাবক ফোরামের নেতা হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘বৃত্তি বন্ধ থাকায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরও বিপদে পড়েছে। যুগ যুগ ধরে চলা এ বৃত্তির মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হতো। শুনেছি এটা আবার চালু হবে।

দৈনিক বিদ্যালয় রিপোর্ট

সংবাদটি শেয়ার করতে এখানে ক্লিক করুন

ফেসবুকে লাইক দিন